ঢাকা, বুধবার, ১১ কার্তিক ১৪২৮, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

চট্টগ্রাম-কলম্বো রুটে ফিডার জাহাজ বাড়ানোসহ একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত বন্দরে

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৫১ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০২১
চট্টগ্রাম-কলম্বো রুটে ফিডার জাহাজ বাড়ানোসহ একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত বন্দরে চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম: নির্ধারিত সময়ে তৈরি পোশাক রফতানির চালান গন্তব্যে পৌঁছাতে চট্টগ্রাম-কলম্বো রুটে ফিডার জাহাজ বাড়ানোসহ একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের সভায়।  

সোমবার (১২ জুলাই) দুপুরে বন্দরের সম্মেলন কক্ষে ‘বিভিন্ন অফডক থেকে রফতানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার শিপমেন্ট দ্রুত ও সহজীকরণ বিষয়ে’ এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহানের সভাপতিত্বে সভায় বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএএ), মেইন লাইন অপারেটর, বিজিএমইএ, বাফাসহ সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।  

বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিমের সঞ্চালনায় সভায় বন্দরের সদস্য (হারবার অ্যান্ড মেরিন) কমডোর মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।  

সভায় জানানো হয়, সিঙ্গাপুর ও কলম্বো বন্দরে কনটেইনার ও জাহাজজট সৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ থেকে রফতানি পণ্যবাহী কনটেইনার মাদারভ্যাসেলে লোড করতে দেরি হচ্ছে। এ দিকে বাংলাদেশ থেকে জাহাজগুলো প্রায় ৩০ শতাংশ অব্যবহৃত স্লট নিয়ে ছেড়ে গেছে এবং বিভিন্ন অফডকে প্রায় ৪২ হাজার ৪১০ টিইইউএস ও চট্টগ্রাম বন্দরের ২ হাজার টিইইউএস খালি কনটেইনার রয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়- যেসব অফডকে স্পেস সংকট রয়েছে সেগুলো থেকে ২০ ফুটের খালি কনটেইনারের কিছু চট্টগ্রাম বন্দরে এবং কিছু অন্য অফডকে সরিয়ে নিতে হবে। বন্দরে থাকা ২০ ফুটের খালি কনটেইনার বন্দর ফোর্সলি শিপমেন্ট করবে। এর ফলে বন্দরে খালি জায়গা তৈরি হবে। ওই জায়গায় যেসব অফডকের জায়গা সংকট তারা তাদের খালি কনটেইনারের একটা অংশ পাঠিয়ে দেবে। ফলে অফডকগুলোর জায়গা সংকট থাকবে না।  

বিএসএএ সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বাংলানিউজকে বলেন, সভায় ফলপ্রসূ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম টু কলম্বো রুটে কনটেইনারবাহী ফিডার জাহাজ চলাচলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিগগির এ রুটে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফিডার জাহাজ নামানো হবে সংকটকালীন সময়ের জন্য। বিজিএমইএ বায়ারদের দ্রুত শিপমেন্ট করতে পারবে এমন শিপিং লাইন নির্বাচনের তাগাদা দেবে। দেশের সবচেয়ে বেশি আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত মায়ের্কস লাইন বাংলাদেশি পোশাক কারখানার চালানের চুক্তিবদ্ধ কনটেইনারগুলো দ্রুত শিপমেন্টের জন্য মাদারভ্যাসেলে স্লট বাড়াবে এবং ফিডার জাহাজ বাড়ানো বা অন্য লাইনের সহায়তা নেবে।  

বাফার সহ-সভাপতি খায়রুল আলম সুজন বাংলানিউজকে বলেন, সভায় জানানো হয়েছে সংকটকালীন এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম-কলম্বো রুটে কোনো প্রতিষ্ঠান কনটেইনার ফিডার ভ্যাসেল নামাতে চাইলে বন্দর অগ্রাধিকার দেবে। বন্দরের মূল জেটিতে প্রয়োজনে ১০টির বেশি কনটেইনার জাহাজ বার্থিং দেওয়া হবে। ইউরোপ-আমেরিকা যায় না এমন (রিজিওনাল কনটেইনার) ৪০ ফুট দীর্ঘ খালি কনটেইনার বন্দর ফোর্স শিপমেন্ট করবে।      

বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, আমরা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমাদের সমস্যা উপলব্ধি করে বন্দর উদ্যোগ নিয়েছে। শিপিং লাইনগুলো যাতে দ্রুত রফতানি পণ্যভর্তি কনটেইনার মাদারভ্যাসেলে তুলে দিতে পারে সে লক্ষ্যে ফিডার ভ্যাসেল বাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। কলম্বো রুটে ফিডার জাহাজ চালুকেও গুরুত্ব দিচ্ছে বন্দর।  

বাংলাদেশ সময়: ২১৪৮ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০২১
এআর/টিসি 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa