ঢাকা, শনিবার, ৭ কার্তিক ১৪২৮, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

যেভাবে উপজেলায় পাঠানো হয় করোনা ভ্যাকসিন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৪৭ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০২১
যেভাবে উপজেলায় পাঠানো হয় করোনা ভ্যাকসিন ছবি: উজ্জ্বল ধর

চট্টগ্রাম: কোল্ডবক্স ভর্তি করোনার ভ্যাকসিন। অনেকটা ‘বাদুরঝোলা’ অবস্থায় বাঁধা সিএনজি অটোরিকশার পেছনে।

গন্তব্যে পৌঁছে দিতে ছুটছেন চালক। নেই কোনো নিরাপত্তা।

সোমবার (১২ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব ভ্যাকসিন পাঠানো হচ্ছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায়।  

জানা যায়, রোববার (১১ জুলাই) করোনা ভ্যাকসিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসার পর সোমবার উপজেলা পর্যায়ে টিকা বিতরণ শুরু করে সিভিল সার্জন কার্যালয়। পটিয়া, আনোয়ারা, মিরসরাই, হাটহাজারী এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে ভ্যাকসিনের চালান পাঠানো হয়।  

দেখা গেছে, সোমবার আনোয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পাঠানো হয় একটি সিএনজি অটোরিকশা। ২টি কোল্ডবক্স বসানো হয়েছে অটোরিকশার ভিতরে এবং পেছনে বেঁধে নেওয়া হয়েছে আরও একটি বক্স। এছাড়া পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স ও হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পিকআপ ভ্যান এসেছে টিকার চালান গ্রহণ করতে।

এভাবে অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভ্যাকসিন নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু জাহেদ মো. সাইফুদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, তাপমাত্রা সহনীয় কোল্ডবক্সের মাধ্যমে করোনার টিকা সাধারণত আনা হয়। আজও (সোমবার) টিকা আনতে হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে। এই অ্যাম্বুলেন্সে করে বক্সগুলো নিয়ে আসা হবে। ঝুঁকিপূর্ণভাবে এসব টিকা আনার সুযোগ নেই।

গত কয়েকদিন আগে চট্টগ্রামে ওষুধের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার হাজারী গলিতে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পাওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এর প্রেক্ষিতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।  

টিকা পরিবহনে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা আছে কিনা জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বাংলানিউজকে বলেন, আমরা কোল্ডবক্সে করে টিকা সরবরাহ করে থাকি। এখন কে কিভাবে টিকা নিয়ে গেলো- সেটা কোনো সমস্যা নয়। শুধু কোল্ডবক্স থাকলেই হবে।  

জানা গেছে, মডার্নার টিকা রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৩০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে। আর মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যাবে ৬ মাস। এ টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণের ৪ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া যাবে। টিকার সংরক্ষণ তাপমাত্রা ১৫ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি ব্যবহারের আগে ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৩০ দিন এবং ৮ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে। অপরদিকে সিনোফার্মের টিকাও সংরক্ষণ করতে হয় ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়।  

বাংলাদেশ সময়: ১৫৪০ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০২১
এমএম/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa