ঢাকা, বুধবার, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৮ জুলাই ২০২১, ১৭ জিলহজ ১৪৪২

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

চট্টগ্রামে ফাঁকা দূরপাল্লার বাস কাউন্টার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২১৮ ঘণ্টা, জুন ২৪, ২০২১
চট্টগ্রামে ফাঁকা দূরপাল্লার বাস কাউন্টার ছবি: সোহেল সরওয়ার

চট্টগ্রাম: আনোয়ারার বাসিন্দা রায়হান মাহমুদ। ক্যান্সার সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে ঢাকা ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে ভর্তি মা।

মাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সারতে চট্টগ্রাম এসেছিলেন ৩ দিন আগে। ফিরে যাওয়ার কথা ছিল বুধবার।
 
কিন্তু নগরের গরীবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকায় বাস কাউন্টারে গিয়ে মিলেনি ঢাকা যাওয়ার কোনো টিকেট। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ঢাকার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ। কিভাবে ঢাকা পৌঁছাবেন এ নিয়ে তার চিন্তার শেষ নেই।

রায়হানের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। তিনি বাংলানিউজকে জানান, কাজের চাপে দেশের খবরাখবর রাখার সুযোগ হয়নি। তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে আবারও মায়ের চিকিৎসার জন্য ঢাকা যেতে হচ্ছে। কিন্তু বাস কাউন্টারে এসে দেখি যান চলাচল বন্ধ। যেহেতু বাস বন্ধ, কষ্ট করে হলেও যেকোনো ভাবে ঢাকা পৌঁছাতে হবে।  

শুধু রায়হান নন, এমন অনেকে এখন ঢাকা যেতে এসে বাধার মুখে পড়ছেন।  

চট্টগ্রাম বাস মালিক সমিতির তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ৩ শতাধিক গাড়ি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে এই রুটে ৭ থেকে ৮ হাজার যাত্রী যাওয়া-আসা করলেও করোনার কারণে তা নেমে দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজারে। কিন্তু সর্বশেষ ঢাকার সঙ্গে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। শুধুমাত্র চট্টগ্রামের সঙ্গে সিলেট, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় অনেকটা অলস সময় পার করছেন দূরপাল্লার বাসের কাউন্টারগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীরা।
 
শ্যামলী বাস কাউন্টারের ম্যানেজার মামুন সর্দার মুন্না বাংলানিউজকে বলেন, সাধারণ সময়ে চট্টগ্রাম থেকে ২০টি গাড়ি ছেড়ে যায়। কিন্তু ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় যাত্রী প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এছাড়া ঢাকা হয়ে অন্যান্য অঞ্চলে যাওয়ার রাস্তাও বন্ধ থাকায় বেশিরভাগ অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ।  

চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহণ মালিক গ্রুপের সভাপতি খোরশেদ আলম বাংলানিউজকে বলেন, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় আমাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বাস না চললেও পরিবহণ শ্রমিকদের বেতন ভাতা পরিশোধ করতে হচ্ছে। প্রতিটি বাস মালিকের একই অবস্থা। করোনায় আমরা কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি।  

তিনি বলেন, করোনায় পরিবহণ সেক্টর অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাড়ির লাইসেন্স নবায়নের সময়সীমা চলতি মাসের ৩০ জুন পর্যন্ত ছিল। সরকারে কাছে দাবি, এই সময়সীমা যেন আরও ছয় মাস বৃদ্ধি করা হয়। পাশাপাশি পরিবহণ সেক্টরকে প্রণোদনার আওতায় আনা হলে ক্ষতিগ্রস্ত সেক্টরটি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
 
বাংলাদেশ সময়: ১২১২ ঘণ্টা, জুন ২৪, ২০২১
এমএম/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa