ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ কার্তিক ১৪২৭, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখতে ইউএনও’র অন্যরকম উদ্যোগ

মিজানুর রহমান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০১১ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০
সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখতে ইউএনও’র অন্যরকম উদ্যোগ সরকারি জায়গা দখলমুক্ত রাখতে গাছের চারা রোপণ করেন ইউএনও রুহুল আমিন

চট্টগ্রাম: হাটহাজারী থানার সামনে মরা ছড়ার উপর একটি বক্স-কালভার্ট নির্মাণ করে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। ক’দিন না যেতেই সদর বাজার সংলগ্ন এই বক্স-কালভার্টের দুই পাশ দখল করে তৈরি করা হয় একাধিক অবৈধ স্থাপনা।

 

দখলদারদের শেষ রক্ষা হয়নি। সরকারি জমি দখল করে গড়ে তোলা এসব অবৈধ স্থাপনা গত বছরের আগস্টে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় উপজেলা প্রশাসন। সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখতে সেখানে লাগানো হয় গাছের চারা। দেওয়া হয় বাঁশের বেড়া।

উপজেলা বাসস্ট্যান্ডের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয় অবৈধ দোকান-পাট। সরকারি জমি দখল করে গড়ে তোলা এসব অবৈধ স্থাপনা থেকে মাসে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন দখলদাররা।

চলতি বছরের জানুয়ারি এবং আগস্টে কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে বাসস্ট্যান্ডের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা এসব অবৈধ দোকান-পাট উচ্ছেদ করে উপজেলা প্রশাসন। ফের সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখতে সেখানে তৈরি করা হয় পাবলিক টয়লেট।

শুধু থানা কিংবা বাসস্ট্যান্ড এলাকা নয়, হাটহাজারীর একাধিক ইউনিয়ন এবং পৌরসভা এলাকা থেকে গত ২ বছরে ১ হাজার ৭০ শতক সরকারি জমি উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। জমি উদ্ধারেই দায়িত্ব শেষ না করে, এসব জমি দখলমুক্ত রাখতে নেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী সব উদ্যোগ।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর হাটহাজারীর ৭টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সরকারি খাস জমি উদ্ধারে একাধিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।  

গাছের চারার পরিচর্যা করেন ইউএনও রুহুল আমিন

এর মধ্যে ধলই ইউনিয়ন থেকে ৫০ শতক, মির্জাপুর ইউনিয়ন থেকে ২৫০ শতক, ফতেপুর ইউনিয়ন থেকে ১২০ শতক, মেঘল ইউনিয়ন থেকে ৫০ শতক, চিকিনদণ্ডী ইউনিয়ন থেকে ৫০ শতক, শিকারপুর ইউনিয়ন থেকে ৮০ শতক, ফরহাদাবাদ ইউনিয়ন থেকে ২০ শতক এবং পৌরসভা এলাকা থেকে ৪৫০ শতক সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়।  

উদ্ধার করা সরকারি জমি ফের যাতে দখল না হয় সেই কারণে এসব জমিতে লাগানো হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ফলদ, বনজ এবং ওষুধি গাছের চারা, প্রায় ১ হাজার তাল গাছ। নির্মাণ করা হয়েছে ৩টি পাবলিক টয়লেট।

ইউএনও মো. রুহুল আমিন বাংলানিউজকে জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারি জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পর দেখি ফের এসব জমি দখলদারদের দখলে চলে যায়। তখন আমরা চিন্তা করি কীভাবে সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, অনেক চিন্তার পর উদ্ধার করা জমি দখলমুক্ত রাখতে আমরা সেখানে গাছের চারা লাগানো শুরু করি। গাছের চারা যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য চারপাশে বাঁশের বেড়া দিই। এসব চারার নিয়মিত পরিচর্যা শুরু করি। গাছগুলো বেড়ে উঠলে সরকারি জমি যেমন আর কেউ দখল করতে পারবে না, তেমনি পরিবেশের উপকার হবে।

ইউএনও বলেন, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গাছের চারা রোপণ বাস্তবসম্মত ছিলো না। এই কারণে আমরা সেখানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করেছি। এতে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব পাবে, তেমনি গণপরিবহনের যাত্রীদের উপকার হবে। কিছু জায়গায় রাস্তা দখল করে গড়ে তোলা স্থাপনা উচ্ছেদ করে রাস্তা চওড়া করেছি। নালা-নর্দমা দখল করে গড়ে তোলা স্থাপনা উচ্ছেদ করে নালা-নর্দমা বড় করেছি।  

‘এসব উদ্যোগের পেছনে আমাদের একটাই লক্ষ্য। সরকারি জমি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে দখলমুক্ত রাখতে একটি দীর্ঘমেয়াদি উপায় খুঁজে বের করা। এবং আমরা সেটি পেরেছি। ’ যোগ করেন ইউএনও মো. রুহুল আমিন।  

বাংলাদেশ সময়: ১০০০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০
এমআর/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa