ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ কার্তিক ১৪২৭, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

সময় এখন লইট্টা মাছের

সোহেল সরওয়ার, সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৯৪৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০
সময় এখন লইট্টা মাছের ছবি: বাংলানিউজ

চট্টগ্রাম: সামুদ্রিক মাছ লইট্টা আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে, জেলেদের জালে ধরা পড়ছে অন্যান্য মাছের সঙ্গে। নগরের নতুন ফিশারী ঘাট এলাকায় প্রতিদিন ভোরে ট্রলার থেকে নামছে খাঁচাভর্তি লইট্টা, পাইকারদের মাধ্যমে সেই মাছ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে দ্রুত।

বাজারে প্রতিকেজি লইট্টা বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। প্রোটিনে ভরপুর এই মাছ হিমোগ্লোবিন তৈরি, পেশির শক্তিবৃদ্ধি, মস্তিষ্কের সক্ষমতা বৃদ্ধি, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি, ইনসমনিয়া কমানো, শক্ত হাড় ও দাঁত তৈরি, পরিপাকে সহায়তা, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি, ত্বক ও ঠোঁটের সুস্বাস্থ্যসহ অনেক স্বাস্থ্যগত উপকারে আসে।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, দামে সস্তা লইট্টা মাছে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। এটি মানুষের শরীরের রক্তনালীগুলোকে পরিষ্কার রেখে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়, হার্টের অতিরিক্ত রক্ত জমাটবাঁধা প্রতিহত করে, রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের লেভেল কমায়, রক্ত-সঞ্চালন বাড়ায়। এছাড়া লইট্টা মাছ আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত রোগীর জন্য  উপকারি। এই মাছের তেল ব্যথানাশক ওষুধ হিসেবেও কাজ করে। লইট্টা মাছ কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

অনেকে লইট্টা শুঁটকিও খেতে পছন্দ করেন। এতে থাকা ক্যালসিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমায়। এই ক্যালসিয়াম পিরিয়ড শুরুর সময়কালে নারীর মানসিক সমস্যা কমায়। যারা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন, তাদের জন্য আয়রনযুক্ত লইট্টা শুঁটকি বেশ কার্যকরী। লইট্টা শুঁটকির প্রোটিন শরীরের টিস্যু গঠনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।

উইকিপিডিয়া মতে, লইট্টাকে লোটে মাছ বা মুম্বাইয়ে লিজার্ড জাতীয় মাছ বলে। এটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘হার্পাধন নিহেরিয়াস’। এজন্য মাছটিকে স্থানবিশেষে অনেকে বলেন ‘নীহারি’ মাছ। ইংরেজিতে বলা হয় ‘বোম্বে ডাক’। এটি বৃটিশদের দেওয়া এই নাম। বৃটিশ আমলে ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে লইট্টা শুঁটকি মালগাড়ি মেইল ট্রেনে বোম্বে আসতো। বৃটিশরা এই লইট্টা শুঁটকির চালানকে বলতো ‘মেইল’ বা ‘ডাক’। সেই থেকে নাম হয় ‘বোম্বে ডাক’। লইট্টা সাধারণত ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বড় হয় এবং সর্বোচ্চ আকার ৪০ সেন্টিমিটার নথিভুক্ত করা হয়েছে।

রসনাবিলাসী বাঙালি বিভিন্নভাবে এই মাছের স্বাদ উপভোগ করেন। এর মধ্যে আছে লইট্টা মাছের ঝুরা, লইট্টা শুঁটকি ভুনা, লইট্টা মাছের কাপ কেক, লইট্টা ভাজি ও লইট্টা মাছের ভুনা। বাকলিয়া এলাকার গৃহিণী সালমা বেগম বাংলানিউজকে জানান, এই মাছের ভুনা তৈরিতে প্রয়োজন হয় ২৫০ গ্রাম লইট্টা মাছ, পেঁয়াজ কুচি সিকি কাপ, তেল সিকি কাপ, টমেটো বাটা আধা কাপ, হলুদ গুঁড়া সিকি চা-চামচ, লাল মরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, কাঁচা মরিচ ফালি ২টি, ধনে গুঁড়া সিকি চা-চামচ, লবণ আধা চা-চামচ, চিনি ১ চা-চামচ, লেবুর রস দেড় চা-চামচ, ভাজা জিরা গুঁড়া আধা চা-চামচ, আদা বাটা দেড় চা-চামচ, রসুন বাটা দেড় চা-চামচ, পেঁয়াজ বাটা ১ টেবিল চামচ।

এরপর মাছ পরিষ্কার করে বেছে ধুয়ে পানি নিংড়ে নিতে হবে। ফ্রাইপ্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি বাদামি করে ভেজে টমেটো বাটা, লাল মরিচের গুঁড়া এবং চিনি দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে। পরে পেঁয়াজ বাটা, আদা ও রসুন বাটা দিয়ে নেড়ে সামান্য পানি দিতে হয়। এবার হলুদ, ধনে গুঁড়া ও লবণ দিয়ে সামান্য পানি দিয়ে কষাতে হবে। তারপর মাছ দিয়ে অল্প নেড়ে জিরা গুঁড়া, লেবুর রস ও কাঁচা মরিচ ফালি দিয়ে আঁচ কমিয়ে ঢেকে দিতে হবে। ২-৩ মিনিট পর ঢাকনা খুলে ফ্রাইপ্যান ঝাঁকিয়ে মাছ ও মসলা মিশিয়ে নিতে হবে। এই মাছ থেকে প্রচুর পানি বের হয় এবং খুবই নরম। তাই না নেড়ে ফ্রাইপ্যান ঝাঁকিয়ে বা হাতল ধরে ঘুরিয়ে নিলে ভালো। এবার ঢেকে দিতে হবে। পানি টেনে ভুনা হয়ে এলে নামিয়ে ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করা যাবে।

বাংলাদেশ সময়: ০৯৩০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০
এসএস/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa