ঢাকা, শনিবার, ৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০ সফর ১৪৪২

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

বিপিসির লো সালফার মেরিন ফুয়েলে ভাবমূর্তি বাড়লো দেশের

আল রাহমান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৯৪১ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০
বিপিসির লো সালফার মেরিন ফুয়েলে ভাবমূর্তি বাড়লো দেশের ফাইল ছবি।

চট্টগ্রাম: আন্তর্জাতিক রুটের সমুদ্রগামী জাহাজের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পরিবেশবান্ধব লো সালফার মেরিন ফুয়েল আমদানি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এর ফলে মেরিটাইম বিশ্বে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলতর হচ্ছে বলে আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, সিঙ্গাপুর ও  কলম্বোর চেয়ে যদি প্রতিযোগিতামূলক দামে আইএমওর নির্দেশিত মানের লো সালফার মেরিন ফুয়েল চট্টগ্রাম বন্দরে পাওয়া যায় তবে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে। এখন দেশি-বিদেশি জাহাজগুলোকে আসার সময় যাওয়ার জ্বালানিও নিয়ে আসতে হচ্ছে। ডিলারদের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরকেও জ্বালানি তেল বাংকারিংয়ের দায়িত্ব দিলে ভালো হতো।  

বাংলাদেশ বাংকার সাপ্লাইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল রাজ্জাক বাংলানিউজকে বলেন, আন্তর্জাতিক রুটের জাহাজ যখন বন্দরে আসে তখন আমাদের মেহমান তারা। তাদের ডিউটি ফ্রি অনেক ধরনের সেবা দিতে হয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাংকারিং বা জ্বালানি তেল সরবরাহ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় রাষ্ট্রায়ত্ত বিপিসি প্রথমবারের মতো লো সালফার (শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ) মেরিন ফুয়েল আমদানি করেছে। এর ফলে জাহাজ মালিক ও স্থানীয় এজেন্ট যখন বিষয়টি জানবে তখন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করবে। এটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আমাদের অর্থনীতিতে।  

বন্দরে খোলা পণ্য চাল, ডাল, গম, স্ক্র্যাপ, কয়লা, চিনি, তেলসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল নিয়ে আসা জাহাজগুলো পণ্য খালাস করে জ্বালানি তেল ভরে দূরের বন্দরে যেতে পারবে পণ্য লোড করতে। এর ফলে জাহাজ কম ভাড়ায় চট্টগ্রাম আসবে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে আমদানি পণ্যের দামে।  

তিনি জানান, ২০০৬-০৭ সালের দিকে জাহাজের জন্য হাই সালফার ফার্নেস অয়েল আমদানি হয়েছিল। যাতে সালফারের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৫।  

চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম আবুল কালাম আজাদ বাংলানিউজকে বলেন, মেরিনারদের অনেকদিনের দাবি ছিল আইএমও স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী লো সালফার মেরিন ফুয়েল বাংকারিং চালু করা। বিপিসি অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশে আসা জাহাজগুলো বিশ্বমানের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি তেল পাবে। যা দেশের ভাবমূর্তি নিঃসন্দেহে উজ্জ্বলতর করবে।  

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রথম চালানের ১৫ হাজার টন লো সালফার মেরিন ফুয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়ে ‘এমটি টিএমএন প্রাইড’। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান সরেজমিন পরিদর্শন করে এ তেল বিপণন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় বিপিসি, পদ্মা, মেঘনা, যমুনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ বাংকার সাপ্লাইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিপিসির একজন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে জানান, ডিলার পর্যায়ে বিপিসি এ মেরিন ফুয়েল বিক্রি করবে প্রতি লিটার ৩০ টাকা। প্রতি চালানে দর পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের মাধ্যমে ১০ জন ডিলার সমুদ্রগামী জাহাজে জ্বালানি তেল সরবরাহ করবে। সেগুলো হচ্ছে- মেসার্স পোর্টল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল (ওটি নিউ শাহ আমানত-১), মেসার্স ফ্রাংক ট্রেড (ওটি সুলতান শাহ), মেসার্স ওশান ফুয়েলস ইন্টারন্যাশনাল (ওটি মিক মাহী), মেসার্স এআর করপোরেশন ( ওটি আতিফা জাহান), মেসার্স  সী মেরিন ফুয়েল সাপ্লায়ার্স অ্যান্ড কোং (ওটি নিউ সী কুইন এক্সেস-১), মেসার্স জিএল শিপিং লাইন্স (ওটি মিক হৃদয়-১), মেসার্স আল নূর করপোরেশন (ওটি কর্ণফুলী ডিলাক্স-৭), মেসার্স ওহাব সী মেরিন সার্ভিসেস কোং-(ওটি মিউচুয়াল এক্সপ্রেস), মেসার্স খিজির (আ.) এন্টারপ্রাইজ (ওটি এসএমএস-১) ও মেসার্স কোস্টাল ক্যারিয়ার্স লিমিটেড (এমটি ইমপ্রেস)।

বাংলাদেশ সময়: ০৯৩৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০
এআর/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa