ঢাকা, বুধবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

গরম মসলার পাইকারি বাজারে ভাটা

76 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৪৮ ঘণ্টা, জুলাই ১৩, ২০২০
গরম মসলার পাইকারি বাজারে ভাটা ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম:  পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে প্রতিবছর তেজিভাব থাকতো গরম মসলার পাইকারি বাজারে। এবার বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাবে ভাটা পড়েছে এলাচ, লং, দারুচিনি, জিরা, কালো মরিচের পাইকারি দামে।

রমজানের ঈদের চেয়েও কম দামে গরম মসলা আশানুরূপ বিক্রি করতে পারছেন না খাতুনগঞ্জের পাইকাররা।

বড় মসলা আমদানিকারক ও পাইকারি বিক্রেতা এবি ট্রেডার্সের অমর কান্তি দাশ বাংলানিউজকে বলেন, এবার কোরবানির ঈদে গরম মসলার দাম বাড়ার সুযোগ নেই।

দেশে পর্যাপ্ত আমদানি, মজুদ ও সরবরাহ আছে।

তিনি জানান, গরম মসলার বাজারে এলাচ হচ্ছে লাক্সারি আইটেম। প্রতিবেশী দেশ ভারতে এলাচের দামের ওপর বাংলাদেশে দাম ওঠানামা করে। আবার কালো মরিচের দাম নির্ভর করে চীনের ওপর।

পাইকারিতে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে এলাচ বিক্রি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আকার, রং, সুবাসের ওপর এলাচের দাম নির্ধারিত হয়। রমজানে এলাচের দাম ছিলো ৩ হাজার টাকার বেশি। অনেক লোকসান প্রতি কেজিতে।

জেএইচ ট্রেডার্সের সৈয়দ মোরশেদুল আলম বাংলানিউজকে জানান, রমজানে ভারতের চিকনজিরা বিক্রি করেছি ৪০০ টাকা, এখন ২৫০ টাকা। গুয়েতেমালার মধ্যম মানের ৩ হাজার ২০০ টাকার এলাচ ২ হাজার ৪০০ টাকায় নেমেছে। জাম্বো হিসেবে পরিচিত বড় দানার এলাচের দামও পড়ে গেছে। ১০৫-১১০ টাকার মিষ্টি জিরা  ৮০-৮৫ টাকা। ৩৯৫ টাকার কালো মরিচ ৩৪০ টাকা। ৭১০ টাকার লবঙ্গ ৬৩০ টাকা। ২৮০ টাকার কিসমিস ২১০ টাকা। ৩২০ টাকার চীনা দারুচিনি ২৫০ টাকা। ভিয়েতনামের দারুচিনি ৩৪৫ টাকা থেকে কমে ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৩ হাজার টাকার জত্রিক ২ হাজার ২০০ টাকায় নেমেছে। ৪৫০ টাকার জায়ফল ৪০৫ টাকা বিক্রি করছি। রমজানের চেয়ে কোরবানির ঈদের বাজারে সব সময় গরম মসলার বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকতো, করোনাকালেই কেবল উল্টো হলো।

আইয়ুব অ্যান্ড ব্রাদার্সের মো. ইকবাল জানান, কোরবান, ঈদে গরম মসলা বেশি বিক্রি হয়। বিয়ে, মেজবান, ওরস আর চাইনিজ হোটেল, সাধারণ হোটেলে সারা বছরই গরম মসলার চাহিদা থাকে। এবার লকডাউনের কারণে সব কিছু বন্ধ ছিলে তিন মাসের বেশি। তাই আমদানিকারক, পাইকারদের টাকা আটকে গেছে। আশানুরূপ বেচাকেনা নেই।

নবী সুপার মার্কেটের মেসার্স ফারুক ট্রেডার্সের ফারুক আহমেদ বাংলানিউজকে জানান, প্রতি কেজি দেশি ধনিয়া ভালো মানের ৭৫-৮০ টাকা, তুলনামূলক কম ভালো ৬৫-৭০ টাকা, ভারতের গোটা হলুদ ৮৭-৮৮ টাকা, দেশি ১০০-১০৫ টাকা, ভারতের লাল মিষ্টি মরিচ ১৬৫ টাকা, তেজি লাল ১৯৫-২০০ টাকা, দেশি পঞ্চগড়ের মরিচ ১৩৫ টাকা, হাটহাজারীর মিষ্টি মরিচ ২৩৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

তৈয়্যবিয়া ট্রেডার্সের মো. বখতেয়ার জানান, দেশি গোটা ধনিয়া মানভেদে ৬০-৮০ টাকা, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ির গোটা হলুদ ১০০ টাকা, ভারতের হলুদ ৯০ টাকা, ভারতের মরিচ ১৭০ টাকা, হাটহাজারীর মরিচ ২৩০ টাকা, পঞ্চগড় ও রায়পুরের মরিচ ১৪০ টাকা, দেশি খোলা বাদাম ৯০ টাকা, সাদা সরিষা ৫৭ টাকা, কালোজিরা ২৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

একজন আড়তদার বাংলানিউজকে বলেন, বড় বড় কোম্পানির মোড়কজাত মসলার কারণে খোলা মসলার বাজার দিন দিন ছোট হচ্ছে। তারপরও কোরবানির ঈদে অবস্থাপন্ন পরিবারগুলো নিজেরা গরম মসলা কিনে ধুয়ে, রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করতো। কিন্তু এবার করোনায় ঘরে ঘরে আর্থিক সংকট, কোরবানির হাটের অনিশ্চয়তা, বন্যাসহ নানা কারণে গরম মসলার বাজার ঠাণ্ডা।
                        
বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৬ ঘণ্টা, জুলাই ১৩, ২০২০
এআর/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa