ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ আগস্ট ২০২০, ২৩ জিলহজ ১৪৪১

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

নিম্ন আয়ের মানুষের মাথায় ঋণের বোঝা

নিউজরুম এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৪১ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০২০
নিম্ন আয়ের মানুষের মাথায় ঋণের বোঝা নিম্ন আয়ের মানুষের মাথায় ঋণের বোঝা

চট্টগ্রাম: নগরের নিম্ন আয়ের মানুষগুলো ক্ষুদ্রঋণ সংস্থার ঋণ নিয়ে এখন আছেন বিপাকে। মাস শেষেই আসছে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ। করোনার কারণে জীবিকা হারিয়ে অনেকে বাধ্য হয়েই নিয়েছিলেন ঋণ। এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হতেই মাথায় চেপে বসেছে সেই ঋণের বোঝা।

যদিও করোনার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)।

গত ২৩ জুন মাইক্রো ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউট একটি প্রজ্ঞাপনে জানায়, কোনো গ্রাহক স্বেচ্ছায় কিস্তি দিতে চাইলে টাকা নিতে বাধা থাকবে না।

তবে এই সময় পর্যন্ত কোনো ঋণ শ্রেণিকরণ, বকেয়া বা খেলাপি দেখানো যাবে না।

কোনো ঋণের শ্রেণি-মান উন্নীত হলে সেটা বিদ্যমান নিয়ামানুযায়ী শ্রেণিকরণ করা যাবে। সংকটকালীন সময়ে মাইক্রো ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউট কর্তৃক ঋণ গ্রহীতাকে কিস্তি পরিশোধে বাধ্য করা যাবে না।

এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামে এনজিওগুলোকে সব ধরনের জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। শুধু দাপ্তরিক কাজের মধ্যেই তাদের কর্মকাণ্ড সীমিত রাখতে বলা হয়েছে। কিন্তু এ আদেশ অমান্য করে বেশ কিছু অখ্যাত ক্ষুদ্রঋণ সংস্থার কর্মীরা ঋণের কিস্তি পরিশোধে গ্রাহককে চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলায় কর্মরত ৬০টি এনজিও’র বাইরে নামে-বেনামে গজিয়ে উঠেছে দুই শতাধিক ঋণদান ও সঞ্চয় সমিতি। এসব সমিতির টার্গেটে থাকেন ফুটপাতের বিক্রেতা, দর্জি, রেস্তোরাঁ কর্মী, সেলুনকর্মী, ক্ষুদে দোকানী ও বস্তিবাসীরা।

স্বল্প সুদে তাদের ঋণ দেওয়ার ফাঁদে ফেলে এসব সমিতি নিয়মিত আদায় করছে ঋণের কিস্তি। কখনও মোবাইল ফোনে, কখনও বাসায় গিয়ে কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছেন মাঠকর্মীরা।

নগরের পতেঙ্গা, ইপিজেড, বন্দর, হালিশহর, বায়েজিদ, লালখান বাজার, বাকলিয়া, চকবাজারসহ বেশ কিছু এলাকায় বিভিন্ন সমিতির ঋণের জালে আটকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

লালখান বাজারের বস্তির বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, প্রায় দুইমাস রাস্তায় রিকশা বের করা যায়নি। স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচজনের সংসার চালাতে ঋণ নিয়েছিলাম ৫ হাজার টাকা। এখন রিকশা চালিয়ে প্রতিমাসে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে কষ্ট হচ্ছে।

হালিশহর এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মায়নুল আজম বলেন, ব্যবসা চালানোর জন্য সমিতি থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। এখন প্রতি সপ্তাহে ৭০০ টাকা কিস্তি দিতে হচ্ছে।

শুধু নগর নয়, উপজেলাগুলোতেও একই চিত্র। গত ১৫ জুন রাউজান পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গ্রামীন ব্যাংকের ফিল্ড অফিসার আবদুল কাদের ঋণ আদায়ের চেষ্টা চালালে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের দরবেশহাট সাওদাগর পাড়ায় গত ৯ জুন জোরপূর্বক কিস্তির টাকা আদায় করার সময় আশা এনজিও’র ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো. কবির আহমদকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে সতর্ক করা হয়।

আনোয়ারায় ছোট-বড় ২৫টি এনজিও’র মাধ্যমে চলছে ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে কিস্তি আদায় কার্যক্রম। সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, বোয়ালখালীতেও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে দরিদ্র গ্রাহকরা হিমশিম খাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৪০ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০২০
এসি/এমআর/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa