bangla news

করোনা প্রতিরোধে চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর দাবি

নিউজ ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০৬-০৪ ১:১৩:৫০ পিএম
লোগো

লোগো

চট্টগ্রাম: বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দেশের জেলাগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। কোটি মানুষের আবাস চট্টগ্রাম জেলায় শুরু থেকে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি প্রকট। মাত্র ১০টি আইসিইউ শয্যা আর ৩৫০টি বেড নিয়ে চলছে পুরো জেলার করোনাভাইরাস রোগীদের সেবা কার্যক্রম।

এ পরিস্থিতিতে করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর দাবি করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি চট্টগ্রাম জেলা শাখা।

সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু হানিফ ও সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌহান এক বিবৃতিতে বলেন, করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার সুযোগের অপ্রতুলতা এবং ফল পেতে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ব্যাহত হচ্ছে আক্রান্তদের চিকিৎসা। এখন পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সে হিসেবে হাসপাতালগুলোতে বিদ্যমান শয্যা সংখ্যা খুবই কম।

পাশাপাশি শুরু থেকেই বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন এমন সন্দেহে অন্য রোগের রোগীদেরও ভর্তি করানো হচ্ছে না। এমন প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষ চিকিৎসার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে এবং সেবা পেতে বিলম্ব হওয়ায় মৃত্যুর ঘটনা প্রতিদিনই বাড়ছে। তাই ক্রমবর্ধমান এই সংক্রমণ থেকে চট্টগ্রামবাসীকে রক্ষা করতে হলে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরী।

বিবৃতিতে বলা হয়, নগরীতে শনাক্ত ও সংক্রমণ ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলো চিহ্নিতকরণ ও জোন হিসেবে ভাগ করতে হবে। ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় প্রতিটি জোনে এক বা একাধিক নমুনা সংগ্রহ বুথ স্থাপন করতে হবে।

দ্রুততম সময়ে শনাক্তকরণ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে হবে। জোনভিত্তিক আইসোলেশন সেন্টার চালু করে উপসর্গ আছে এমন ব্যক্তিদের শুরু থেকেই আইসোলেশন কেন্দ্রগুলোতে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চালুর অপেক্ষায় থাকা আটটি আইসিইউ অবিলম্বে চালু করতে হবে। একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় কোন ধরনের রোগী কোন হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন সেটি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করতে হবে চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে।

কিডনি, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগসহ অন্যান্য রোগে আগে থেকে আক্রান্ত রোগীদের ডায়ালাইসিস ও হৃদরোগের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব এরকম হাসপাতালে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। সেক্ষেত্রে এধরনের রোগীদের জন্য চট্টগ্রামে একমাত্র ভরসাস্থল চট্টগ্রাম মেডি্যোল কলেজ হাসপাতাল। 

করোনা চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি বেরসকারি হাসপাতালগুলোতে বিদ্যমান আইসিইউর মধ্যে কতটি সাধারণ রোগীদের জন্য এবং কতটি কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য ব্যবহার করা হবে তা নির্দিষ্ট করে নিজ নিজ হাসপাতালের ভিতর আলাদা ইউনিট দ্রুত স্থাপন করে সেবা দান শুরু করতে হবে।

ক্রমবর্ধমান রোগীর সংখ্যার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের জন্য শয্যা বৃদ্ধি, আইসিইউ সংখ্যা বৃদ্ধি এবং চট্টগ্রামের সব সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসকদের নিয়ে কিভাবে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা নির্ধারণ করা যায় তা বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ অনুসারে অতিসত্ত্বর ঠিক করতে হবে।

শুধুমাত্র সমন্বিত উদ্যোগের ফলেই চট্টগ্রামে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মৃত্যুর মিছিল আরো দীর্ঘ হবে। মৃত্যুর মিছিল চলতে থাকলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরবর্তী সময়ে এই মানবিক বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের উঠে দাঁড়ানো কঠিন হবে। যার প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিসহ সর্বক্ষেত্রে পড়তে পারে বলেও আশংকা করা হয় বিবৃতিতে।

বাংলাদেশ সময়: ১৩১৩ ঘণ্টা, জুন ০৪, ২০২০
এসি/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   চট্টগ্রাম
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2020-06-04 13:13:50