ঢাকা, বুধবার, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭, ০৮ জুলাই ২০২০, ১৬ জিলকদ ১৪৪১

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

বাঁশখালীতে চেয়ারম্যানের মারধর কাণ্ড

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-২৮-০৫ ০৭:১৮:০৪ পিএম
বাঁশখালীতে চেয়ারম্যানের মারধর কাণ্ড চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী

চট্টগ্রাম: সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান খোলা রাখার দায়ে বেধড়ক পেঠাতে দেখা গেছে।

একই কায়দায় আরও তিনটি দোকানে জিনিসপত্র ভাঙচুর করতে দেখা গেছে ওই ব্যক্তিকে। কয়েকজনকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতেও দেখা গেছে।

ভিডিওতে যিনি মারধর ও ভাঙচুর করছেন দেখা গেছে তিনি হলেন চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী।

গত নির্বাচনে মুজিবুল হক চৌধুরী নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

জানা যায়, চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরীর হামলায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে তিন জন। দোকান ভাঙচুর করেছেন ১০টির মতো।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকেলে চাম্বল বাজারে ভাঙচুর ও মারধর করেন চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী। পরে চাম্বল বাজারের পাশে ইউনিয়ন পরিষদে ফিরে যান তিনি।

ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজ দেখা গেছে, চাম্বল বাজারে খোলা থাকা দোকানে হঠাৎ লাঠি হাতে ভাঙচুর শুরু করেন চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী। এসময় মাস্ক না পরায় একজনকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকেন।

ভাঙচুর, হামলার পাশাপাশি দোকানের জিনিসপত্র নষ্ট করতে দেখা গেছে তাকে। এসময় আকুতি জানিয়েও তার হামলা থেকে বাঁচতে পারেননি কেউ কেউ। ভীত পথচারীরা তার হামলা থেকে বাঁচতে পালাতে দেখা গেছে বাজার থেকে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, বাজারের অধিকাংশ দোকানই বন্ধ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কয়েকটি দোকান রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের দফাদারদেরকে দুইজন মহিলাকে মারধর করতে নির্দেশ দেন তিনি। দফাদাররা তাদের দৌড়ানি দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বাংলানিউজকে বলেন, সবসময় এমন আগ্রাসী মনোভাবে থাকেন চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললেই তাকে মারধর করেন। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় এসব ঘটনায় কেউ বিচারও চাইতে পারেন না।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, আমি কাউকে মারধর করিনি। দোকান খোলা রেখেছে তাই বকাঝকা করেছি। সবসময় দেখি চাম্বল বাজারের বদনাম হয়। আগের দিন রাতে এসেও ইওএনও মহোদয় বাজারে কয়েকজনকে জরিমানা করেছেন।

মারধরের বিষয়টি নজরে আনলে মুজিবুল হক চৌধুরী বলেন, কী জন্য করেছি? মানুষের ভালোর জন্যই তো করেছি।

বাংলাদেশ সময়: ১৯১৭ ঘণ্টা, মে ২৮, ২০২০
এসকে/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa