bangla news

বাড়িতে পুলিশ দেখে আবেগে কাঁদলেন মুক্তিযোদ্ধা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০৪-০৫ ৭:১০:৩৮ পিএম
খাদ্যসামগ্রী নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে উপস্থিত হন পুলিশ কর্মকর্তা

খাদ্যসামগ্রী নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে উপস্থিত হন পুলিশ কর্মকর্তা

চট্টগ্রাম: বয়স ৮০ ছুঁই ছুই মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী হোসাইনের। বাড়িতে খাদ্যসামগ্রীসহ হঠাৎ পুলিশ সদস্যদের দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। আবেগে কেঁদেছেন চুপচাপ।

মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী হোসাইন বসবাস করেন বাকলিয়া থানাধীন ইলিয়াস ব্রাদার্সের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায়। তিনি মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বাকলিয়া থানা কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছেন।

রোববার (৫ এপ্রিল) মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী হোসাইনের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে হাজির হন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (চকবাজার জোন) মুহাম্মদ রাইসুল ইসলাম।

মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী হোসাইন বাংলানিউজকে বলেন, নিজের বাড়িতে হঠাৎ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দেখে অবাক হয়েছি। খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এসেছে সেটি বড় নয়, এসে খোঁজ খবর নিয়েছে সেটাই অনেক কিছু। আমি অসুস্থ মানুষ। আমার কিছু লাগবে কী না জানতে চেয়েছেন উনি। আমি বলেছি- বাবা, এভাবে মানুষের সেবা করে যান।

তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তারা করোনার বর্তমান পরিস্থিতিতে যেভাবে কাজ করছেন তা খবরে দেখে খুব গর্ব হয় আমার। আজ মনে হচ্ছে আমরা যে কারণে মুক্তিযুদ্ধ করেছি তা সফল। পুলিশের এসব সদস্যরা আমাদের যোগ্য উত্তরসুরী। তাদের জন্য মন থেকে দোয়া করি।

বলিরহাট এলাকায় বসবাস করা মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দীন বাংলানিউজকে বলেন, পুলিশ আমার বাড়িতে খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট নিয়ে হাজির হয়েছে। চুপচাপ দিয়ে চলে যেতে চেয়েছে, আমি তাদের ডেকে কথা বলেছি। জানতে পেরেছি শুধু আমাকে একা নয়, এ এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িতেও গোপনে খাদ্য সামগ্রী দিয়ে এসেছেন তারা। পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে অসহায় অবস্থায় থাকা দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষকে খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করে আসছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা। ফোনে পুলিশকে জানালে মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের জন্যও গোপনে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এবার সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমানের নির্দেশে গোপনে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতেও খাদ্য সামগ্রী নিয়ে হাজির হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেরাই মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িতে গিয়ে এসব খাদ্য সামগ্রী দিয়ে আসছেন। তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন।

সিএমপির সহকারী কমিশনার (চকবাজার জোন) মুহাম্মদ রাইসুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সূর্যসন্তান এবং আমি নিজেও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। এই বৈশ্বিক ক্রান্তিকালে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সৈনিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা তা জানার জন্য এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিএমপি কমিশনার স্যার আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় খবর নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বাসা-বাড়িতে যাচ্ছি আমরা।

তিনি বলেন, গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি গিয়ে উনাদের খোঁজখবর নিচ্ছি এবং যাদের প্রয়োজন তাদেরকে খাদ্য সামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছি সম্পূর্ণ গোপনে।

সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, নগরে বসবাস করা অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতার চেষ্টা করছি, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি আমরা। অসচ্ছল ৩৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন তাদের সাধ্যমত সহযোগিতা করছি। বিভিন্ন জোনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও থানার ওসিদের নির্দেশ দিয়েছি তারা যেন নিজেরা গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজখবর নেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৫৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৫, ২০২০
এসকে/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   চট্টগ্রাম সিএমপি
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2020-04-05 19:10:38