ঢাকা, সোমবার, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১০ আগস্ট ২০২০, ১৯ জিলহজ ১৪৪১

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

তিন শিপিং লাইনের রফতানি কনটেইনার জটিলতা ডিপোতে

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২৫৮ ঘণ্টা, মার্চ ১১, ২০২০
তিন শিপিং লাইনের রফতানি কনটেইনার জটিলতা ডিপোতে

চট্টগ্রাম: তিনটি বড় শিপিং লাইনের বিল পরিশোধ সংক্রান্ত জটিলতায় বেসরকারি কনটেইনার ডিপোর (অফডক) মাধ্যমে তৈরি পোশাক রফতানিতে উদ্বেগ বাড়ছে।

বুধবার (১১ মার্চ) সকাল থেকে নির্দিষ্ট কিছু ডিপোতে থাকা মায়ের্সক, গোল্ড স্টার লাইন ও ওরিয়েন্ট ওভারসিজ কনটেইনার লাইনের খালি কনটেইনারে রফতানি পণ্য ভর্তি করার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডার সচিব রুহুল আমিন সিকদারের কাছে জানতে চাইলে বাংলানিউজকে বলেন, তিনটি শিপিং লাইনের সঙ্গে কিছু অফডকের চুক্তি রয়েছে।

জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের  বকেয়া এবং পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্ধিত মাশুলের দাবিতে এ তিনটি শিপিং লাইনের খালি কনটেইনারে আমরা রফতানি পণ্য বোঝাই করা হচ্ছে না। তবে এ তিন শিপিং লাইনের আমদানি পণ্যভর্তি কনটেইনার স্বাভাবিক নিয়মে বন্দর থেকে ডেলিভারি নেওয়া হচ্ছে।     

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বুধবার ১ হাজার ৫৮০ টিইইউ’স রফতানি পণ্যভর্তি কনটেইনার ডিপো থেকে বন্দরে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ৯৫০ টিইইউ’স আমদানি পণ্যভর্তি কনটেইনার বন্দর থেকে ডিপোতে ডেলিভারির জন্য আনা হয়েছে।

তৈরি পোশাক রফতানির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমে ফ্রেইট ফরওয়ার্ডাররা। বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বাংলানিউজকে বলেন, রফতানিকারকদের পণ্য বিশ্বজুড়ে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে থাকে ফ্রেইট ফরওয়ার্ডাররা। একজন ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারের সঙ্গে মেইন লাইন অপারেটরের (এমএলও) বা শিপিং এজেন্টের সঙ্গে বার্ষিক, অর্ধবার্ষিক, ত্রৈমাসিক চুক্তি থাকে। যে এমএলওর মাধ্যমে কম সময়ে, সহজে, নিরাপদে গ্রাহকের হাতে পণ্য পৌঁছানো যায় তার সঙ্গে চুক্তি হবে এটা স্বাভাবিক।  এক্ষেত্রে যে তিনটি শিপিং এজেন্টের সঙ্গে ডিপোগুলোর সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো দেশের অর্ধেকের বেশি রফতানি পণ্য পরিবহন করে। ফলে ডিপোতে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।   

সূত্র জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে বাফা’র সভাপতি কবির আহমেদ বিষয়টি নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএএ) সভাপতি এহসানুল হক চৌধুরী যোগাযোগ করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে। বিএসএএ জরুরি সভা ডেকেছে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)।  

প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি এমএ সালাম বাংলানিউজকে বলেন, আমরা উদ্বিগ্ন। এমনিতে করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে ট্রাভেল ও ব্যবসা দুটোই কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় তিনটি বড় শিপিং লাইন এবং ডিপোর অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে আমাদের জাতীয় রফতানি বাধাগ্রস্ত হবে এটা কষ্টের। আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সংকট সমাধান হোক। সম্প্রতি ডিপোর প্রাইম মুভার চালকদের লাগাতার ধর্মঘটের কারণেও ঝামেলা হয়েছিলো। বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে আমাদের প্রতিটি স্টপেজে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দরকার।   

বাংলাদেশ সময়: ১০৫৫ ঘণ্টা, মার্চ ১১, ২০২০
এআর/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa