ঢাকা, শুক্রবার, ১১ আষাঢ় ১৪২৮, ২৫ জুন ২০২১, ১৪ জিলকদ ১৪৪২

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

লোকসংস্কৃতি হুমকির মুখে: চবি উপাচার্য

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০২০১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২০
লোকসংস্কৃতি হুমকির মুখে: চবি উপাচার্য উৎসবে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা

চট্টগ্রাম: আমাদের লোকসংস্কৃতি আজ হুমকির মুখে। আমাদের লোকায়ত সংস্কৃতি আমাদেরই রক্ষা করতে হবে, কোনোভাবে তার ব্যত্যয় ঘটলে আমাদের অস্তিত্ব চরম সংকটের মুখে পড়বে। নতুন প্রজন্মকে নিজের কৃষ্টি-সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সম্বন্ধে জানতে হবে এবং জাতিগত বিকাশের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সমাজ সমীক্ষা সংঘের ৭ম লোকসংস্কৃতি উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার এসব কথা বলেন। তিনি অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সমাজ গড়ার লড়াইতে  আপসহীন হওয়ার আহ্বান জানান।

‘অস্তিত্বের সন্ধানে, শেকড়ের টানে’ স্লোগানে সমাজ সমীক্ষা সংঘ জেলা শিল্পকলা একাডেমির অনিরুদ্ধ মুক্তমঞ্চে এ উৎসবের আয়োজন করে।

উৎসব প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চুর সভাপতিত্বে অতিথি ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু।

বক্তব্য দেন সমাজ সমীক্ষা সংঘের সভাপতি কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু, নির্বাহী পরিচালক শিহাব চৌধুরী বিপ্লব, উৎসব প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক দেবাশীষ রায়, সদস্যসচিব সাইফুদ্দিন আহমেদ মিনহাজ, চসিক কাউন্সিলর এফ কবির মানিক, এইচএম সোহেল। উৎসব ঘোষণা পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য চিন্ময় দাশ। সঞ্চালনা করেন সমাজ সমীক্ষা সংঘের পরিচালক কল্লোল দাশ।

বক্তব্য দেন চবি উপাচার্যওডিসি অ্যান্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্টের শিল্পীদের উদ্বোধনী নৃত্যের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। আলোচনা সভা শেষে প্রমা অবন্তীর পরিচালনায় লোকনৃত্য পরিবেশন করে দলটি। এরপর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান পরিবেশন করেন শিল্পী জয় সেন হিরো ও ববি মনি, মনোমুগ্ধকর মাইজভাণ্ডারী গান পরিবেশন করেন শিল্পী সৈয়দ মানিক ও তার দল। সবশেষে বাউল গান পরিবেশন করেন আরশিনগর সংগীত একাডেমি ও কুষ্টিয়ার বাউল শিল্পীরা। উৎসবের ১ম দিন উৎসর্গ করা হয় বিশিষ্ট নাট্যকার, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমেদকে।

এর আগে সকাল ৯টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয় শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। প্রধান অতিথি হিসেবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রণব মিত্র চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চসিক কাউন্সিলর এইচএম সোহেল। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রতিযোগিতা উপ-পরিষদের আহ্বায়ক মিঠু কুমার শীল ও সৈকত রুদ্র সেতু।

শনিবার উৎসবের দ্বিতীয় দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠানমালায় থাকবে উখিয়া সাহিত্য কুটিরের পরিবেশনায় হঁলা, বান্দা, ভাইট্টালি, হাইল্ল্যাগীতি, মুরারকূইল্যা ও হালদা ফাডা গান। বিকাল সোয়া ৪টায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। বিশেষ অতিথি থাকবেন সমাজসেবক মো. আজিজুর রহমান। এরপর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে থাকবে সুনামগঞ্জের দেবদাস চৌধূরী ও তুলিকা ঘোষ চৌধূরীর পরিবেশনায় হাছন রাজা, শাহ আব্দুল করিম ও রাধারমণের গান। এরপর থাকবে নান্টু দেবনাথ ও প্রিয়া ভৌমিকের পরিবেশনায় পল্লিগীতি। বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ক্য মন’র পরিচালনায় আদিবাসী নৃত্য পরিবেশনায় থাকছে কক্সবাজারের আরিয়ান রাখাইন শিল্পী গোষ্ঠী। সবশেষে সংগীত দল মাটির গানের পরিবেশনায় থাকবে ভাদু, টুসু, ঝুমুর, নাচনী, লেটো, চটকা, আলকাপ, ফকিরি, মারফতি ও ভাওয়াইয়া গান। উৎসবের দ্বিতীয় দিন উৎসর্গ করা হয়েছে বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী সুবীর নন্দীকে।

বাংলাদেশ সময়: ২০৫১ ঘণ্টা,  ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২০
এআর/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa