ঢাকা, শনিবার, ৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০ সফর ১৪৪২

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

ভারী লাইসেন্সের দাবি, প্রাইম মুভার শ্রমিক কর্মবিরতির ডাক

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭১০ ঘণ্টা, জানুয়ারী ২৭, ২০২০
ভারী লাইসেন্সের দাবি, প্রাইম মুভার শ্রমিক কর্মবিরতির ডাক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. আবু বক্কর ছিদ্দিকী।

চট্টগ্রাম: ২৮২ জন প্রাইম মুভার ট্রেইলার চালকসহ অন্য চালকদের সরাসরি পরীক্ষা নিয়ে ভারী শ্রেণির লাইসেন্স দেওয়ার দাবিতে ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়ন।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) ভোর ৬টা থেকে পরদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত কর্মবিরতি  চলবে।

প্রাইম মুভার ট্রেইলার চালক ও সহযোগীসহ সব পরিবহন শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও ছবিসহ পরিচয়পত্র দেওয়ারও দাবি জানানো হয়।

চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু বক্কর ছিদ্দিকী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিআরটিএ কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন করা চট্টমেট্রো-ঢ-৮১ ক্রমিকে ৪ হাজার, চট্টমেট্রো-ই-৮১ ক্রমিকে ১ হাজার ৬০০, ফেনী, কুষ্টিয়া, ঢাকা, খুলনাসহ অন্যান্য জেলার ২ হাজার ২৫০টি মিলে দেশে ৭ হাজার ৮৫০টি প্রাইম মুভার ট্রেইলার রয়েছে। এ খাতে কর্মরত আছেন ১৫ হাজার ৭৮০ শ্রমিক। এসব গাড়ি চট্টগ্রাম বন্দর কেন্দ্রিক আমদানি-রফতানির কনটেইনার ও মেগা প্রকল্পের ভারী যন্ত্রপাতি ও পণ্য বিভিন্ন বেসরকারি আইসিডি, বড় কারখানায় আনা-নেওয়া করে। প্রাইম মুভার চালকদের ভারী শ্রেণির লাইসেন্স থাকলেও এক তৃতীয়াংশ চালকদের হালকা ও মধ্যম শ্রেণির লাইসেন্স রয়েছে। তারা ৫-৭ বছর, ১০-১২ বছর গাড়ি চালালেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতির কারণে ভারী শ্রেণির লাইসেন্স না পাওয়ায় প্রতিনিয়ত পুলিশি হয়রানি, চাঁদাবাজি ও মামলার শিকার হচ্ছেন।

এর আগে ২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি বিআরটিএ চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে এক সভায় হালকা বা মধ্যম শ্রেণির লাইসেন্সধারী প্রাইম মুভার চালকদের তিন বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে প্রাইম মুভার মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে তালিকা দিলে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ৪৫০ জন চালকের তালিকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৬৮ জনের পরীক্ষা নিয়ে ২০১৯ সালের এপ্রিলে লাইসেন্স দেওয়া হয়। এরপর ২০১৯ সালের আগস্টে ২৮২ জনের লাইসেন্সের জন্য পুনরায় আবেদন করা হয়। সাড়া না মেলায় গত ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী ২৮২ জনকে দ্রুত ভারী শ্রেণির লাইসেন্স দেওয়ার জন্য বিআরটিএ চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু এখনো তাদের পরীক্ষা নিয়ে লাইসেন্স না দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মাইন উদ্দিন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. মুছা, সাধারণ সম্পাদক অলি আহমদ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মছিউদদৌলা, চট্টগ্রাম ট্রাক কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুস সবুর, পরিবহন শ্রমিকনেতা মো. জামাল রশিদ, সেলিম খান, বেলাল হোসেন, আবুল খায়ের, নূর মো. বাদশা, কায়েস চৌধুরী প্রমুখ।

৩০ জানুয়ারির আগে ভারী লাইসেন্স সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন পরিবহন শ্রমিক নেতারা।

এদিকে, বন্দরের কনটেইনার পরিবহনে দ্রুত ও কার্যকর প্রাইম মুভার শ্রমিকদের কর্মবিরতির ডাকে আমদানিকারক, শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১২০৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৭, ২০২০
এআর/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa