bangla news

‘বঙ্গবন্ধু ঠিকই বুঝেছিলেন এ দেশ আমাদের না’

ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০১-১৫ ১১:৩৫:১৪ পিএম
৪র্থ বার্ষিক নাট্যোৎসবে অতিথিরা

৪র্থ বার্ষিক নাট্যোৎসবে অতিথিরা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: ১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধু যখন এদেশের স্ক্রিপ্ট লেখা শুরু করেছিলেন, তখন একদলের স্লোগান ছিলো 'বন্দেমাতরম' আরেকদলের ছিলো 'নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার'। ধর্মের ভিত্তিতে দুটি দেশ হয়ে গিয়েছিলো এ দেশ। বঙ্গবন্ধু তখন ঠিকই বুঝেছিলেন এই দেশ আমাদের না। ৬৯'র ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, যেভাবে ভাষার উপরে আক্রমণ শুরু হয়েছে বঙ্গোপসাগর ছাড়া আর কোথাও এ বাংলা থাকবে না।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) নাট্যকলা বিভাগ আয়োজিত ‘মুক্তির চেতনায় শিল্পীত সৃজন’ ৪র্থ বার্ষিক নাট্যোৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এসব কথা বলেন।

তিন দিনব্যাপী এই নাট্যোৎসবের প্রথমদিন বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চবির মুক্তমঞ্চে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার।

উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চবি নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক কুন্তল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম, বাংলাদেশ ইনিস্টিউট অব থিয়েটার অ্যাক্টিভিটিস'র পরিচালক শিশির দত্ত, কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, চবি কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সেকান্দর চৌধুরী এবং চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীন আখতার। 

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে সফল নাটক রচিত হয়েছিলো ৪৭, ৫২, ৬২, ৬৬, ৬৯ এবং ৭০'র নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। ধাপে ধাপে বঙ্গবন্ধু তার সে নাটক মঞ্চায়ন করেছিলেন দীর্ঘ ২৩ বছরে। সেটা ছিলো এদেশের সবচেয়ে সফল মঞ্চায়ন। 

সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো নাটক। যখন কোনো সংকট সৃষ্টি হয়, তখন নাটক মঞ্চস্থ হয়। সফল নাটকের মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে জাতি জাগ্রত হয়। সকল পাওয়া না পাওয়া ফুটে উঠে নাটক মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে। সংকট সৃষ্টি হলে নাটক মঞ্চায়ন হয়। বঙ্গবন্ধু ঠিকই বুঝেছিলো এ দেশকে মুক্ত করতে হবে। 

সেই বঙ্গবন্ধুকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে আমাদের চোখের সামনেই। আমরা পুতুলের মত দাঁড়িয়ে দেখলাম সে হত্যাকাণ্ড। কিন্তু তাকে রক্ষা করতে পারিনি। জাতির জনক একজন লেখক। তিনি নিজ হাতে লিখেছিলেন কারাগারে রোজনামচা, অসমাপ্ত আত্মজীবনী। ১৭৭২ সালের প্রথম মন্ত্রীপরিষদের অধিবেশনে তিনি রণ সংগীত পাঠ করেছিলেন। যার অলিখিত ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণের একটি। এক কথায় বঙ্গবন্ধু যে নাটকের স্ক্রিপ্ট ১৯৪৮ সালে লেখা শুরু করেছিলেন সে নাটকের সফল মঞ্চায়ন হয়েছে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে।

বিশেষ অতিথি কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, ১৯৭৫ সালের পরে বাংলাদেশের বেশ কিছু জায়গা দখলদারদের হাতে চলে যায়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ও এর মধ্যে একটি। ক্যাস্পাসগুলো দখলদার মুক্ত হয়েছে ঠিক কিন্তু সাংস্কৃতিক চর্চা ও জ্ঞান চর্চা যদি এক সাথে না হয়, তাহলে আবারও ভয়াবহ পরিস্থিতি আসতে পারে। নবীনবরন সহ নিজেদের অনুষ্ঠানগুলোতে ব্যান্ডদল না এনে নিজেদের মধ্যে সাংস্কৃতিক চর্চা করার আহ্বান জানান তিনি। 

উৎসব উদযাপন কমিটির আহবায়ক ও চবির নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক শামীম হাসান সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর নিকট একটি ২০০ আসন বিশিষ্ট অডিটরিয়াম তৈরির প্রস্তাব রাখেন। পাশাপাশি চবির পরিত্যক্ত অডিটোরিয়াম সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

আয়োজিত এ নাট্যোৎসবে 'বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ ও রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্মের ভিত্তিতে ১১টি নাটক প্রদর্শনী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনা থাকবে। উৎসবের প্রথমদিন নাট্যকলা বিভাগের বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শপন ভট্টাচার্যকে এ উৎসবে সম্মাননা জানানো হয়।

বাংলাদেশ সময়: ২৩৩৩ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৫, ২০২০
এমএ/টিসি

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2020-01-15 23:35:14