bangla news

‘হিযবুত সংগঠক’ সিয়াম নিখোঁজ নাকি আত্মগোপনে?

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-১২-০২ ৭:৪৫:১০ পিএম
নিখোঁজ রিদওয়ান আহমেদ সিয়াম। ছবি: সংগৃহীত

নিখোঁজ রিদওয়ান আহমেদ সিয়াম। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম:  কোচিংয়ে যাওয়ার নামে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি রিদওয়ান আহমেদ সিয়াম (১৮) নামে মহসিন কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্র। তার পরিবার চকবাজার থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। কিন্তু জিডি তদন্ত করতে গিয়ে পু্লিশ জানতে পারে নিখোঁজ রিদওয়ান আহমেদ সিয়াম একজন হিযবুত তাহরীর সংগঠক। গত ২৩ নভেম্বর হিযবুত তাহরীরের সদস্যদের নামে কোতোয়ালী থানায় দায়ের হওয়া মামলার ১৮ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি রিদওয়ান আহমেদ সিয়াম।

মামলা দায়েরের পর থেকে রিদওয়ান আহমেদ সিয়ামকে নজরদারিতে রেখেছিল পুলিশ। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টার মধ্যেই পুলিশ জানতে পারে সিয়ামের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি।

তবে পুলিশ মনে করছে, গ্রেফতার এড়াতে সিয়াম আত্মগোপনে চলে গেছেন। হিযবুত তাহরীর সংগঠনে রিদওয়ান আহমেদ সিয়াম যার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন তিনিও গত ২৩ তারিখ থেকে পলাতক রয়েছেন।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) রিদওয়ান আহমেদ সিয়াম নিখোঁজের ঘটনায় চকবাজার থানায় নিখোঁজ ডায়রি (নম্বর: ১৬৬৬) করা হয়। নিখোঁজ ডায়েরি অনুযায়ী- রিদওয়ান আহমেদ সিয়াম চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ এলাকার তোফায়েল আহমেদের ছেলে। রিদওয়ান আহমেদ সিয়াম সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। ২০১৯ সালে নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে রিদওয়ান আহমেদ সিয়াম।

চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রিদওয়ান আহমেদ সিয়াম কোচিং করতে এসে নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে তার বাবা তোফায়েল আহমেদ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছেন। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

২২ নভেম্বর নগরের কোতোয়ালী, চান্দগাঁও ও বায়েজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে হিযবুত তাহরীরের আঞ্চলিক প্রধান আবুল মোহাম্মদ এরশাদুল আলমসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে সংগঠনের ২ লাখ ৮২ হাজার টাকা, হিযবুত তাহরীরের তথ্যসহ দুইটি ল্যাপটপ ও ডিভাইস, একটি মোটর সাইকেল, হিযবুত তাহরীরের প্রচারপত্র, গঠনতন্ত্র, ট্রেনিং ম্যানুয়েল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার অন্য ব্যক্তিরা হলেন- আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ (৩০), মো. ইমতিয়াজ ইসমাইল (২৫), মো. নাছির উদ্দিন চৌধুরী (২২), মোহাম্মদ নাজমুল হুদা (২৭), মো. লোকমান গনি (২৯), মো. করিম (২৭), আব্দুল্লাহ আল মুনিম (২২), কামরুল হাসান প্রকাশ রানা (২০), মো. আরিফুল ইসলাম (২০), মো. আজিম উদ্দিন (৩১), ফারহান বিন ফরিদ প্রকাশ রাফি (২৩), মো. আজিমুল হুদা (২৪), ওয়ালিদ ইবনে নাজিম (১৫) ও মো. সম্রাট (২২)।

এদের মধ্যে হিযবুত তাহরীরের আঞ্চলিক প্রধান আবুল মোহাম্মদ এরশাদুল আলম চট্টগ্রামের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ও কলেজের শিক্ষক। আবুল মোহাম্মদ এরশাদুল আলম বাঁশখালী উপজেলার কালিপুর ইউনিয়নের গুনাগরী এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি বায়েজিদ চক্রেসো কানন আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন।

পুলিশ জানিয়েছে- আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ সাতকানিয়া উপজেলার চর খাগরিয়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি নোভারটিস ফার্মাসিটিক্যালস এর চট্টগ্রাম টেরিটোরি ম্যানেজার। মো. নাছির উদ্দিন চৌধুরী ফাহিম ট্রাভেলস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মকর্তা। মোহাম্মদ নাজমুল হুদা ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা পাস করা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। মো. লোকমান গনি মহসিন কলেজের মাস্টার্সের ছাত্র। মো. আরিফুল ইসলাম চট্টগ্রাম সরকারি মডেল কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং ওয়ালিদ ইবনে নাজিম ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

অভিযানের সময় হিযবুত তাহরীরের আরও দুই সদস্য আফজাল হোসেন আতিক প্রকাশ আকাশ (৩৫) ও তাহমিদ সুফিয়ান (৩৫) পালিয়ে যায় বলে জানায় পুলিশ। আফজাল হোসেন আতিক প্রকাশ আকাশ একটি স্কুলের খণ্ডকালীন শিক্ষক ও তাহমিদ সুফিয়ান একটি ডিজিটাল স্কুলের পরিচালক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতার হওয়া হিযবুত তাহরীরের সদস্যদের কাছ থেকে আরও ১০ জনের নাম পাওয়া যায়। পরে ২৩ নভেম্বর কোতোয়ালী থানায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করে পুলিশ। ওই মামলার এজাহারনামীয় ১৮ নম্বর আসামি রিদওয়ান আহমেদ সিয়াম।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মুহাম্মদ আবদুর রউফ তার কার্যালয়ে বাংলানিউজকে বলেন, রিদওয়ান আহমেদ সিয়াম মামলার এজাহারনামীয় ১৮ নম্বর আসামি। রিদওয়ান আহমেদ সিয়াম পুলিশের নজরদারিতে ছিল।

তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি- ৮ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থা থেকেই হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে রিদওয়ান আহমেদ সিয়াম। জঙ্গিনেতা তাহমিদ সুফিয়ানের মাধ্যমে হিযবুত তাহরীরে যোগদান করে রিদওয়ান আহমেদ সিয়াম। ২২ নভেম্বর অভিযানের পর থেকে পলাতক রয়েছে জঙ্গিনেতা তাহমিদ সুফিয়ান।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, রিদওয়ান আহমেদ সিয়াম হিযবুত তাহরীরের একজন প্রশিক্ষক ছিলেন। নতুন সদস্যদের সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ দিতেন সিয়াম।

হিযবুত তাহরীরের মামলা তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রামে মাঠ পর্যায়ে হিযবুত তাহরীর তিনটি সাংগঠনিক উইংয়ে ভাগ হয়ে কাজ করে। এই তিন উইংয়ের দায়িত্বে রয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, আফজাল হোসেন আতিক প্রকাশ আকাশ ও তাহমিদ সুফিয়ান। তিনটি উইং আবুল মোহাম্মদ এরশাদুল আলমের অধীনে কাজ করতো। নিখোঁজ রিদওয়ান আহমেদ সিয়াম তাহমিদ সুফিয়ানের উইংয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতো।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৩ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০২, ২০১৯
এসকে/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   চট্টগ্রাম
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-12-02 19:45:10