ঢাকা, বুধবার, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৫ আগস্ট ২০২০, ১৪ জিলহজ ১৪৪১

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

ছেলের হাত ধরে যাচ্ছিলেন মা

জমির উদ্দিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-১১-১৭ ০৭:১৭:১৭ পিএম
ছেলের হাত ধরে যাচ্ছিলেন মা নিহত ফারজানার স্বামী ও ছোট ছেলের কান্না।ছবি: সোহেল সরওয়ার

চট্টগ্রাম: দুই ছেলের মধ্যে একজনকে স্কুলে দিয়ে এসেছেন। আরেকজনকে প্রাইভেট শিক্ষকের বাসায় নিয়ে যাচ্ছিলেন মা জুলেখা খানম ফারজানা। পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোড অতিক্রম করার সময় কিছু বুঝার ওঠার আগেই ঘটে দুর্ঘটনা। মা ও ছেলের ওপর দেয়াল ধসে পড়লে ঘটনাস্থলেই তারা মারা যান।

রোববার (১৭ নভেম্বর) সকাল ৯টায় ঘটে যাওয়া ওই দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়। এদের মধ্যে ফারজানা (৩০) ও তার ছেলে আতিকুর রহমানও (৮) রয়েছে।

স্বামী আতাউর রহমান ও দুই সন্তানকে নিয়ে পাথরঘাটা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন ফারজানা। নিহত ছেলে আতিকুর রহমান সেন্ট প্লাসিডস স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো। ছোট ছেলে আতিফুর রহমান (৫) পড়ে নার্সারিতে। ফারজানার স্বামী আতাউর রহমান চট্টগ্রাম আদালতের  আইনজীবী।

নিহত ফারজানার স্বামীর কান্না। ছবি: সোহেল সরওয়ারআতিফুর রহমানের গৃহশিক্ষিকা অ্যালিনা বিশ্বাস বাংলানিউজকে বলেন, ফারজানা ম্যাডাম প্রতিদিন দুই ছেলেকে স্কুলে আনা-নেওয়া করেন। বাসার পাশেই বড় ছেলে আতিকুরকে একজন প্রাইভেট শিক্ষকের বাসায় পড়াতে নিয়ে যেতেন। প্রতিদিনের মতো আজ (রোববার) সকালে আতিফুরকে স্কুলে দিয়ে এসে বড় ছেলে আতিকুর রহমানকে  প্রাইভেট শিক্ষকের বাসায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দুর্ঘটনায় মারা যান মা-ছেলে।

পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. নোমান বাংলানিউজকে বলেন, ছেলের হাত ধরে মা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ দেয়াল ধসে পড়লে অনেকের সঙ্গে তারা দুজনও নিহত হয়। চোখের পলকেই ঘটে গেলো এ দুর্ঘটনা।

নিহত ফারজানার স্বামী ও ছোট ছেলের কান্না। ছবি: সোহেল সরওয়ারনিহতের স্বামী আতাউর রহমানের বন্ধু লোকমান হোসেন জানান, বাসা থেকে ওই প্রাইভেট শিক্ষকের বাসা কাছাকাছি। তাই হেঁটে ছেলেকে নিয়ে শিক্ষকের বাসায় যান ফারজানা। কিন্তু এটাই যে তাদের শেষ যাত্রা হবে- সেটা কে জানতো?

বাংলাদেশ সময়: ১৩৩০ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
জেইউ/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa