bangla news

বন্দরে ঘুষ, অনিয়মসহ ৫২ অভিযোগ দুদকের শুনানিতে

​সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-১১-১২ ৮:১৬:২২ পিএম
বক্তব্য দেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) এএফএম আমিনুল ইসলাম। ছবি: সোহেল সরওয়ার

বক্তব্য দেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) এএফএম আমিনুল ইসলাম। ছবি: সোহেল সরওয়ার

চট্টগ্রাম: দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে ঘুষ, অনিয়ম, হয়রানিসহ ৫২টি অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে দুদকের গণশুনানিতে।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) বন্দরের শহীদ মুন্সী ফজলুর রহমান হলে দুদকের গণশুনানিতে প্রধান অতিথি ছিলেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) এএফএম আমিনুল ইসলাম।

বিজন কুমার খাস্তগীর অভিযোগ করেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে পেপার ভেরিফাই করার সময় রোটেশন লাইন নম্বর ও আমদানিকারকের নাম ঠিক থাকলেও অহেতুক বিন নম্বার দিয়ে ঝামেলা তৈরি করে ২-৩ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়।

ফারুক অভিযোগ করেন বন্দরের ৪ নম্বর গেটের ডিটিএম ফারুক ডকুমেন্টে ত্রুটি আছে বলে ঘুষ দাবি করেন। টাকা ছাড়া কোনো কাজ করতে চান না।

মোহাম্মদ ফয়সালের অভিযোগ, বন্দরের গেট দিয়ে পণ্য বের করার সময় বন্দর সার্জেন্ট ঘুষ দাবি করেন।

নাছির আহমদের অভিযোগ, বিভিন্ন ইয়ার্ডে ক্রেন অপারেটররা পণ্য নামানোর সময় ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দিলে হয়রানি করেন।

মো. মাহবুবুব আলমের অভিযোগ, এক্সামিন করা পণ্য ডেলিভারি নিতে গেলে এএসআই, সিকিউরিটি লোডিং চেকার কর্তৃক ১০০ টাকা চাঁদার বিপরীতে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এএসআই শহীদুল কবির ৯০ হাজার টাকার কমে কাজ হবে না মর্মে জানান।

মাহমুদুল হক অভিযোগ করেন, বন্দরের ভেতরে কনটেইনার লোড করতে হলে চার্জের অতিরিক্ত ফি দিতে হয়।

এ সময় বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ বলেন, আপনি টাকা দিয়ে আমার লোকদের খারাপ করছেন কেন। আপনি টাকা না দিলে কাজ বন্ধ থাকতো। আমি গিয়ে আধঘণ্টার মধ্যে দোষীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতাম।

এ সময় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতা কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু দর্শকসারিতে থেকে দাঁড়িয়ে অভিযোগকারীর পক্ষে অবস্থান নেন।

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, আমি সুনির্দিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ চাই। শাস্তি না দিলে আমার দিকে আঙুল তুলবেন। দুই-একজনকে শাস্তি দিয়ে সিস্টেম ঠিক করা লাগবে। আগে লুঙ্গি পরে বন্দরে ঢুকতেন অনেকে। এখন লুঙ্গিপরা লোক খুঁজে পাবেন না।

দুদক কমিশনার বলেন, দুর্নীতিবাজ কাউকে আমরা কোথাও রাখতে চাই না। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

তিনি শুনানির সময় কিছু অভিযোগ নিষ্পত্তি করেন, কিছু অভিযোগের বিষয়ে বন্দর চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেন।

চন্দন কুমার দে বলেন, এমপিভি গেটে পণ্য ডেলিভারি নিতে গেট সার্জেন্ট ঘুষ দাবি করেন।

তহিদুল ইসলাম বলেন, ইক্যুইপমেন্ট নিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে, টাকা দিলে কাজ হয়, না দিলে কাজ হয় না।

গোলাম মোর্শেদ চন্দন বলেন, বন্দরের অব্যবস্থাপনার অজুহাতে ঢাকাগামী কনটেইনারের কৃত্রিম জট সৃষ্টি করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের পথ খুঁজে নিয়ে আমদানিকারকদের হয়রানি করছেন।

জালাল উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন অজুহাতে কনটেইনার ডেলিভারির সময় অযথা সময়ক্ষেপণ করে সংশ্লিষ্টরা। চাহিদা মতো স্পিড মানি না দিলে ডেলিভারি দ্রুত দেওয়া হয় না।

মো. হেলাল হোসেনের অভিযোগ ছিল-কনটেইনার ডেলিভারির ক্ষেত্রে কিপ ডাউনে বাড়তি বকশিশ না দিলে কালক্ষেপণ করা হয়। আফসার উদ্দিনের অভিযোগও কিপ ডাউন নিয়ে।

সৈয়দ রেজাউল করিমের অভিযোগ, ১২ নম্বর শেডে একটি চালানে লক কাটা ছিল। ২টি ল্যাপটপ পাওয়া যায়নি।

সুমন অভিযোগ করেন, ডিটিএম ভবনের জসিম ডেলিভারি নিতে গেলে সরকারি রশিদ ছাড়া ২০০-৫০০ টাকা নেন। টাকা ছাড়া তিনি কোনো কাজ করেন না।

গোলাম কবির বলেন, ডেলিভারি পয়েন্টে সিকিউরিটির দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মচারীরা চাঁদা ছাড়া কোনো কাজ করেন না।  

দুদকের ১৩৭তম গণশুনানিতে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. নুরুল আলম নিজামীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ।

>> দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর হতে হবে: দুদক কমিশনার

বাংলাদেশ সময়: ২০১০ ঘণ্টা, নভেম্বর ১২, ২০১৯
এআর/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   চট্টগ্রাম বন্দর
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-11-12 20:16:22