bangla news

দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর হতে হবে: দুদক কমিশনার

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-১১-১২ ১০:৫৭:৫১ এএম
বক্তব্য দেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) এএফএম আমিনুল ইসলাম

বক্তব্য দেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) এএফএম আমিনুল ইসলাম

চট্টগ্রাম: দেশে যেখানে অনিয়ম, দুর্নীতি সেখানেই প্রতিরোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে আরও কঠোর হতে হবে। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) বন্দরের শহীদ মুন্সী ফজলুর রহমান হলে দুদকের গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুদক কমিশনার (তদন্ত) এএফএম আমিনুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য মাঠ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান, অফিস কেমন চলছে, সেবাগ্রহীতারা কেমন সার্ভিস পাচ্ছেন- তা জানা। অনেক সময় প্রতিষ্ঠানে কী অনিয়ম হচ্ছে তা প্রতিষ্ঠানের প্রধান জানেনও না। গণশুনানি দুর্নীতির পথ টিহ্নিত করে দেয়।

কমিশনার বলেন, নাগরিকরা এ দেশের মালিক। ২০০৭ সালে দুদক কার্যকর হয়েছে। দুইটি বিষয় দেখে দুদক। একটি প্রতিরোধ, অন্যটি প্রতিকারমূলক। আমরা যে মামলা করি তার ৭৩ শতাংশ শাস্তি নিশ্চিত করতে পারছি। এ হার শতভাগে নিতে চাই।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ৫ হাজার স্কুলে সততা স্টোর করেছি, মূল্যবোধ শিক্ষা দিতে। যেখানে কোনো বিক্রেতা নেই। আমাদের সন্তানদের ভালো মানুষ করতে হবে। মানুষকে অত্যাচার করে টাকা কামাইয়ের লক্ষ্য থাকলে হবে না।

দুর্নীতি প্রতিরোধ কার্যক্রম গতিশীল করতে আয়োজিত ১৩৭তম গণশুনানিতে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. নুরুল আলম নিজামী সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং প্রবৃদ্ধি ১২-১৪ শতাংশ। যা জিডিপি প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি। প্রধানমন্ত্রী বন্দরের কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বন্দর অটোমেশন পদ্ধতি বাস্তবায়নে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, বন্দরের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। কমেছে পণ্য পরিবহন খরচ। লয়েডস রেজিস্টারে ৬ ধাপ এগিয়েছে। এটি আইএসপিএস কমপ্লায়েন্স পোর্ট। বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ইয়ার্ডের সম্প্রসারণ হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কনটেইনার হ্যান্ডলিং প্রবৃদ্ধি সামাল দেওয়া। এর জন্য স্টেক হোল্ডারদের সহযোগিতা চাই।

‘জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণশুনানির বিকল্প নেই। সেবাগ্রহীতারা অনেক সময় বঞ্চিত হচ্ছেন। আমরা পরামর্শ পেলে ব্যবস্থা নেব। দেশের বহিঃবাণিজ্য সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে চেষ্টা করছে বন্দর। সরকারের ভিশন ও ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে বন্দর কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর।’

দুদকের চট্টগ্রামের পরিচালক মাহবুব হাসান বলেন, প্রতিষ্ঠার পর প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক কাজ করে আসছে দুদক। গণশুনানি হচ্ছে সেবাগ্রহীতা ও দাতার মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি।

দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম কমু বলেন, স্বাধীন কমিশন দুদক। দুর্নীতি প্রতিরোধের কাজ স্কুল থেকে শুরু করেছি আমরা। আমরা মনে করি দমনের চেয়ে প্রতিকার শ্রেয়। ওষুধ খাওয়ার চেয়ে অসুখ প্রতিকারই ভালো। কাউকে হেয় করার জন্য এ আয়োজন নয়, এটি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার আয়োজন।

তিনি বলেন, বন্দর সক্ষমতার চেয়ে অনেক উপরে নিয়ে গেছে। আরেকটু পরিশ্রম করলে সক্ষমতা আরও বাড়বে। অর্থনীতির গতির চাপ সামলাতে বে টার্মিনালকে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা আমদানি নির্ভর দেশ। ব্যাংকক থেকে চট্টগ্রামে ল্যান্ড করি দুই ঘণ্টায়। কিন্তু বিমানবন্দর থেকে জিইসি যেতে লাগে দুই ঘণ্টা। এটা আশ্চর্যের বিষয়।

বাংলাদেশ সময়: ১০৫৫ ঘণ্টা, নভেম্বর ১২, ২০১৯
এআর/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   চট্টগ্রাম দুদক চট্টগ্রাম বন্দর
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-11-12 10:57:51