ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
bangla news

কিডনিতে পাথর: শেভরনে আছে, এপিকে নেই

সিফায়াত উল্লাহ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৯-১০ ৫:৪৮:০৬ পিএম
শেভরন ও এপিকের রিপোর্ট

শেভরন ও এপিকের রিপোর্ট

চট্টগ্রাম: প্রবাসী আনোয়ার হোসেন ৩০ আগস্ট শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে আলট্রাসনোগ্রাফি করান। রিপোর্টে তার ডান কিডনিতে ৬ দশমিক ৪ এমএম সাইজের পাথুরে বস্তু রয়েছে উল্লেখ করা হয়। ওই রিপোর্ট দেখানোর পর চিকিৎসক পুনরায় আইভিইউ এক্সরে করাতে বলেন।

৩ সেপ্টেম্বর এপিক হেলথ কেয়ারে আইভিইউ করান আনোয়ার হোসেন। তবে এবার রিপোর্ট আসে ভিন্ন, তার কিডনি দুটি নরমাল উল্লেখ করা হয়।

প্রবাসী আনোয়ার হোসেন বলেন, শেভরনের রিপোর্ট হাতে পেয়ে আমি ও আমার পরিবার চিন্তিত হয়ে পড়ি। তখন আমার ছুটি শেষ হয়ে যাচ্ছিল। চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।

‘এরপর দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই, আমাকে চিন্তিত না হয়ে এপিকে আরেকটি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। ওই পরীক্ষার ফলাফলে আমার কিডনিতে পাথর নেই উল্লেখ করা হয়। এরপর আমি স্বাভাবিক হই।’

তিনি আরও বলেন, আমার পিঠে মাঝেমধ্যে ব্যথা হতো। আর তেমন সমস্যা ছিলো না। তবুও চিকিৎসক দেখালে তিনি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন।

‘কিন্তু শেভরনে পরীক্ষার রিপোর্টে আমার কিডনিতে পাথর মেলে। যেটি পরবর্তীতে পরীক্ষায় ভুল প্রমাণিত হয়। এপিকের রিপোর্ট দেখার পর ওই চিকিৎসক বলেন, আপনার কিডনি ভালো আছে। প্রথম পরীক্ষার ফলাফল ভুল ছিলো।’

ভুক্তভোগী প্রবাসী আনোয়ার হোসেনআক্ষেপ করে প্রবাসী আনোয়ার হোসেন বলেন, মানুষ অসুস্থ হলে অসহায় হয়ে পড়ে। এ ধরনের ভুলে একটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমার পরিবার চিন্তিত হয়ে পড়েছিল। আমাদের দেশে অহরহ ভুলের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

তবে এ বিষয়ে শেভরন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার পুলক পারিয়ালকে একাধিকবার ফোন করেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া গেছে।

শেভরন বিরুদ্ধে অভিযোগ বাড়ছে

ডেঙ্গুর প্রকোপের সময় ইনামুল হক ২৭ জুলাই শেভরনে ডেঙ্গু শনাক্তের দুইটি পরীক্ষা করান। এর মধ্যে একটি পরীক্ষার রিপোর্টে ডেঙ্গুর জীবাণু রয়েছে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে একই পরীক্ষা সিএসসিআরের করালে সেখানকার রিপোর্টে ডেঙ্গু নেই উল্লেখ করা হয়।

গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নাজির আহমেদ (৮০) নামে এক বৃদ্ধের মেরুদণ্ডের এমআরআই রিপোর্টে ব্রেন ক্যান্সার ধরা পড়ে শেভরনে। পরে বিষয়টি নিয়ে হট্টগোল হলে শেভরন কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার। এ ছাড়া আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে চিকিৎসাকেন্দ্রটির বিরুদ্ধে। পাশাপাশি অবৈধভাবে লিফট স্থাপনের অভিযোগ রয়েছে শেভরনের বিরুদ্ধে।

সুস্থ মানুষের মৃত্যু হতে পারে

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ প্যাথলজি বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক বাংলানিউজকে জানান, রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষার ওপর নির্ভর করেন চিকিৎসকরা। ফলাফল অনুযায়ী চলে চিকিৎসা।

‘কোনোভাবে ফলাফল যদি ভুল হয়, তাহলে ভুল চিকিৎসা চলবে। এতে রোগী ভুক্তভোগী। ভুল চিকিৎসায় একজন সুস্থ মানুষের মৃত্যু হতে পারে।’

তিনি আরও জানান, নিম্নমানের রোগ নিরূপন সামগ্রী আমদানি হচ্ছে। এসবে রোগ ধরা পড়ছে না। উল্টো ভুল হচ্ছে। তবে এসব বিষয় প্রশাসন তেমন তদারকি করছে না। সিভিল সার্জন কার্যালয় অবগত হলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। তবে ওই চিকিৎসক নাম প্রকাশ করতে চাননি।

সিভিল সার্জনের বক্তব্য

চট্টগ্রামের একাধিক রোগ নিরূপন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত ভুলের রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। তবে সিভিল সার্জন কার্যালয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না, ঘটনার পর তদন্ত কমিটি করে দায় সারছে।

বিষয়টি অবগত করা হলে সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বাংলানিউজকে বলেন, ভুয়া ডাক্তার, ভেজাল ওষুধ, লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসাসহ কিছু বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার অনুমোদন আছে, সেটিও জেলা প্রশাসনের ইচ্ছা অনুযায়ী।

‘তবে ভুল রিপোর্ট এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদফতরে রিপোর্ট পাঠাতে হয়। ব্যবস্থা সেখান থেকে নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে আমাদের কাজ হচ্ছে ঘটনা তদন্ত করা। তাই কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত করতে পারি।’

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯
এসইউ/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   চট্টগ্রাম ভুল চিকিৎসা
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-09-10 17:48:06