ঢাকা, শনিবার, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৫ আগস্ট ২০২০, ২৪ জিলহজ ১৪৪১

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

আগুনে পোড়া লোকটি কাতরাচ্ছে, এগিয়ে এলো শুধু ‘পুলিশ’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০১১ ঘণ্টা, আগস্ট ১৫, ২০১৯
আগুনে পোড়া লোকটি কাতরাচ্ছে, এগিয়ে এলো শুধু ‘পুলিশ’ আগুনে ঝলসে যাওয়া মানুষটিকে বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসেন পুলিশ সদস্য শামসুল আলম

চট্টগ্রাম: নগরের আকর্ষণীয় বিনোদন কেন্দ্র ফয়’স লেকের একটি ক্যাফের সামনে ঝলসানো শরীর নিয়ে কাতরাচ্ছে মানুষটি। কৌতূহলী চোখের অভাব, ভিড়ের কমতি নেই। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো কেউ নেই!

ওই পথে রিকশায় বাজারে যাচ্ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল (৩৭৯৬) মো. শামসুল আলম। জটলা দেখে দ্রুত নেমে এলেন আকবর শাহ থানাধীন ফয়’স লেক তদন্ত কেন্দ্রে দায়িত্বরত এ পুলিশ সদস্য।

একজনকে বললেন, সিএনজি অটোরিকশা ডাকেন। ততক্ষণে আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে কোলে তুলে নিলেন নিজেই। সোজা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখান থেকে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বার্ন ইউনিটে।

বুধবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১০টা ৫ মিনিটের দিকের ঘটনা এটি।

মো. শামসুল আলম বাংলানিউজকে বলেন, আমার প্রাণান্ত চেষ্টা ছিলো যে করেই হোক মানুষটির প্রাণ বাঁচানো। চমেকে ভর্তি করানোর পর চিকিৎসক জানান রোগীর শরীরের ৭০ ভাগ পুড়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠাতে হবে।   

ঝলসে যাওয়া লোকটির নাম মো. মানিক মিয়া (২৯)। তিনি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার পশ্চিম সাবরহাটি গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে। ফয়’স লেকের একটি ক্যাফেতে বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন।

মো. শামসুল আলম জানান, মানিক মিয়া জানিয়েছেন-সকালে ক্যাফের পেছনের দরজা দিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ম্যাচের কাঠি জ্বালাতেই ধপ করে আগুন ধরে যায়। হয়তো গ্যাস লিক হয়ে ঘর ভরে গিয়েছিলো।

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এ পুলিশ সদস্য বলেন, প্রাথমিক ওষুধপত্র বাবদ বাজারের জন্য নিয়ে যাওয়া সাড়ে ৪ হাজার টাকা খরচ করেছি। এরপর তার পরিবারের কাছে, ক্যাফের মালিকের কাছে খবর দিই। তারা উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা করছেন।  

গত ১৬ জানুয়ারিও নগরের জিইসি এলাকায় সন্ত্রাসীদের হাত থেকে এক স্কুলছাত্রকে বাঁচিয়েছিলেন মো. শামসুর আলম।

বাংলাদেশ সময়: ২০০৭ ঘণ্টা, আগস্ট ১৪, ২০১৯
এআর/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa