ঢাকা, সোমবার, ৪ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ আগস্ট ২০১৯
bangla news

চবি ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়ে বিতর্ক

জমির উদ্দিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৭-১৫ ৯:২৪:১১ পিএম
চবি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল।

চবি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল।

চট্টগ্রাম: দুজনই ২০০৬-০৭ সেশনে অনার্সে ভর্তি হন। তারা একসঙ্গে করেন ছাত্রলীগের রাজনীতি। একজন ২০১৩ সালে পাশ করে বের হয়ে এখন যুবলীগের রাজনীতিতে। আর অন্যজন ২০১৯ সালের শেষে এসেও দাবি করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র! তিনি মনোনীত হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি।

শনিবার রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী তার নিজের ফেসবুক ওয়ালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেন। প্রায় ২০ মাস পর হওয়া এ কমিটিতে রেজাউল হক রুবেলকে সভাপতি ও ইকবাল হোসেন টিপুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

রেজাউল হক শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়া মো. ইকবাল হোসেন টিপু সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। আগের কমিটিতে রেজাউল হক সহ-সভাপতি এবং ইকবাল হোসেন টিপু উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

তবে এই কমিটির সভাপতি পদ পাওয়া রেজাউল হক রুবেলকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব ও বয়সসীমা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রেজাউল হক রুবেলকে বন্ধু সম্বোধন করে শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের ফেসবুকে ওয়ালে অভিনন্দন জানান ইঞ্জিনিয়ার এম শামিম খান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বের হয়ে গেছেন ২০১৩ সালে। ২০১৮ সালে যুবলীগের সদস্য হওয়ার পর বর্তমানে তিনি যুবলীগের রাজনীতি করছেন।

এম শামিম খান বাংলানিউজকে বলেন, রেজাউল হক রুবেল আমার বন্ধু। অনেক ত্যাগী ছাত্র নেতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম বর্ষ থেকে আমরা একসঙ্গে রাজনীতি করেছি।

এম শামিম খান নিজের ফেসবুকে তার জন্ম তারিখ লিখেছেন ১৯৮৭ সালের ৪ অক্টোবর। সে হিসেবে সোমবার পর্যন্ত তার বয়স দাঁড়ায় ৩১ বছর ৯ মাস ১১দিন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেজাউল হক রুবেলের সার্টিফিকেট বয়স ৩০ বছর পার হয়েছে। তবে নিজের ফেসবুকে ওয়ালে বয়স গোপন রেখেছেন তিনি। রেজাউল হক নিজের ফেসবুকে তার জন্ম তারিখ লিখেছেন ১৯৮৯ সালের ১৩ অক্টোবর। সে হিসেবে শুক্রবার পর্যন্ত তার বয়স দাঁড়ায় ২৯ বছর ৯ মাস।

গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের

ছাত্রলীগের নেতা হওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৭ বছর বয়সের যে সীমা তা-এক বছর বাড়িয়ে ২৮ বছর করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৮ সালের ১১ মে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনে তিনি এ বয়স বাড়ান। তাই এখন ছাত্রলীগের নেতা হওয়ার সর্বোচ্চ বয়সসীমা হয় ২৮ বছর।

রেজাউল হকের সেই বয়সসীমাও পার হয়ে গেছে। তাই তাকে সভাপতি মনোনীত করায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্বও শেষ সভাপতির

শুধু ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার ক্ষেত্রে বয়স পার করেননি রেজাউল হক রুবেল, তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্বও নেই। রেজাউল হক রুবেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে ২০০৬-০৭ সেশনে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী ৬ বছরের মধ্যে স্নাতক ও ২ বছরের মধ্যে স্নাতকোত্তর শেষ করতে হয়। সে হিসেবে তার ছাত্রত্ব নেই।

পরিসংখ্যান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাং মনিরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, রেজাউল হক রুবেল ২০০৬-০৭ সেশনে ভর্তি হওয়ায় তার ছাত্রত্ব থাকার কথা নয়। অনেক সময় মানোন্নয়ন থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশেষ পরীক্ষার অনুমতি দিয়ে বিভাগকে চিঠি দেয়। কিন্তু গত দেড় বছরে রেজাউল হকের নামে কোনো চিঠি পাইনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের মধ্যে চাপা ক্ষোভ

এই কমিটি নিয়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকে অভিযোগ করেছেন কমিটি গঠনে নেতা–কর্মীদের মতামত নেওয়া হয়নি। তবে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকলেও সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করে একাধিক ছাত্রলীগ কর্মী জানান, সভাপতি ২০০৬-০৭ সেশনের আর সাধারণ সম্পাদক ২০১০-১১ সেশনের, এটি কি করে হয়? বিগত কমিটি নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, এবারও একই অবস্থা বলে মনে করেন তারা।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বক্তব্য

ছাত্রত্ব ও বয়স না থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলকে মনোনীত করার বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বাংলানিউজকে বলেন, আমাদেরকে রেজাউল হক রুবেল বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছে বলেছে। বয়সের ক্ষেত্রে আমরা বিবেচনা করেছি চবি ছাত্রলীগের ২০ মাস আগে ভেঙে যাওয়া কমিটির উপর।

তিনি বলেন, মূলত গ্রুপিং রাজনীতির কারণে আমরা ওই দুজনকে মনোনীত করেছি। নওফেল ভাই ও নাছির ভাই যে দুজনের নাম দিয়েছেন ওই দুজনকেই আমরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করেছি।

জানতে চাইলে রেজাউল হক রুবেল বাংলানিউজকে বলেন, আমার বয়স ও ছাত্রত্ব আছে। আমি ঢাকায়, চট্টগ্রামে আসলে ডকুমেন্টসহ দেখাবো। আমার নেতা মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ভাইয়ের রাজনীতি করি বলে, অপশক্তিরা ষড়যন্ত্র করছে।

চবি ছাত্রলীগের এ শাখার সর্বশেষ কমিটি হয়েছিল ২০১৫ সালের ২০ জুলাই। অর্ন্তকোন্দলের কারণে কমিটি গঠনের সাত মাসের মাথায় স্থগিত করা হয়। তবে পাঁচ মাস পর তা প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু ২০১৭ সালের ৪ মে রাতে সংঘর্ষের পর আবারও এ শাখার কার্যক্রম আবারও স্থগিত করে কেন্দ্রীয় কমিটি। দুই দফায় স্থগিত থাকার পর ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর এ শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে কমিটি ছাড়াই চলছিল এ শাখার কার্যক্রম।

বাংলাদেশ সময়: ২০৩১ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০১৯

জেইউ/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-07-15 21:24:11