bangla news

অমিতের ‘আপত্তি’ সত্ত্বেও রিপনকে সেই কক্ষে স্থানান্তর!

সরওয়ার কামাল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৫-৩১ ১২:০২:১০ এএম
প্রতীকী

প্রতীকী

চট্টগ্রাম: অন্য কক্ষ থেকে অমিতের কক্ষে স্থানান্তর হওয়ার মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মাথায় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে রিপন নাথ। অমিত মুহুরীর আপত্তি সত্ত্বেও রিপন নাথকে ৩২ নম্বর সেলের ৬ নম্বর কক্ষে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশ ও কারাগার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। আর এটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ ধরেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) রিপন নাথকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও মুখ খুলেনি রিপন নাথ। কারাগারে থাকা রিপন নাথকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হবে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার দায়ের হওয়া এ মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগকে।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলানিউজকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রিপন নাথকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু সে মুখ খুলেনি। রিপন নাথ ইয়াবা আসক্ত বলে মনে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বুধবার বিকেলেই ৩২ নম্বর সেলের ১ নম্বর কক্ষ থেকে ৬ নম্বর কক্ষে স্থানান্তর হয় রিপন নাথ। এই কক্ষে আগে থেকেই ছিলো অমিত মুহুরী। স্থানান্তর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ড ঘটে।’

পুলিশ ও কারাগার সূত্র জানায়, ৬ নম্বর কক্ষে অমিত মুহুরী, বেলাল ও দেলোয়ার নামে তিনজন হাজতি বন্দি ছিলো। এদের মধ্যে দেলোয়ার বুধবার জামিনে কারাগার থেকে ছাড়া পায়। জেল কোড অনুযায়ী কোনো কক্ষে দুইজন হাজতি রাখার নিয়ম নেই। তাই বিকেলে ১ নম্বর কক্ষ থেকে রিপন নাথকে ৬ নম্বর কক্ষে স্থানান্তর করে কারাগার কর্তৃপক্ষ।

রিপন নাথকে ৬ নম্বর কক্ষে স্থানান্তর করার সময় ‘আপত্তি’ জানিয়েছিলো অমিত মুহুরী। অমিত বলেছিলো- ওই কক্ষে রিপন ছাড়া যেন অন্য কাউকে দেওয়া হয়। কিন্তু অমিতের আপত্তির সত্ত্বেও রিপন নাথকে ওই কক্ষে স্থানান্তর করা হয়।

তবে অমিত মুহুরী রিপন নাথকে তার কক্ষে দেওয়ার সময় আপত্তি জানানোর বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কামাল হোসেন। রিপন নাথ অসুস্থ হয়ে কারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলো বলে জানান তিনি।

বুধবার সুস্থ হলে তাকে ‘স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়’ ৬ নম্বর কক্ষে স্থানান্তর করা হয় বলে দাবি এ সিনিয়র জেল সুপারের।

জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী অমিত মুহুরী খুনের ঘটনায় এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় বুধবার রাতে দায়িত্বরত দুই কারারক্ষিকে শোকজও করেছে কারাগার কর্তৃপক্ষ।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাশহুদুল কবীরকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তিন কার্যবিদসের ভেতরে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাশহুদুল কবীর কারাগার পরিদর্শন করেন। প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

কারাগারের ভেতর ইট কীভাবে পেল রিপন নাথ?

মাশহুদুল কবীর বাংলানিউজকে বলেন, ‘কারাগারে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রত্যক্ষদর্শী ও কারাগারে দায়িত্বরতদের সঙ্গে কথা বলেছি। রিপন ইট দিয়ে অমিতকে আঘাত করে খুন করেছে বলা হচ্ছে। কারাগারের ভেতরে ইট কীভাবে পেল বন্দি? বিষয়টি তদন্ত হচ্ছে। যাদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের সবার বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করা হবে।’

এদিকে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন জেলার নাশির আহমেদ। মামলায় এজাহারে নাশির আহমেদ উল্লেখ করেন- হাজতি রিপন নাথ অর্ধ ভাঙা একটি ইট দিয়ে অমিত মুহুরীর মাথায় আঘাত করতে থাকে। গুরুতর আহত অমিত মুহুরীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে মারা যায় সে।’

অভিযুক্ত রিপন নাথ সীতাকুণ্ড উপজেলার ফেদা নগর হেমন্ত সরকার বাড়ির নারায়ন নাথের ছেলে। সে পাহাড়তলী থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে বন্দি আছে।

খুনের শিকার অমিত মুহুরী কোতোয়ালী থানার নন্দনকানন গোলাপ সিং লেইনের অরুন মুহুরীর ছেলে।

২০১৭ সালের আগস্টে চট্টগ্রাম নগরের এনায়েতবাজার এলাকার রাণীরদিঘি এলাকায় বন্ধু ইমরানকে খুন করে মরদেহ ড্রামে ভরে দীঘিতে ফেলে দেয় অমিত। ঘটনার পর কুমিল্লায় গিয়ে আত্মগোপনে ছিলো অমিত। সেখান থেকে অমিতকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা আসিফ মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি টিম। গ্রেফতারের পর থেকে কারাগারে ছিলো অমিত মুহুরী।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মেহেদী হাসান বাংলানিউজকে বলেন, মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে জানা যাবে কেন বা কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

কারাগারের সেলের ভেতর কীভাবে ইট কীভাবে গেল সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান এসএম মেহেদী হাসান।

বৃহস্পতিবার একাধিকবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নাশির আহমেদকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

কারাগারের ভেতর বন্দি ইট কীভাবে পেল? এমন প্রশ্নের উত্তরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কামাল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘কারাগারের ভেতরে বিভিন্ন কনস্ট্রাকশনের কাজ হয়, হয়তো সেখান থেকে ইট পেয়েছে রিপন নাথ।’

বাংলাদেশ সময়: ১২০১ ঘণ্টা, মে ৩১, ২০১৯
এসকে/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   চট্টগ্রাম হত্যা পুলিশ
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-05-31 00:02:10