ঢাকা, রবিবার, ৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ আগস্ট ২০১৯
bangla news

আবাসিকে রমরমা বাণিজ্য

সিফায়াত উল্লাহ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৫-২০ ৭:১৯:১৫ পিএম
আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠছে শত শত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ছবি: সোহেল সরওয়ার

আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠছে শত শত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ছবি: সোহেল সরওয়ার

চট্টগ্রাম: সম্প্রতি নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটিতে গিয়ে দেখা যায়, এক নম্বর সড়কের ৩৮/এ-১ নম্বর প্লটের ভবনে চলছে কেয়ারফোর শপিং মলের কার্যক্রম। অথচ মলটির নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা নেই।

তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থিত শপিং মলটির সামনে প্রতিনিয়ত গাড়ী আসছে-যাচ্ছে। ফলে যানজট লাগার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। একই প্লটে চলছে সানশাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সুমাইয়া ড্রাগস ও সোসাইটি শালকরের কার্যক্রম। আবাসিক এলাকাটিতে ১৮টি প্লটে অন্তত ২৫টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

একই চিত্র ওআর নিজাম আবাসিকেও। নগরে জিইসি এলাকায় গড়ে উঠা আবাসিক এলাকাটির এক নম্বর সড়কে চলছে ওয়েল পার্ক রেসিডেন্সের কার্যক্রম। সেটির মালিক চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।

তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার পর আবাসিক থেকে ভবনটির বাণিজ্যিক অনুমোদনও নেন। ওয়েল পার্কের সামনে কার্যক্রম চালাচ্ছে মেডিকেল সেন্টার। ওই দুটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সামনে প্রতিনিয়ত গাড়ির জটলা তৈরি হচ্ছে।

আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠছে শত শত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ছবি: সোহেল সরওয়ারখুলশী আবাসিক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ৪ নম্বর সড়কের ৩৭/সি নম্বর প্লটের ১৫/১ ভবনে চলছে গ্রিন ক্রিসেন্ট ডায়াগনস্টিক মেডিকেল সেন্টারের কার্যক্রম। ওই চিকিৎসা কেন্দ্রের সামনে ছিল সারি সারি গাড়ি।

একই সড়কের ৩৯/সি প্লটের ভবনে রয়েছে বেঙ্গল ফ্যাশনস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অফিস। এ ছাড়া ৩৮/সি তে অফিস-ক্লাব, ৯৮/সি ও ৪১/সি তে রয়েছে রেস্ট হাউজ। আবাসিক এলাকাটিতে কমপক্ষে ১০টি প্লটে একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে।

খুলশী আবাসিকের বাসিন্দা আকমল মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে আসা গাড়ীগুলো সড়কে ওপর দাড়িয়ে থাকে। অনেক সময় যানজটও তৈরি হয়। পাশাপাশি মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

১৯৫২ সালের ইমারত নির্মাণ আইনের ৩–এর ক ধারা অনুযায়ী, যে কাজে ব্যবহারের জন্য ইমারত নির্মাণের অনুমতি নেওয়া হয়েছে, সেটি ব্যতীত অন্য কোনো কাজে ইমারত ব্যবহার করা যাবে না।

কিন্তু আইনের অমান্য করে আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠছে শত শত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে বিড়ম্বনার শিকার আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা। অপরিচিত মানুষের আনাগোনায় বিঘ্নিত হচ্ছে নিরাপত্তা। বাস অযোগ্য হয়ে উঠছে এসব আবাসিক এলাকা।

অথচ সিডিএ সাম্প্রতিককালে আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদে অভিযানও পরিচালনা করেনি। একটি তালিকা করে নোটিশ পাঠিয়ে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে রেখেছে।

সিডিএ অথরাইজড বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নগরে অনুমোদনপ্রাপ্ত আবাসিক এলাকায় রয়েছে ১৮টি।

সিডিএ অথরাইজড অফিস-১ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, পাঁচলাইশ আবাসিকে ৪৫টি, নাসিরবাদে ২৫টি, উত্তর খুলশীতে ২৬টি, চান্দগাঁও আবাসিকে ৫০টি ও কাতালগঞ্জ আবাসিকে ১১টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে।

এদিকে খুলশী ও নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটিতে গড়ে উঠা প্রতিষ্ঠানের তালিকা করে সিডিএতে অভিযোগ দিয়েছে আবাসিক দুটি বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান দি চিটাগং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেড।

সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান স্বাক্ষরিত অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু প্লট মালিক শর্ত ভঙ্গ করে সিডিএ থেকে আবাসিকের অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। ফলে যোগ্যতা হারাচ্ছে আবাসিক এলাকাগুলো। তাই দ্রুত এসব প্রতিষ্ঠান অপসারণে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠছে শত শত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ছবি: সোহেল সরওয়ারজানতে চাইলে পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের নেতা প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বাংলানিউজকে বলেন, সিডিএর মূল কাজের একটি হচ্ছে পরিকল্পিত নগর গড়া। অথচ সে কাজ বাদ দিয়ে সিডিএ উন্নয়নে ঝুঁকে গেছে।

‘আবাসিক এলাকায় শত শত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ফলে যোগ্যতা হারাচ্ছে আবাসিকগুলো। অথচ সিডিএ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। হঠাৎ হঠাৎ অভিযান পরিচালনা করে দায় সারছে।’

তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান তো একদিনে গড়ে উঠেনি। সিডিএ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে এতগুলো প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠা সম্ভব ছিল না।

সিডিএর অথরাইজড কর্মকর্তা-১ মোহাং মনজুর হাসান বাংলানিউজকে বলেন, কয়েক দফা নোটিশ দেয়ার পরেও কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়নি এসব প্রতিষ্ঠান। ঈদের পর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সিডিএ চেয়ারম্যান এম. জহিরুল আলম দোভাষ বাংলানিউজকে বলেন, আইন মেনে চলতে হবে। না মানলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কার্যক্রম বন্ধ করতে এসব প্রতিষ্ঠানকে সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান সেটি মানেনি। তাই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৯১৫ ঘণ্টা, মে ২০, ২০১৯
এসইউ/টিসি

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-05-20 19:19:15