ঢাকা, শনিবার, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
bangla news

পেনিনসুলাকে ফ্লাইওভারের নিচে জায়গা ভাড়া দিচ্ছে সিডিএ

সিফায়াত উল্লাহ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৫-০৫ ১:৩৪:৪১ পিএম
পেনিনসুলাকে ফ্লাইওভারের নিচে জায়গা ভাড়া দিচ্ছে সিডিএ

পেনিনসুলাকে ফ্লাইওভারের নিচে জায়গা ভাড়া দিচ্ছে সিডিএ

চট্টগ্রাম: পার্কিংয়ের জন্য আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের নিচে জায়গা ভাড়া দিচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সংস্থাটির ৪৩৫ তম বোর্ড সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তবে ফ্লাইওভারের নিচে পার্কিংয়ের স্থান তৈরি করা হলে সেখানে যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা নগর পরিকল্পনাবিদসহ সংশ্লিষ্টদের।

সিডিএ সূত্র জানায়, নগরের ব্যস্ততম এলাকা জিইসিতে ফ্লাইওভারটির ২৮ থেকে ২৫ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা হোটেল দি পেনিনসুলাকে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

এর আগে ফ্লাইওভারের নিচে দোকান নির্মাণ করতে গেলে সিডিএ বাধার মুখে পড়ে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, পুলিশসহ সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর বিরোধিতায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সিডিএ। এ ছাড়া হাইকোর্ট দোকান নির্মাণ বন্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

জানা গেছে, যাওয়ার আগে তড়িঘড়ি করে বিশেষ বোর্ড সভা ডেকে পেনিনসুলাকে জায়গা বরাদ্দ দেয়ার প্রস্তাবটি অনুমোদন দেন সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিডিএর একজন বোর্ড সদস্য জানান, ফ্লাইওভারটি মূলত যানজট নিরসনের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে এর সুফল নগরবাসী ভোগ করছেন। মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি, ওয়াসা, লালখানবাজারের যানজট অনেকটা কমে গেছে।

তিনি আরও জানান, ‘যে জায়গাটি পার্কিংয়ের জন্য পেনিনসুলাকে বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা চলছে, সেখানে ইতোমধ্যে অনেকে গাড়ী রাখছেন। তবে সেটি অনানুষ্ঠানিক। আনুষ্ঠানিকভাবে ভাড়া দেওয়া হলে সেখানে যানজট সৃষ্টি হবে।’

পেনিনসুলাকে ফ্লাইওভারের নিচে জায়গা ভাড়া দিচ্ছে সিডিএসরেজমিনে দেখা যায়, ব্যাংক এশিয়া ভবনের সামনে থেকে ২৮ নম্বর পিলারটি শুরু হয়ে সেটি পেনিনসুলার পরে গিয়ে শেষ হয়েছে। এ চারটি পিলারের মাঝের খালি জায়গায় অনেকগুলো গাড়ী রাখা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিয়ম মেনে ফ্লাইওভারের নিচে খালি জায়গায় অনেকে গাড়ী রাখছেন। পুলিশ যে কোনো মুহুর্তে গাড়ীগুলো সরিয়ে দিতে পারছে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান জায়গাটি বরাদ্দ নিলে তাদের ইচ্ছেমতো সেটি ব্যবহার করবে। তখন ওই এলাকায় যানজট সৃষ্টি হবে।

সিডিএ বলছে, ফ্লাইওভারটি রক্ষণাবেক্ষণে প্রতি মাসে ১২ লাখ টাকা খরচ হয়। এ খরচ মেটাতে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের নিচে সড়ক বিভাজকের ওপর দোকান নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে সেটি আইনি জটিলতায় থেমে যায়।

তবে ফ্লাইওভারটির প্রকল্প পরিচালক সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান পার্কিংয়ের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে অবগত নন বলে জানান।

অন্যদিকে সিডিএর বোর্ড সদস্য হাসান মুরাদ বিপ্লব বাংলানিউজকে বলেন, চারটি পিলারের মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা গাড়ী রাখার জন্য পেনিনসুলাকে বরাদ্দ দিতে বোর্ড সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

‘পেনিনসুলা প্রথমে জায়গাটি বরাদ্দ নিতে আবেদন করেছে। তাই তাদেরকে সেটি ভাড়া দিচ্ছে সিডিএ। তবে দরপত্রের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হবে।’

পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের নেতা ও নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বাংলানিউজকে বলেন, ফ্লাইওভারের নিচে পার্কিংয়ের জন্য জায়গা ভাড়া দিলে যানজট তীব্র হবে। এতে নগরবাসী ভোগান্তি পোহাবে।

‘আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের কিছু জংশন ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। নিচে জায়গা বরাদ্দ দিয়ে সেখানেও ঝুঁকিপূর্ণ করার চেষ্টা চলছে।’

প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, ‘সিডিএ জায়গাগুলো ফ্লাইওভার তৈরির জন্য অধিগ্রহণ করেছে। সিটি করপোরেশনের জায়গায় ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছে সিডিএ। কাজ শেষে এ জায়গা সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে দেয়ার কথা। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের নামে তারা সেখানে বাণিজ্য করতে চাচ্ছে।’

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ট্রাফিক-উত্তর) হারুনর রশীদ হাজারী বাংলানিউজকে বলেন, ফ্লাইওভারের নিচে পার্কিংয়ের জন্য জায়গা ভাড়া দেয়ার বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। সেখানে পার্কিং করা হলে যানজট সৃষ্টি হবে। এ ধরনের উদ্যোগকে আমরা নিরুৎসাহিত করছি।

এদিকে বর্তমান সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ বাংলানিউজকে বলেন, জনগণের ভোগান্তি হয় এমন সিদ্ধান্ত নেবে না সিডিএ।

‘ফ্লাইওভারের নিচে কোনো দোকান নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। তবে পার্কিংয়ের জন্য জায়গা বরাদ্দের বিষয়টি এখনো অবগত নই। এটি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার প্রকল্প ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত। ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৫৪ ফুট প্রস্থের ফ্লাইওভারটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৬৯৬ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ শুরু হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৩২৫ ঘণ্টা, মে ০৫, ২০১৯
এসইউ/এসি/টিসি

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-05-05 13:34:41