ঢাকা, শনিবার, ৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ আগস্ট ২০১৯
bangla news

সিডিএতে অতীতে ‘অনিয়ম’ হলে ব্যবস্থা: দোভাষ

সিফায়াত উল্লাহ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৪-২০ ১০:৫৭:২৪ পিএম
এম জহিরুল আলম দোভাষ: ছবি উজ্জ্বল ধর

এম জহিরুল আলম দোভাষ: ছবি উজ্জ্বল ধর

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান পদে সদ্য নিয়োগ পাওয়া এম জহিরুল আলম দোভাষ বলেছেন, সিডিএতে অতীতে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শনিবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজ বাসভবনে বাংলানিউজের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এম জহিরুল আলম দোভাষ এর আগে সংস্থাটির বোর্ড সদস্য ছিলেন। সিডিএর ইতিহাসে রাজনৈতিক বিবেচনায় চেয়ারম্যান হওয়া দ্বিতীয় ব্যক্তি তিনি।

দোভাষ সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ২৪ তম চেয়ারম্যান হিসেবে ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব নেবেন। এর আগে টানা চারবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করা জহিরুল আলম দোভাষের স্বজ্জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ত্ব হিসেবে পরিচিতি রয়েছে।

জলাবদ্ধতা নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, সিডিএ জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ করছে। এখানে চসিকের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন। তাই এখন থেকে দুই সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করে কাজ হবে।

‘জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেগা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। আর সে কাজ হচ্ছে জনগণের টাকায়। সুতরাং জনগণকে এর সুফল ভোগ করার সুযোগ দিতে হবে। অন্যথায় সব চেষ্টা বৃথা।’

সমন্বয় করে কাজ করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনসহ সকল সেবাদানকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করবে সিডিএ।

আবাসন সংকট নিরসনে সিডিএর প্রধান কাজ। কিন্তু গত ১০ বছরে এ জনপদের মানুষের আবাসন সংকট নিরসনে সংস্থাটি তেমন ‍অবদান রাখতে পারেনি।

এমন প্রশ্নের জবাবে জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, বিষয়টি আমার নলেজে আছে। দায়িত্ব নেয়ার পর এটি নিয়ে বসব।

এম জহিরুল আলম দোভাষ: ছবি উজ্জ্বল ধরযানজট নিরসনে নগরে একাধিক ফ্লাইওভার তৈরি করেছে সিডিএ। তবে জনবলের অভাবে সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণে হিমশিম খাচ্ছে সংস্থাটি। নিয়ম অনুযায়ী এসব ফ্লাইওভার চসিকের কাছে হস্তান্তর করার কথা থাকলেও সেটি হয়নি।

এ ব্যাপারে নতুন চেয়ারম্যান বলেন, ‘গণপূর্তের অধীন একটি সংস্থা সিডিএ। এর কাজ তৈরি কিংবা পুনঃনির্মাণ করা। আর চসিকের দায়িত্ব রক্ষণাবেক্ষণ। তবে কেন ফ্লাইওভারগুলো হস্তান্তর করা হয়নি সেটি দেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

বর্তমানে সিডিএর ১১টি প্রকল্প চলমান। আরও ৮টি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন।

দায়িত্ব নেয়ার পর নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণ করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, চলমান প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করে দেখব। মেয়াদের মধ্যে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হয় সে ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনে নতুন প্রকল্প নেয়া হবে।

‘রিং রোডগুলো তৈরি হচ্ছে। এগুলোর সঙ্গে সংযোগ সড়ক স্থাপন করলে জনগণ উপকৃত হচ্ছে কিনা, কিংবা অন্যান্য উন্নয়ন কাজগুলো মাধ্যমে কিভাবে মানুষের উপকার হবে, এসব বিষয় দেখে নতুন উদ্যোগ নেয়া হবে।’

জনবল সংকট সিডিএর প্রধান সমস্যা। নিয়ম অনুযায়ী সংস্থাটির জনবল থাকার কথা পাঁচ শতাধিক। বর্তমানে অর্ধেক জনবলে চলছে সিডিএ।

এ প্রশ্নের জবাবে জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, জনবল সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সিডিএকেও ঢেলে সাজানো হবে।

ইমারত আইন না মানার অভিযোগ রয়েছে মালিকদের বিরুদ্ধে। ফলে যানজট-জলাবদ্ধতা সমস্যা দিন দিন বাড়ছে।

এ ব্যাপারে নতুন চেয়ারম্যান বলেন, ইমারত আইন না মেনে ভবন গড়লে সামগ্রিকভাবে মালিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যেহেতু আইন আছে, না মানলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফ্লাইওভারগুলো অপরিকল্পিত গড়ে তোলা হচ্ছে এমন অভিযোগ অহরহ। তবে এসব ফ্লাইওভার চালুর পর যানজট অনেকটা কমে এসেছে।

জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক করা হবে। যাতে জনগণের কাজে আসে। কারণ তাদের টাকায় এ উন্নয়ন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় বিদায়ী চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামকে প্রকল্পের পরামর্শক রাখার জন্য প্রস্তাব দেন এক বোর্ড সদস্য।

এ ব্যাপারে নতুন চেয়ারম্যান বলেন, আইনের বাইরে কিছু করা সম্ভব নয়। আইন মেনে সবকিছু নির্ধারণ করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬১৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ২০, ২০১৯
এসইউ/টিসি

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-04-20 22:57:24