ঢাকা, শনিবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৬, ২০ এপ্রিল ২০১৯
bangla news

সম্পত্তির বিরোধে নারী নির্যাতন মামলা, ১১ বছর পর খালাস

সরওয়ার কামাল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০২-১৭ ৮:৪৭:৩৪ পিএম
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম: বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ১১ বছর পর আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন মৃদুল কান্তি বড়ুয়া (৭০) নামে আসামি। দীর্ঘ সময়ে এ মামলায় মৃদুল কান্তি বড়ুয়াকে কারাগারেও যেতে হয়েছে। দৌড়াতে হয়েছে এক আদালত থেকে আরেক আদালতে।

রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. মোতাহির আলী আদালত মৃদুল কান্তি বড়ুয়াকে বেকসুর খালাস দেন।

বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর পাবলিক প্রসিকিউটর এমএ নাসের।

অ্যাডভোকেট এমএ নাসের বলেন, ‘মৃদুল কান্তি বড়ুয়ার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।’

আদালতে খালাস পাওয়া মৃদুল কান্তি বড়ুয়া ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বড়ুয়াপাড়ার বুদ্ধ কিংকর বড়ুয়ার ছেলে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১৪ আগস্ট যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে মৃদুল কান্তি বড়ুয়ার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ (১) (২) ধারায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর আদালতে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেন হাইদচকিয়া বড়ুয়াপাড়ার বিশ্বজিৎ বড়ুয়ার স্ত্রী ইলোরা চৌধুরী। ইলোরা চৌধুরীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে ফটিকছড়ি থানায় সরাসরি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার আদেশ দেন। ১৭ আগস্ট ফটিকছড়ি থানায় মামলা রেকর্ড হয়।

এ মামলায় কারাগারে যান মৃদুল কান্তি বড়ুয়া। ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মৃদুল কান্তি বড়ুয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন ফটিকছড়ি থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমান।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর আদালতে দীর্ঘদিন বিচারকাজ চলার পর ২০১৮ সালে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর আদালতে স্থানান্তরিত হয়। রোববার আদালতের রায়ে বেকসুর খালাস পান মৃদুল কান্তি বড়ুয়া।

যৌন নিপীড়ন মামলার নেপথ্যে

বিচারক রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মৃদুল কান্তি বড়ুয়া। রায় ঘোষণার পর খালাস পেয়ে আদালত থেকে বের হয়ে মৃদুল কান্তি বড়ুয়া বাংলানিউজকে বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তার কাছে বিচার দিয়েছিলাম আমার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মিথ্যা অপবাদ দেয়ায়। আদালতের রায়ে সুবিচার পেয়েছি।’

মৃদুল কান্তি বড়ুয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘এসআই হাবিবুর রহমান মামলা তদন্তের জন্য আমার বাড়িতে কয়েকবার এসেছিলেন। তিনি আমার কাছে টাকা দাবি করেছিলেন। আমি বলেছিলাম-আমি কোনো দোষ করিনি, টাকা কেন দিব? পরে দেখি তিনি আমাকে যৌন নিপীড়ক সাজিয়ে আদালতে চার্জশিট দিয়েছেন। এ কারণে আমাকে জেল খাটতে হয়েছে।’

মৃদুল কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘ইলোরা চৌধুরীর স্বামী বিশ্বজিৎ বড়ুয়া আমার প্রতিবেশী। তিনি আমাদের এলাকার বিভিন্ন মানুষজনের কাছ থেকে জমি কিনেছেন। কিছু কিছু আবার ভুয়া দলিল বানিয়ে দখলও করেছেন। তিনি আমাদের সম্পত্তি দখল করতে চাইলে ২০০৮ সালের ৩০ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ি সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে আমরা সিআর মামলা (১৩৪/২০০৮) দায়ের করি। পরে বিশ্বজিৎ বড়ুয়া তার স্ত্রীকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলা দায়ের করেন।’

বিশ্বজিৎ বড়ুয়া হাইদচকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘পুলিশের চার্জশিটে তো মৃদুল কান্তি বড়ুয়া অভিযুক্ত হয়েছে। সম্পত্তির বিষয় টেনে এনে বাঁচতে চাইছে।’

ইলোরা চৌধুরী যৌন নিপীড়নের মামলা দায়ের করার পাঁচ মাস আগে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে ফটিকছড়ি সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মৃদুল কান্তি বড়ুয়া মামলা করেছিলেন এমন তথ্য উপস্থাপন করার পর মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন ইলোরা চৌধুরীর স্বামী বিশ্বজিৎ বড়ুয়া।

বাংলাদেশ সময়: ২০৩০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৯
এসকে/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   চট্টগ্রাম আদালত
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14