ঢাকা, শুক্রবার, ১০ আশ্বিন ১৪২৭, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬ সফর ১৪৪২

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

‘মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও বাজার নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮২৮ ঘণ্টা, জানুয়ারী ৬, ২০১৯
‘মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও বাজার নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে’ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আমীর হোসেন। ছবি: বাংলানিউজ

চট্টগ্রাম: ১ কোটি টাকা খাজনা ও জামানত এবং ৩২ লাখ টাকা বার্ষিক ভাড়ায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ৪ একর জমির ওপর গড়ে তোলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও বাজার নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন উদ্যোক্তারা।

রোববার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে নগরের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক আমীর হোসেন।

স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রকে দেশের ধারাবাহিক উন্নয়নের বিরুদ্ধে কুঠারাঘাত উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা মিথ্যা তথ্য ও ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সাংবাদিক ও জনসাধারণকে ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সমিতির কেউ সরকারি জায়গা দখল করে বা জায়গার মালিক সেজে বাজার প্রতিষ্ঠা করেনি। বন্দরের ভাড়াটিয়া হিসেবে ৩ দশমিক ৯৭৭৫ একর জায়গায় সমিতি বাজারটি প্রতিষ্ঠা করে। অতএব জায়গা দখল করে মৎস্য বাজার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নই আসে না।

‘খালের মোহনা দখলের যে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে তা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। প্রকৃত সত্য হলো-বন্দরের ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের আওতায় চাক্তাই-রাজাখালী খালের মোহনার দুই পাড়ে সিসি ব্লক দিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেরাই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে। যে কারণে খালের মোহনা আরও প্রশস্ত হয়েছে। সুতরাং খাল দখলের প্রশ্নই আসে না। ’

তিনি বলেন, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও বাজারটি ঘিরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অর্ধলাখ মানুষের জীবিকা জড়িত। পাথরঘাটা ইকবাল রোড ফিশারিঘাটে স্থান সংকুলান না হওয়া, গভীর সমুদ্র থেকে মাছ আনতে খরচ বেড়ে যাওয়া, নোংরা পরিবেশ নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের আপত্তি, যানজট-জনদুর্ভোগ, বিভিন্ন ঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ১৫ বছরের চুক্তিতে নতুন অবতরণ কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়।

আমীর হোসেন বলেন, ১৯৬০ সালে ইস্ট পাকিস্তান প্রভিনশিয়াল ফিশারম্যানস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড নামকরণ করা হয়। সমিতির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে অবস্থিত। দেশের বিভিন্ন স্থানে ৯১টি কেন্দ্রীয় ও ৫৭০টি নিবন্ধিত প্রাথমিক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি গঠনের মাধ্যমে ২ কোটি মৎস্যজীবীর ভাগ্যোন্নয়ন করেছে সমিতি।

সমিতির মাধ্যমে বরফ কল, হিমাগার, জাল বুনন কারখানা, কারিগরী কারখানা, ফেরোসিমেন্ট নৌ নির্মাণ কারখানা, মৎস্য বিপণিকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ১৯৯৯-২০০০ সালে উপকূলীয় ১৪ জেলায় মাছ ধরার সরঞ্জামসহ ৬০০ যান্ত্রিক নৌকা দেওয়া হয় সমিতির সদস্যদের।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সোনালি যান্ত্রিক মৎস্য শিল্প সমবায় সমিতির সহ-সভাপতি নূর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক বাবুল সওদাগর, জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির কোষাধ্যক্ষ নিজামুল ইসলাম, নূর হোসেন প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ১৩১০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৬, ২০১৮
এআর/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa