bangla news

হামলার অভিযোগ এনে মিথ্যা আসামি করেছিল বোয়ালখালী পুলিশ!

সরওয়ার কামাল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-১২-০৬ ৯:০২:১৩ পিএম
বোয়ালখালী থানা। ফাইল ছবি

বোয়ালখালী থানা। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম: আসামির বাড়িতে নোটিশ জারি করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে অভিযোগ এনে ১২ জনকে এজাহারনামীয় আসামি ও ৫/৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেছিলেন বোয়ালখালী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. মনিরুল ইসলাম।

ঘটনার ২০ দিনের মাথায় মামলা তদন্ত কাজ শেষ করে হামলার ঘটনার সঙ্গে এজাহারনামীয় ১২ আসামির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন একই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পীযূষ চন্দ্র সিংহ।

প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে উল্লেখ করা হলেও এজাহারনামীয় আসামিদের বাদ দিয়ে অজ্ঞাত ১০/১৫ জন ব্যক্তি পুলিশের উপর হামলার সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু বাদী এএসআই মো. মনিরুল ইসলাম এজাহারনামীয় ১২ আসামিকে পুলিশের উপর হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে এএসআই মো. মনিরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, পুলিশের উপর হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল বলেই তাদের ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছিলাম।

কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা পীযূষ চন্দ্র সিংহ বাংলানিউজের কাছে দাবি করেন এজাহারনামীয় ১২ আসামির ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

আরও খবর>>
** বোয়ালখালী থানার দুই পুলিশসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

গত ১৬ নভেম্বর এ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ফরোয়ার্ডিং নেন তদন্ত কর্মকর্তা পীযূষ চন্দ্র সিংহ। পরে ২৬ নভেম্বর আদালতে উপস্থাপনের জন্য সেই প্রতিবেদন জেলা পুলিশের কোর্ট পরিদর্শকের কাছে উপস্থাপন করেন। ৩ ডিসেম্বর এ প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

মামলা দায়েরের ১৬ দিনের মাথায় তড়িঘড়ি করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়ে পীযূষ চন্দ্র সিংহের কাছে জানতে চাইলে এটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি।

জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর দুপুরে বোয়ালখালীর ঘোষখীল আব্দুল মুনাফের বাড়িতে যান বোয়ালখালী থানার এসআই মো. দেলোয়ার হোসেন, এএসআই মনিরুল ইসলাম ও পুলিশের কথিত সোর্স মো. রাসেল। এ সময় ছকিনা বেগমের ছেলে নুরুল আমিনকে খুঁজতে থাকেন তারা। তখন ছকিনা বেগম বলেন, নুরুল আমিন শহরে চাকুরিতে গেছে। তখন তারা ছকিনা বেগমকে একটা কাগজে টিপসই দিতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে অকথ্য ভাষায় গালাগালির পাশাপাশি মাথার চুল ধরে মুখে থাপ্পড় মারতে থাকেন এসআই দেলোয়ার হোসেন। তখন এগিয়ে আসেন ছকিনা বেগমের ছেলে পটিয়া আদালতের নৈশপ্রহরী নুরুল হাছান। তখন মা-ছেলে দুইজনকেই মারতে থাকেন পুলিশ সদস্যরা। এতে ছকিনা বেগমের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছিঁড়ে যায়। একপর্যায়ে হাছানকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায় তারা। পরে রাতে থানায় আটকে রেখে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ করেছিল ছকিনা বেগমের পরিবার।

৩১ অক্টোবর নুরুল হাছান, তার মা ছকিনা বেগমসহ ১২ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে বোয়ালখালী থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন এএসআই মনিরুল ইসলাম।

নুরুল হাছান, তার মা ছকিনা বেগমদের হামলায় এএসআই মনিরুল ইসলাম ও এসআই দেলোয়ার হোসেন আহত হয়েছিলেন। তারা বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডা. তাপস কান্তি মজুমদারের কাছে চিকিৎসাও নিয়েছিলেন। এ সংক্রান্ত ব্যবস্থাপত্র বাংলানিউজের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

এদিকে থানায় আটক করে নির্যাতনের অভিযোগে ১ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে দুই পুলিশ সদস্য এএসআই মনিরুল ইসলাম ও এসআই দেলোয়ার হোসেনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন ছকিনা বেগম। পরে পুলিশের সঙ্গে ‘সমঝোতা’র পর সেই মামলা প্রত্যাহার করা হয় বলে জানা গেছে।

সেই ‘সমঝোতা’ শর্ত হিসেবে ছিল- পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন থেকে নুরুল হাছান, তার মা ছকিনা বেগমসহ ১২ জন এজাহারনামীয় আসামিকে বাদ দেওয়া।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, আসামিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় নি তাই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে নোটিশ জারি করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে উল্লেখ করা হলেও ওসি মো. সাইরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বাংলানিউজের কাছে দাবি করেন ‘দুই পক্ষের মারামারি ঠেকাতে গিয়ে’ পুলিশ সদস্যরা আহত হয়েছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ২০৩৩ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮
এসকে/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   চট্টগ্রাম পুলিশ
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2018-12-06 21:02:13