[x]
[x]
ঢাকা, শনিবার, ৫ কার্তিক ১৪২৫, ২০ অক্টোবর ২০১৮
bangla news

‘তিতলি’র প্রভাবে চট্টগ্রামে ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-১০-১২ ১০:৩১:০৮ এএম
‘তিতলি’র প্রভাবে বৃষ্টিপাতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ছবি: সোহেল সরওয়ার

‘তিতলি’র প্রভাবে বৃষ্টিপাতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ছবি: সোহেল সরওয়ার

চট্টগ্রাম: ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র প্রভাবে চট্টগ্রামে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস শুক্রবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। সকাল নয়টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ছিল ৪৫ দশমিক ২ মিলিমিটার। 

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মেঘনাদ তঞ্চঙ্গ্যা বাংলানিউজকে জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র প্রভাবে বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) বিকেল তিনটা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি) থেকে অতিভারী (৮৯ মি.মি’র বেশি) বর্ষণ হতে পারে এমন সতর্কবাণী ছিল। সকাল নয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয় ৬৪ মিলিমিটার।‘তিতলি’র প্রভাবে বৃষ্টিপাতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ছবি: সোহেল সরওয়ার

বৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে নগরীর নিচু এলাকায় জলজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এবং কর্মস্থলগামী মানুষের দুর্ভোগ নেই বললেই চলে। দুর্ভোগে পড়েছেন মজুর, শ্রমিক আর নিম্নআয়ের মানুষ।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ভারতের উড়িষ্যা এবং তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় তিতলি সামান্য উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে একই এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ অক্টোবর) ভোর ছয়টায় উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় এটি অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমশ দুর্বল হতে পারে।

‘তিতলি’র প্রভাবে বৃষ্টিপাতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ছবি: সোহেল সরওয়ার

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে। একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

বন্দর ও নৌ-বাণিজ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে সার, গম, চাল, চিনি, ক্লিংকার ইত্যাদি খোলাপণ্য ছোট জাহাজে খালাস বন্ধ রয়েছে। তবে বন্দরের মূল জেটিতে কনটেইনার লোড-আনলোড অব্যাহত রয়েছে। ইলিশ আহরণ বন্ধের কারণে বেশিরভাগ মাছ ধরার ট্রলারও উপকূলীয় এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। লালখান বাজার এলাকায় বেলা ১১টা থেকে অভিযানে নেতৃত্ব দেবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান। 

বাংলাদেশ সময়: ১০৩০ ঘণ্টা, আপডেট ১৩০০ ঘণ্টা, অক্টোবর ১২, ২০১৮
এআর/এসি/টিসি

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db