[x]
[x]
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ কার্তিক ১৪২৫, ২৩ অক্টোবর ২০১৮
bangla news

দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের অর্ধেক জমি অধিগ্রহণ

আল রাহমান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৭-২২ ১১:২১:৪৪ এএম
দোহাজারী স্টেশন থেকে সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মিত হবে কক্সবাজার পর্যন্ত

দোহাজারী স্টেশন থেকে সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মিত হবে কক্সবাজার পর্যন্ত

চট্টগ্রাম: দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণের জন্য চাহিদার অর্ধেক জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১ হাজার ৩৬৪ একর জমির মধ্যে এ পর্যন্ত অধিগ্রহণ করা হয়েছে ৬৭৪ একর জমি।

এ পর্যন্ত চন্দনাইশে ১০ দশমিক ১৭২৫ একর, সাতকানিয়ায় ১৭৬ দশমিক ৩৫১৫ একর, কক্সবাজার সদরের ২১০ দশমিক ৪২৬০ একর ও ২৭৮ দশমিক ৪৯০৮ একর জমির দখল বাংলাদেশ রেলওয়েকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার ঘুরে এসে বাংলানিউজকে এসব তথ্য জানান দোহাজারী-কক্সবাজার রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন প্রজেক্টের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক মুহম্মদ আবুল কালাম চৌধুরী।

তিনি বলেন, দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ দশমিক ৮৩১ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে অধিগ্রহণের কাজটি সম্পন্ন করছে। এটি অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং কাজ। কক্সবাজারে ১০০২ একর ও চট্টগ্রামে ৩৬২ একর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বছরখানেক আগে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনকে দেড় হাজার কোটি টাকা, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনকে ৭৫৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান থাকায় জেলা প্রশাসনের জনবল বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কক্সবাজারে ৬ জন এডিসি, ৫০ জন সার্ভেয়ার, ১২ জন কানুনগো ও ৬ জন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএও) কাজ করছেন। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৩ হাজার একর ভূমি অধিগ্রহণ করতে হচ্ছে জেলা প্রশাসনকে।   

প্রকল্প কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে দোহাজারী থেকে ১০০ দশমিক ৮৩১ কিলোমিটার সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ শেষে দ্বিতীয় পর্যায়ে রামু থেকে মিয়ানমারের কাছের গুনদুম পর্যন্ত ২৮ দশমিক ৭৫২ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হবে। ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে করিডোরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে গৃহীত এ প্রকল্প পর্যটন শহর কক্সবাজারকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসবে। এর ফলে পর্যটক ও স্থানীয় জনসাধারণের জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন নিশ্চিত হবে তেমনি সহজে মাছ, লবণ, রাবারের কাঁচামাল, বনজ ও কৃষিপণ্য পরিবহন করা যাবে। একই সঙ্গে পুরো দেশ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব-পূর্ব এশিয়ার স্বর্ণদুয়ারে রূপান্তরিত হবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ সহজতর হবে।  

মুহম্মদ আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, প্রথম পর্যায়ে ১০০ দশমিক ৮৩১ কিলোমিটার মেইন লাইন ছাড়াও লুপ ও সাইডিং থাকবে ৩৯ দশমিক ২০৫ কিলোমিটার। ৩৯টি মেজর ব্রিজ, ১৪৫টি মাইনর ব্রিজ-কালভার্ট, বিভিন্ন শ্রেণির ৯৬টি লেবেল ক্রসিং, ১টি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে। দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, হারবাং, চকরিয়া, ডুলাহাজারা, ইসলামাবাদ, রামু ও কক্সবাজারে  নয়টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চুনতি অভয়ারণ্যে হাতি পারাপারের জন্য কয়েক কিলোমিটার ঢালুর একটি ওভারপাস থাকবে রেললাইনের ওপর। হাতিকে ওই ওভারপাস দিয়ে চলাচলে অভ্যস্ত করতে সেখানে হাতির খাবার হিসেবে কলাগাছ ও বিশেষ প্রজাতির বাঁশের ঝোপ লাগানো হবে। ওভারপাসের দুই পাশে হেভি আরসিসি পিলারের বেড়া থাকবে।

তিনি বলেন, রেললাইনের জন্য সাঙ্গু, মাতামুহুরী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এবং কক্সবাজার লিংক রোডে মাটি ভরাটের কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন হলে আশাকরি, আগামী অক্টোবরে পুরোদমে প্রকল্পের কাজ শুরু করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না-তমা জেভি এবং চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি-ম্যাক্স জেভি।         

বাংলাদেশ সময়: ২১১২ ঘণ্টা, জুলাই ২২, ২০১৮
এআর/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   রেলপথ মন্ত্রণালয়
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache