ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ আষাঢ় ১৪২৬, ২০ জুন ২০১৯
bangla news

দলের জন্য ‘স্বাধীনভাবে’ কাজ করতে চান নাছির

সুবল বড়ুয়া, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৬-২৭ ১২:১৫:৪৫ পিএম
সভায় বক্তব্য রাখেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।  ছবি: উজ্জ্বল ধর

সভায় বক্তব্য রাখেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। ছবি: উজ্জ্বল ধর

চট্টগ্রাম: দলের (আওয়ামী লীগ) জন্য স্বাধীনভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। পাশাপাশি দলের জন্য তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করারও ঘোষণা দেন।

বুধবার (২৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে নগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

মহানগর আওয়ামী লীগে বিভক্তি সৃষ্টি করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘এরা কারা? সে কে? তার বিগত দিনের পরিচয় কি? কি করেছিলো ২০১৩ সালে? ওয়ান ইলেভেনের সরকারের সময় সে কি করেছিলো? আমরা সবি জানি। কিন্তু আজকে আমরা কোন কিছু চাই না। আমরা চাই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে। সংগঠন থাকলে আমরা থাকবো। আমি বার বার বলেছি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যেইভাবে নির্দেশনা দিবে, সেইভাবেই আপনাদের নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। ব্যক্তি আ জ ম নাছিরের কোন পছন্দও নেই, অপছন্দও নেই।’  

‘কিন্তু বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিবাদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা চাই সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করতে। ইউনিট পর্যায়ে আমাদের নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে আরও নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে।’ যোগ করেন নাছির।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ত্যাগ স্বীকার করছি, সংগঠন করলে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। যারা বিভেদ সৃষ্টি করছে, কোন লাভ হবে না। দুঃসময়ে আপনি থাকবেন না। দুঃসময়ে আমাদেরকেই দায়-দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। আমরা জীবন দিবো, আপনি জীবন দিবেন না। আপনি ভোগ করতে এসেছেন, ত্যাগ করতে আসেননি। আমরা ত্যাগ করেছি। এখনো করছি, ভবিষ্যতেও করবো। প্রধানমন্ত্রীর জন্য হেসে হেসে জীবন উৎসর্গ করবো। এ মুহূর্তে যদি প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশনের পদ ছাড়েন, আমি ছাড়তে দ্বিধা করবো না। এ মুহূর্তে যারা উপস্থিত রয়েছেন তারা যদি বলে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছাড়তে, আমি এক্ষুনি পদত্যাগ করবো। আমি কিন্তু যাদেরকে দায়িত্ব দেবেন তাদের পেছনে আমি লাগবো না। আমি সকল লোককে ভালবাসি। আমরা জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে ধারণ করি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন্য আজকে আশীর্বাদ। প্রধানমন্ত্রীকে আামদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে, টিকিয়ে রাখতে হবে। আমাদের সরকার গঠন করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ আমাদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’ 

‘আসুন আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে নির্দেশনা প্রদান করবেন, দলকে সেইভাবে শক্তিশালী করবো। ঐক্যবদ্ধ ও গতিশীল করতে হবে। আমরা সেইভাবে করবো।’ যোগ করেন নাছির।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশনায় আমরা গত ২১ জুন নগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভা করেছি। সভায় সংগঠনকে এগিয়ে নিতে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নির্ধারিত এজেন্ডা দিয়ে আমরা সভা ডেকেছি। আমরা সভার কাছে নোটিশ পাঠিয়েছি। ওই সভায় সর্ব্বোচ্চ উপস্থিতি ছিলো। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এক ওয়ার্ডে কখনো ২টি কমিটি থাকতে পারে না। যেটি আমাদের জন্যও লজ্জ্বার।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘এবছরের শেষ দিকে আমাদের জাতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দেবেন। কিন্তু বিজয় করতে হবে তো আমাদের। বিজয় করতে না পারলে এর দায়ভার তো আমাদের কাঁধে নিতে হবে। তাহলে সংগঠনকে অবশ্যই শক্তিশালী, গতিশীল ও ঐক্যবদ্ধ করা জরুরি।’  

‘আমাদের প্রয়াত নেতা শ্রদ্ধাভাজন, সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরীর ওপর অর্পন করেছেন। ওনাকে নিয়ে সবার সাথে আলাপ-আলোচনা করেছি।’ যোগ করেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। 

তিনি আরও বলেন, ‘এরপর থেকে কার্যকরী কমিটির সভা, একাধিক বর্ধিত সভা করেছি। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে ৪১ ওয়ার্ডে নগর আওয়ামী লীগে ১০ ভাগে বিভক্ত করে নিবিড়ভাবে সদস্য সংগ্রহ, নবায়ন মনিটরিং কার্যক্রম করছি। যেখানে প্রত্যেক ওয়ার্ডের সভাপতি, সম্পাদককে রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে দলের মধ্যে একটি নতুন রক্ত সঞ্চালন হয়েছে, উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আমাদের দলের মধ্যে কিছু ভুল বুঝাবুঝি ছিলো, তা সব দূর করছি।’ 

‘নগরের সাতটি ওয়ার্ডে সমস্যা। পাশাপাশি চারটি ওয়ার্ডে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। আরও কয়েকটি ওয়ার্ড আছে যেখানে সভাপতি, সম্পাদকের মধ্যে বিশাল একটা দূরত্ব আছে। আমরা যখন ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড করতে যাই, এসব সমস্যাগুলো উঠে আসে। এসব বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সংগঠনের গঠনতন্ত্রের বাইরে তো কিছু হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ইতিমধ্যে ৩ বছর পার হয়েছে। আমি যেকোন মুহূর্তে এ পদ ছাড়তে রাজি আছি। এখন যদি বলেন এখন। আমি তো হুট করে উঠে আসিনি। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর ছাত্রলীগের রাজনীতি করে এ পর্যায়ে এসেছি। বিগত অনেক বছর রাজনীতি করে এখানে এসেছি। রাতারাতি এ পদে আসিনি। দায়িত্ব যখন আমার ওপর অর্পিত হয়েছে, যতদিন দায়িত্বে আছি, ততদিন স্বাধীনভাবে আমাকে কাজ করতে দিতে হবে।’     

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ করে বলবো, সবাইকে নিয়ে আমি কাজ করছি। বিশেষ করে আমাদের শ্রদ্ধাভাজন নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর আমি সবাইকে নিয়ে কাজ করছি। কেউ বলতে পারবে না, আর কেউ যদি বলে তা উদ্দেশ্যমূলক; সে বাংলাদেশে থেকে এখনো পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখেন তাই। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সভা, আন্দোলন সংগ্রাম করছি।’

‘আমরা যদি আরও কাজ করতে পারি, তাহলে সংগঠন আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে। সামনে জাতীয় নির্বাচন, সেটি নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই। আমি নিজেও কোন প্রার্থী নই। আপনার প্রার্থী হোন, কিন্তু মনোনয়ন নিয়ে কর্মীকে কেউ বিভক্ত করবেন না। জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন, তাকেই নির্বাচিত করবো। সেইটাই হচ্ছে আমাদের একমাত্র কাজ।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘সংগঠনের স্বার্থে আমি অনেক কিছু এড়িয়ে গেছি। একটি ওয়ার্ডে ২টি কমিটি কিভাবে থাকবে, তা হতে পারে না। কোন যুক্তিতে থাকবে। দুইটি কমিটিকে ভেঙে একটি করতে হবে। এর কারণে এসব ওয়ার্ডে আমরা সদস্য সংগ্রহ, নবায়ন করতে পারছি না, কোন সভা, কর্মকাণ্ড করতে পারছি না। এসব ওয়ার্ডে সভা করলে দুইজনকে সভাপতি সম্বোধন করতো পারবো? এসব ওয়ার্ডে ভুল বুঝাবুঝি হচ্ছে। আমরা যেহেতু দায়িত্ব আছি, এসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে আমাদেরই। এইটাই হচ্ছে বাস্তবতা। 

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

বাংলাদেশ সময়: ২২১২ ঘণ্টা, জুন ২৬, ২০১৮
এসবি/টিসি

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2018-06-27 12:15:45