[x]
[x]
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ কার্তিক ১৪২৫, ২৩ অক্টোবর ২০১৮
bangla news

শেষ মুহূর্তে বাড়ি ফেরা, ঠাঁই নেই ট্রেনে

সুবল বড়ুয়া, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৬-১৪ ১১:২৬:৪৫ এএম
নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে ট্রেনে উপচেপড়া ভিড়। ছবি: উজ্জ্বল ধর

নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে ট্রেনে উপচেপড়া ভিড়। ছবি: উজ্জ্বল ধর

চট্টগ্রাম: পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে সর্বস্তরের মানুষ। সড়ক পথে যানজটের বিষয়টি মাথায় রেখে বেশির ভাগ যাত্রী ট্রেনের দিকেই ঝুঁকছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে করেও অনেকে বাড়ি ফিরছেন। 

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে শনিবার (১৬ জুন) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) দুপুর থেকে শেষ মুহূর্তে বাড়ি ফিরতে নগরের চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে ভিড় করছে হাজারো যাত্রী।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মেয়েকে ট্রেনের ছাদে তুলছেন তার বাবা। ছবি: উজ্জ্বল ধর।

বৃহস্পতিবারের ১২টি ট্রেনের ৯ হাজার ৫২২টি অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়েছিলো ৫ জুন। যারা টিকিট পেয়েছেন তারা মোটামুটি সিটে বসে যেতে পারলেও অন্যরা বাড়ি ফিরতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি ফিরতে উদগ্রিব।

চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে কথা হয় চাঁদপুরগামী মাহুফুজুল নামে এক ব্যক্তির সাথে।

তিনি বাংলানিউজকে জানান, বৃহস্পতিবার ছিলো সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস। অফিস শেষ করে পরিবার পরিজন নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। আগামীকাল (শুক্রবার) বাড়িতে জুমার নামাজ পড়তে চাই। অগ্রিম টিকিট পাইনি। তাই ভাবছি যেকোনভাবে ট্রেনে চড়েই বাড়ি যাবো। গ্রামের আত্মীয়স্বজনদের সাথে নিয়েই ঈদ উদযাপন করবো।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে উঠছেন যাত্রীরা। ছবি: উজ্জ্বল ধররেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, যারা অগ্রিম টিকিট পেয়েছিলো তারা নির্ধারিত আসনে বসে ট্রেন ছাড়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। আর যাদের কাছে টিকিট নেই, তাদের কেউ কেউ ট্রেনের ভেতর উঠে পড়লেও অন্য প্রায় সকলেই ট্রেনের ছাদে উঠতে দেখা গেছে। এদের মধ্যে শিশু, নারী, যুবক ও বৃদ্ধ শ্রেণির লোকজন রয়েছেন। প্রতিটি ট্রেনে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঈদের খুশিতে প্রান্তবন্ত হয়েই তারা বাড়ি ফিরছেন। তাই জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি তাদের কোন খেয়াল নেই। তাদের এখন একটাই প্রত্যাশা ঈদের আগেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা।

বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত সাইফুল নামে এক ব্যক্তি জানান, ‘ঈদ মানেই আনন্দ। আব্বু-আম্মু গ্রামের বাড়িতে থাকেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা চট্টগ্রামে থাকি। সবাইকে নিয়ে একসাথে বাড়িতে তেমন যাওয়া হয় না। বাড়ি যাচ্ছি আব্বু-আম্মুসহ আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে ঈদ করবো। অগ্রিম টিকিট পেয়েছিলাম দুইটা। কিন্তু আমরা চার জন। যেকোনভাবে তো বাড়ি যেতে হবে। তাই একটু ঝুঁকি হলেও বাড়ি ফিরছি।’    

স্টেশন ম্যানেজার মো. আবুল কালাম আজাদ বাংলানিউজকে জানান, ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফিরতে রেল স্টেশনে উপচেপড়া ভিড়। যাত্রীরা নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে উদগ্রিব। গত ৫ জুন আজকের (বৃহস্পতিবার) জন্য নিয়মিত দশটি ট্রেনে ১৬টি এক্সট্রা বগি যুক্ত করেই ট্রেনের অগ্রিম টিকিট ছাড়া হয়েছিলো। এসময় ২টি স্পেশালসহ মোট ১২টি ট্রেনের ৯ হাজার ৫২২টি টিকিট বিক্রি করা হয়েছি্লো। ট্রেনে যাত্রীদের সেবা ও সকল ধরনের সহযোগিতা করতে আমাদের রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে।  

এদিকে, ট্রেনের পাশাপাশি নগরের বাস টার্মিনালগুলোতেও যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় চোখে পড়ার মতো। শেষ মুহূর্তে বাড়ি ফিরতে সবাই বাস কাউন্টার ভিড় করছে। যদিও বাসগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাউন্টার ত্যাগ করতে পারছে না। দক্ষিণ ও উত্তর চট্টগ্রামগামী যাত্রীরাও নগরের বহদ্দারহাট, অক্সিজেন মোড়, শাহ আমানত ব্রিজ এলাকা থেকে নির্ধারিত বাসে চড়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ সময়: ২১২০ ঘণ্টা, জুন ১৪, ২০১৮

এসবি/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   ঈদ
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache