bangla news

সীমান্তের দিকে যাবে না চামড়াবাহী ‍গাড়ি, কঠোর পুলিশ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৮-৩১ ১০:১০:১৮ এএম
চামড়া

চামড়া

চট্টগ্রাম: কোরবানির পশুর ‍চামড়া পাচার প্রতিরোধ এবার ঈদুল আজহায় আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সবেচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কোরবানির পর পশুর চামড়া যাতে চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকার দিকে যেতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি পুলিশ সদর দফতর থেকে পাচার প্রতিরোধে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা পাবার পর নগরী এবং জেলা পুলিশের ঈদুল আজহার নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ সভায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আালোচিত হয়েছে।

সাধারণত ঈদুল আজহার সময় পশুর চামড়া ছিনতাইয়ের আশংকা থাকে প্রশাসনের মধ্যে। কিন্তু এবার ছিনতাইয়ের চেয়েও পাচারকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ।

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) নূরে আলম মিনা বাংলানিউজকে বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, চট্টগ্রাম থেকে কোনভাবে পশুর ‍চামড়াবাহী গাড়ি আমরা তিন পার্বত্য জেলা এবং কক্সবাজারের দিকে যেতে দেব না। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সঙ্গে ভারতের সীমান্ত আছে। ফটিকছড়ির দিকেও যাতে কোন চামড়াবাহী গাড়ি যেতে না পারে, সেটা আমরা দেখবো। এই ব্যাপারে যত থানা আছে তাদের কঠোর নজরদারি রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এসপি জানান, পুলিশ সদর দফতর থেকে পাচার প্রতিরোধে নির্দেশনা দেওয়ার পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের যেসব সীমান্তবর্তী জেলা আছে, সব জেলার পুলিশ সুপারকে দিকনির্দেশনা পাঠিয়েছেন ডিআইজি। পাচার ঠেকানোকে মূল বিষয় ধরেই এবার আমরা নিরাপত্তার পরিকল্পনা করেছি।

পাচারের পাশাপাশি ছিনতাইয়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন এসপি নূরে আলম মিনা।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) সালেহ মো.তানভীর বাংলানিউজকে বলেন, চামড়া পাচার এবং ছিনতাই প্রতিরোধে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। যেখানে চামড়া সংগ্রহ করা হবে সেখানে আমাদের সার্বক্ষণিক টিম থাকবে। গোয়েন্দা ইউনিটকে সতর্ক থাকার জন্য বলেছি।

র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের অধিনায়ক লে.কর্ণেল মিফতা উদ্দিন আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, নগরী এবং জেলায় আমাদের টহল টিম ‍থাকবে। চামড়া ছিনতাই কঠোরভাবে দমন করা হবে।

এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীতে বিশেষ নিরাপত্তার জন্য আটটি স্তর বিবেচনায় নিয়েছে নগর পুলিশ।

এর মধ্যে আছে ২ সেপ্টেম্বর ভোর পর্যন্ত গরুর বাজারে পুলিশ মোতায়েন রাখা। নগরীর প্রত্যেক ঈদ জামাতে পুলিশ মোতায়েন। ঈদের জামাত শেষ হলে সেখানকার দায়িত্বরত সদস্যরা টহল দিয়ে সারা শহরে কোরবানি পর্যবেক্ষণ করবেন। এরপর চামড়া সংগ্রহ করে নগরীর যেসব ভ্রাম্যমাণ স্পটে জমা রাখা হয় সেখানে পুলিশ মোতায়েন রাখা। ছিনতাই প্রতিরোধে চামড়া পরিবহনে নিরাপত্তা দেয়া এবং পর্যটন স্পটগুলোতে পুলিশ মোতায়েন।

নগর পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, ঈদুল আযহার সার্বিক নিরাপত্তায় চট্টগ্রামে এবার অতিরিক্ত এক হাজার ৬৫০ জন পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রিজার্ভ পুলিশ, শিল্প পুলিশ, এপিবিএন, ট্যুরিস্ট পুলিশ আছে। থানা ও ফাঁড়ির সদস্য মিলিয়ে আছে আরও দুই হাজার।  

জেলা পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, বিভিন্ন উপজেলায় ২৫০০ পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। ঈদের নামাজ এবং কোরবানির পর প্রত্যেক উপজেলায় মূলক সড়ক এবং মহাসড়ক থাকলে সেখানে অবস্থান নেবে পুলিশ। অন্য জেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী উপজেলায় অন্যান্য উপজেলার চেয়ে বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।  

এসপি নূরে আলম মিনা বাংলানিউজকে বলেন, ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পরদিন পর্যন্ত ট্যুরিস্ট স্পটগুলোতে পুলিশ থাকবে। সেখানে যাতে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে এসে বেড়াতে পারেন, কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির যাতে সৃষ্টি না হয় সেটা আমরা দেখবো।

বাংলাদেশ সময়: ২০০০ ঘণ্টা, আগস্ট ৩১, ২০১৭

আরডিজি/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   কোরবানির চামড়া
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2017-08-31 10:10:18