রাঙামাটির লুসাই পাহাড় থেকে সৃষ্টি হয়ে নগরীর পতেঙ্গা এলাকার সাগরের মোহনায় মিলিত হয়েছে কর্ণফুলী। এই কর্ণফুলী নদীকে ঘিরেই তৈরি নানান গীতিকথার গান ও ঐতিহ্যবাহী সাম্পান।
আর কর্ণফুলীর এ সাম্পানযোগে প্রতিদিন পারাপার করছে লক্ষাধিক মানুষ।
মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ৭টা নগরীর ব্রিজঘাটে (কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়) চোখে পড়ে সাম্পানে যাত্রী পারাপারের এমন চিত্র। প্রতিদিনের ন্যায় কর্ণফুলীর এপাড় থেকে ওপাড়ে যাচ্ছে মানুষ। পারাপারের সময় কথা হয় ৩৫ বছর বয়সী ফিরোজ আহমেদের সঙ্গে। তার বাড়ি পটিয়ার মৌলভীবাজার (এস আলম ফ্যাক্টরির পাশে) এলাকায়।
তিনি বলেন, প্রতিদিন সাম্পানযোগে কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড় (ব্রিজঘাট) থেকে অভয়মিত্র ঘাট হয়ে কর্মস্থলে যাই। শুধু আমি নই, আমার বাবা-মা, তিন ভাই বোনসহ পরিবারের সবাই সাম্পানযোগে শহরে যাতায়াত করি। জন্মের পর থেকেই আমি সাম্পানযোগে শহরে যাওয়া-আসা করি। এ অঞ্চলের প্রায় সকলেই এভাবেই যাতায়াত করে।
জনপ্রতি ১০ টাকা ভাড়ায় কর্ণফুলী পারাপারের কথা জানিয়ে ছগির মাঝি বাংলানিউজকে বলেন, বাবার সঙ্গে থেকে গত ৪০ বছর ধরে সাম্পান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড় থেকে অভয়মিত্র ঘাটে ১০ টাকা ভাড়ায় যাত্রী পারাপার করি। আগে সাম্পানের সংখ্যা কম ছিল, যাত্রী বেশি ছিল। তবে এখন তার বিপরীত। দৈনিক ১০/১২ বার পারাপারের সুযোগ হয়। বর্তমানে প্রায় আড়াইশ ইঞ্জিনচালিত সাম্পান এ ঘাটে যাত্রী পারাপার করে। দিনে লক্ষাধিক যাত্রী পারাপার করা হয়।
তবে জাকের মাঝি জানালেন ভিন্ন কথা। লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করলেও দিনে ১০ বার পারাপারের সুযোগ হয় বলে জানালেন তিনি।
তিনি বলেন, একবারে ১০ জন যাত্রী নেওয়া যায়। এক হাজার টাকার মত আয় হয়। ডিজেল খরচ হয় ৩০০/৪০০ টাকা। এ দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভোর ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত যাত্রী পারাপার সন্তোষজনক থাকলেও রাতে তেমন যাত্রীর দেখা মিলে না। তবে ২৪ ঘণ্টা এই ঘাটে সাম্পান পাওয়া যায়। মাঝে মধ্যে অনেকে সাম্পান রিজার্ভ করে কর্ণফুলী নদী ঘুরে বেড়ায় বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ১১২৩ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১০, ২০১৭
এসবি/আইএসএ/টিসি