মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) ভোরের চিত্র এটি। সেই চিত্রের আরও কিছু অংশ-পাশের কর্ণফুলী নদীর তীরে ভিড় করেছে নৌকা-জাহাজ।
সেখানের একটি জাহাজে থাকা জেলে আব্দুর রহিম জানান, সোমবার রাতেই ফিরেছে তাদের জাহাজ।
হামিদ নামের আরেক জেলে বলেন, একবার মাছ ধরতে গিয়ে বঙ্গপোসাগরে কাটাতে হয় ২৬ থেকে ২৮ দিনের মতো। এরপর মাছ নিয়ে ফেরেন জেলেরা। ছুরি, পোয়া, লইট্টা কিংবা ফাইস্যা প্রজাতির কিছু মাছ কাঁচা বিক্রি করা হলেও বেশিরভাগ দিয়েই তৈরি করা হয় শুটকি।
কর্ণফুলীর দক্ষিণপাড়েই বেশিরভাগ শুটকি তৈরির আড়তের অবস্থান। এসবের বেশির ভাগই আবার ব্যক্তিমালিকানাধীন।
এর মধ্যে এস আলম মাঠ নামের একটি বিশাল খোলা জায়গার পশ্চিম কোণে আছে বড় একটি শুটকি আড়ত। এই শুটকির আড়তটি স্থানীয় শেখ আহমদের।
মঙ্গলবার অবশ্য তাকে পাওয়া যায়নি। তার সহকারী হিসেবে আড়ত দেখার দায়িত্ব পালন করছিলেন তার ফুফাতো ভাই মোহাম্মদ সুমন।
মঙ্গলবারের ভোরে তার দম ফেলার ফুরসত নেই। শ্রমিকদের কাজ বুঝিয়ে দেওয়া, জাহাজ থেকে মাছ বুঝে নেওয়া-কত কাজ তার। এর মধ্যেই দশমিনিট সময় বের করে কথা বললেন বাংলানিউজের সঙ্গে।
মোহাম্মদ সুমন বলেন, ‘আমাদের আড়তে বর্ষা মৌসুম ছাড়া অন্য সব মৌসুমেই শুটকি তৈরি করা হয়। বিশেষ করে রুপচাঁদা, ছুরি, পোয়া, লইট্টা, ফাইস্যা মাছের শুটকি তৈরি করি আমরা। তবে মুরগি ও মাছের খাবার হিসেবে তৈরির জন্য শাপলা, হাঙ্গরসহ আরও বেশ কয়েকটি মাছ শুকিয়ে নেওয়া হয়। মাছ সংগ্রহের জন্য আমাদের নিজস্ব জেলে নেই। তবে যেসব জাহাজ মাছ ধরতে যায় তাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি করা থাকে। চুক্তি অনুযায়ী তারা প্রতিদিন ভোরে মাছ দিয়ে যায়। এরপর ভোর থেকেই মাছ শুকানোর কাজ শুরু হয়। ’
এসব মাছ শুকাতে কতদিন লাগে? এমন প্রশ্নে সুমন বলেন, আমরা মাছকে বাতাস ও রোদের সাহায্যে শুকাই। একেবারে শুদ্ধভাবে শুকাতে কয়েক মাস পর্যন্ত লাগে। শুটকি তৈরি হওয়ার পর আমরা সেসব চাক্তাইতে বিক্রি করি। আবার কিছু কিছু শুটকি কক্সবাজারেও যায়। এভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে আমাদের তৈরি শুটকি। ’
তাদের আড়তে শুটকি তৈরি করছিলেন ৩০ জনের অধিক তরুণ-তরুণী। তাদের হাতেই তৈরি হচ্ছে শুটকি।
শ্রমিকদের একজন রোকেয়া বেগম বললেন, ‘আমরা দৈনন্দিন হিসেবে এখানে শুটকি তৈরির কাজ করি। ভোর ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত কাজ করি। এই হিসেবে আমাদের প্রতিদিন দেড়শ থেকে দুইশ টাকা ভাতা দেওয়া হয়। ’
বাংলাদেশ সময়: ১০২৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১০, ২০১৭
টিএইচ/আইএসএ/টিসি