ঢাকা, সোমবার, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৩ আগস্ট ২০২০, ১২ জিলহজ ১৪৪১

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

জোয়ারের পানিতে বন্ধ খাতুগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৪-০৮-১২ ০৭:৪১:০০ পিএম
জোয়ারের পানিতে বন্ধ খাতুগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম: টানা দুই দিনের জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ। সোমবার ও মঙ্গলবার বাজারের শতাধিক দোকানে পানি প্রবেশ করে।



দুইদিন ব্যবসা বন্ধ থাকায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার বিষয়ে জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা।

তারা বলছেন, চাক্তাই খাল ড্রেজিং ও স্লুইচ গেইটের ব্যবস্থা করা হলে খাতুনগঞ্জে জোয়ারের পানি রোধ করা সম্ভব। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমদ বাংলানিউজকে বলেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ চাক্তাই-রাজাখালী খালসহ গুরুত্বপূর্ণ খালের মুখ ভরাট হয়ে গেছে। ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের নামে বন্দর কর্তৃপক্ষ এ খালগুলো সরু করে ফেলেছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন খালগুলো ঠিকমতো পরিষ্কার করছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, এতে পূর্ণিমার জোয়ারের পানি খাল দিয়ে প্রবাহিত হতে পারছে না। ফলে পাড় উপচে বাজারের দিকে ঢুকে পড়েছে পানি।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাক্তাই খালে স্লুইচ গেইট নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

উচ্চ পর্যায়ের মনিটরিং জোরদার ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

মঙ্গলবার সরেজমিনে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দোকানের ভেতর প্রায় হাঁটু পরিমাণ পানি। অনেকে দোকান থেকে পানি সেঁচ করছেন। কোন কোন দোকানে প্রতিটি সারির নিচের এক থেকে তিনটি পর্যন্ত বস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের চাল, ডাল, মসলা, কাঁচাপণ্যসহ (পেঁয়াজ, রসুন, আদা) এলাকার বেশির ভাগ দোকান ও গুদামে পানি ঢুকেছে। চাক্তাই মসজিদ গলি, ড্রামপট্টি, চালপট্টি ও চাক্তাই-রাজাখালী-খাতুনগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন গুদাম, ফ্যাক্টরি ও পাইকারি দোকানগুলোয় হাঁটু পানি দেখা গেছে।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, রমজান মাসে বাজারের চার থেকে পাঁচশ দোকান ও গুদামে পানি ঢুকে কাঁচা ও ভোগ্যপণ্যসহ প্রায় ৩-৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল। ফলে ব্যবসায়ীরা সতর্ক ছিল। তাই গত সোমবার ও মঙ্গলবার খাতুনগঞ্জে জোয়ারের পানি প্রবেশ করলেও ক্ষয়ক্ষতি আগের তুলনায় কম ছিল।

তবে এই দুইদিন খাতুনগঞ্জে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় বন্ধ ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, গত দুইদিন ট্রাকে লোড-আনলোড বন্ধ ছিল। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসায়ীরা এখান থেকে অন্যদিকে চলে যাবে। যা খাতুনগঞ্জের জন্য বড় ক্ষতি।

বাংলাদেশ সময়:১৯১৫ঘণ্টা, আগস্ট ১২, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa