ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৭ আগস্ট ২০২০, ১৬ জিলহজ ১৪৪১

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

ফ্লাইওভার দুর্ঘটনা মামলা

অধিকতর তদন্ত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩০০ ঘণ্টা, জুন ৩, ২০১৪
অধিকতর তদন্ত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম (ফাইল ফটো)

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর সিডিএ’র নির্মিত বহ্দ্দারহাটে ফ্লাইওভারে দুর্ঘটনার মামলার অভিযোগপত্রের উপর নারাজি দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী ও মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট মো.ফখরুদ্দিন চৌধুরী।

অভিযোগপত্রে সিডিএ কর্মকর্তাসহ প্রভাবশালীদের বাদ দেয়ার আপত্তি জানিয়ে পুনরায় এ মামলা তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন মহানগর পিপি।



মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ এস এম মুজিবুর রহমানের আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন মহানগর পিপি। আদালত আগামী ১৮ জুন এ আবেদনের উপর শুনানির সময় নির্ধারণ করেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর পিপি মো.নোমান চৌধুরী নারাজি আবেদন দাখিলের বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর নগরীর বহদ্দারহাটে সিডিএ’র নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের ১২ ও ১৩ নম্বর স্পেনের তিনটি গার্ডার ভেঙে পড়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় অর্ধশতাধিক।

এ ঘটনায় ২৬ নভেম্বর সিডিএ’র তিন কর্মকর্তা, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার এন্ড পারিশা ট্রেড সিস্টেমসের (জেভি) ১০ জন এবং বেসরকারী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএআরএম অ্যাসোসিয়েটস এন্ড ডিপিএম'র ১২ জনসহ মোট ২৫ জনকে আসামী করে নগরীর চান্দগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন এস আই আবুল কালাম আজাদ।

মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান চান্দগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল করিম। ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর তিনি চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত করে নথিপত্র মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠান সিএমএম।

এদিকে অভিযোগপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তদন্তকারী কর্মকর্তা এজাহারভুক্ত ২৫ আসামীর মধ্যে ১৮ জনকে বাদ দিয়েছেন। এদের মধ্যে সিডিএ’র তিন কর্মকর্তাও আছেন। এরা হলেন, ফাইওভারের তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএ'র নির্বাহী প্রকৌশলী এ এ এম হাবিবুর রহমান, সিডিএ'র সহকারী প্রকৌশলী তানজিব হোসেন ও উপসহকারী প্রকৌশলী সালাহ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।

মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন মীর আক্তার এন্ড পারিশা ট্রেড সিস্টেমস (জেভি) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রাজ্জাকসহ তিনজন। পরমর্শক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মতিন সহ ১২ জনকে আসামীর কারও বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তা কোন অভিযোগের প্রমাণ পাননি।  

অভিযোগপত্রে এজাহারবর্হিভূত একজনসহ মোট ৮ জনকে আসামী করা হয়। এরা হলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার এন্ড পারিশা ট্রেড সিস্টেমসের (জেভি) পক্ষে তৎকালীন প্রকল্প ব্যবস্থাপক গিয়াস উদ্দিন, সুপারভিশন ইঞ্জিনিয়ার মনজুরুল ইসলাম, সাইট ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জলিল, আমিনুর রহমান, আব্দুল হাই, মো.মোশাররফ হোসেন রিয়াজ, কোয়ালিটি কন্ট্রোল ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান আলী এবং এজাহারে নাম না থাকা রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত এজাহারভুক্ত আসামী গিয়াস উদ্দিন, মনজুরুল ইসলাম, আব্দুল জলিল, আমিনুর রহমান, আব্দুল হাই, মো.মোশাররফ হোসেন রিয়াজ, শাহজাহান আলী এবং রফিকুল ইসলাম মিলে সিডিএ কর্তৃপক্ষ এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের অনুমতি না নিয়ে এবং ওইদিনের অনুমোদিত কর্মপরিকল্পনার বাইরে গিয়ে ২৪ নভেম্বর শনিবার ছুটির দিনে সন্ধ্যার পর শ্রমিকদের দিয়ে নির্মাণ কাজ চালাচ্ছিলেন।

এতে আরও বলা হয়, ফ্লাইওভার নির্মাণ ‍অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, মানব জীবন বিপন্ন হবার সম্ভাবনা আছে জানা স্বত্ত্বেও সতর্কতা অবলম্বন না করে এবং নিরাপত্তামূলকভাবে গার্ডার নির্মাণের সময় জনসাধারণের চলাচলে কোন ব্যারিকেড না দিয়ে নির্মাণ স্থান অরক্ষিত রেখে এবং আলোর ব্যবস্থা না করে কাজ করছিলেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, তদন্তকালে সিডিএ’র তিন কর্মকর্তাসহ ১৮ আসামীর বিরুদ্ধে কোন সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তরা বিনা অনুমতিতে কাজ করায় তাদের আসামী করা হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ মামলায় অভিযোগ গঠনের কথা ছিল। কিন্তু তৎকালীন পিপি অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ এ মামলায় নারাজি দেবেন বলে জানালে আদালত অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য পিপিকে এক মাস সময় দেন। এরপর আরও এক দফা সময় বাড়ানো হয়।

১৫ এপ্রিল শুনানিতে তৎকালীন পিপি আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় যেভাবে প্রভাবশালী মন্ত্রী, সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে সাধারণ লোকজনকে আসামী করে বিচার শুরু হয়েছিল, এ মামলায়ও আবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এ মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে। মামলাটি অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন।

ওইদিন অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে কামাল উদ্দিন বলেন, এজাহারে সিডিএ কর্মকর্তা, প্রকল্প পরিচালক, মূল ঠিকাদারসহ অনেক প্রভাবশালী লোকজনকে আসামী করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগপত্রে তাদের প্রায় সবাইকে বাদ দিয়ে দৃশ্যত গুরুত্বহীন লোকজনের উপর দায় চাপানো হয়েছে। প্রকল্প সিডিএ’র, অথচ তাদের ‌অভিযোগপত্রে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। অভিযোগপত্র দাখিলের আগে আমার মতামত নেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, প্রভাবশালী আসামীদের কেন বাদ দেয়া হল ? এর পেছনে উদ্দেশ্য কি ? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হবে। এজন্য মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রয়োজন আছে।  

তৎকালীন পিপি অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার অধিকতর তদন্তের জন্য আবেদন দাখিল করেন বর্তমান পিপি ফখরুদ্দিন চৌধুরী।

উল্লেখ্য দুর্ঘটনার পর ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর তত্তাবধানে সম্পন্ন হয়। গত ৩১ ডিসেম্বর জনসাধারণের চলাচলের জন্য ফ্লাইওভার উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১২৩০ঘণ্টা, জুন ০৩,২০১৪ 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa