ঢাকা, শনিবার, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৫ আগস্ট ২০২০, ২৪ জিলহজ ১৪৪১

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

চট্টগ্রাম বন্দরে একযোগে ৩৫জনের অব্যাহতি নিয়ে চাঞ্চল্য

মো.মহিউদ্দিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০২৫ ঘণ্টা, মার্চ ৭, ২০১৪
চট্টগ্রাম বন্দরে একযোগে ৩৫জনের অব্যাহতি নিয়ে চাঞ্চল্য

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দরে চারটি প্রকল্পে কর্মরত ৩৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে অব্যাহতি পত্রে স্বাক্ষর করেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুহিবুল হক।



বেশ কয়েক বছর কাজ করার পর আকস্মিক চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছে তাদের পরিবার। অব্যাহতি দেওয়ার খবর শুনে অনেক কর্মচারী কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এদিকে হঠাৎ করে পাঁচজন কর্মকর্তা ও ৩০ কর্মচারীকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। বন্দর কর্তৃপক্ষের এমন কঠোর সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছেন বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের মতে একসঙ্গে ৩৫ জনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনা বন্দরের ইতিহাসে এটাই প্রথম।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে নিয়ম মেনেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন কয়েকজন কর্মকর্তার লোভের কারণে চাকরি হারাতে হয়েছে তাদের।

অব্যাহতি পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রকাশ্যে কোনো কথা না বললেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিযোগ করেন, পরিচালক (প্রশাসন) মুহিবুল হকের মেয়েজামাইকে পদোন্নতিকে ঘিরে  এরকম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিচালকের মেয়েজামাই সাইফুল ইসলামকে এরইমধ্যে সহকারী প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) এ পদোন্নতি দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে বন্দর প্রবিধানমালা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী বাংলানিউজকে জানান, হাইকোর্টে রিট দায়েরের পর এক আদেশে প্রকল্পভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন মাসের মধ্যে বিধি অনুসরণ করে আত্মীকরণ করার কথা বলা হয়। এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের আলোকে নিয়ম অনুসরণ করার কথাও বলা হয়।

তারা জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষ তিন মাসের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় কেন আদালত অবমাননা হবে না সেজন্য উকিল নোটিশ পাঠানো হয় বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং পরিচালকের (প্রশাসন) কাছে। এরপরই ৩৫জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি, গ্যান্ট্রি ক্রেন, পোর্ট সিস্টেম(মাস্টার ডেভেলপম্যান্ট প্রকল্প) এবং ৩৩ কেভি প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন ৩৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী। এরমধ্যে নাছির উদ্দিন ও খাদেমুল বাশার নির্বাহি প্রকৌশলী পদে চাকরিরত ছিলেন।

এ বিষয়ে পরিচালক (প্রশাসন) মুহিবুল হক বাংলানিউজকে বলেন, প্রকল্প পরিচালনায় যেসব শর্ত রয়েছে তা পূর্ণ করতে না পারায় তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের আইন কর্মকর্তা আহসান তারেকের মতামতের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার বোর্ড সভায় এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায়  চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান ও সকল বোর্ড সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

পরিচালক বলেন, বোর্ড সভায় আইন কর্মকর্তার মতামতের বিষয়টি পর্যালোচনা করে এসব প্রকল্পের ৩৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার তাদের অব্যাহতির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়।

বাংলাদেশ সময়:১১০০ঘণ্টা, মার্চ ০৭, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa