bangla news
মৃদুল চৌধুরী অপহরণ

র‌্যাব কর্মকর্তা রাকিবুল পুলিশের অনুসন্ধান কমিটির মুখোমুখি

59 |
আপডেট: ২০১৪-০৩-০৬ ১০:০৭:০০ এএম

ধনাঢ্য স্বর্ণ ব্যবসায়ী মৃদুল চৌধুরী অপহরণ হওয়ার ঘটনায় পুলিশের অনুসন্ধান কমিটির মুখোমুখি হয়েছেন র‌্যাব কর্মকর্তা মেজর রাকিবুল আমিন। তিনি অনুসন্ধান কমিটির কাছে জবানবন্দী দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম: ধনাঢ্য স্বর্ণ ব্যবসায়ী মৃদুল চৌধুরী অপহরণ হওয়ার ঘটনায় পুলিশের অনুসন্ধান কমিটির মুখোমুখি হয়েছেন র‌্যাব কর্মকর্তা মেজর রাকিবুল আমিন। তিনি অনুসন্ধান কমিটির কাছে জবানবন্দী দিয়েছেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা মেজর রাকিবুল আমিন জবানবন্দী দিয়েছেন বলে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করে বলেছেন, তিনি অনুসন্ধান কমিটির সঙ্গে কথা বলে তার বক্তব্য দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে কমিটিকে মৃদুল চৌধুরী অপহরণের প্রকৃত রহস্য কি, অপহরণ রহস্যের উন্মোচন এবং এ অপহরণের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা কি তা অনুসন্ধান করে বের করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) বনজ কুমার মজুমদারকে প্রধান করে গঠিত  তিন সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটিতে র‌্যাবের একজন প্রতিনিধি এবং চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মোহাম্মদ ইলতুৎমিশকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

অনুসন্ধান কমিটির  সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র বাংলানিউজকে বলেন, বিষয়টি আমরা যাচাই বাচাই করছি। অনুসন্ধান প্রতিবেদন কখন জমা দিচ্ছি তা এখনও ঠিক করিনি।

এদিকে এর আগে বুধবার দুপুরে  মৃদুল চৌধুরী অনুসন্ধান কমিটির প্রধান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) বনজ কুমার মজুমদারের কার্যালয়ে যান। সেখানে তিন সদস্যের কমিটির সামনে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

সূত্র জানায়, অনুসন্ধান কমিটির কাছে দেয়া বক্তব্যে মৃদুল চৌধুরী জানান, অপহরণের পর অধিকাংশ সময় তাকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে রাখা হয়েছিল। তাকে মুখোশও পরানো হয়। আর অপহরণকারীদের তিনি স্যার হিসেবে সম্বোধন করতেন। তাকে যে স্থানে রাখা হয়েছে তার একটি সম্ভাব্য বর্ণনাও দেন মৃদুল চৌধুরী। তবে অপহরণকারীদের কাউকে তিনি চিনতে পারেননি বলে জানান।
 
প্রসঙ্গত: গত ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর পুরাতন টেলিগ্রাফ রোডে নিজ বাসার সামনে থেকে র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলা করে আলোচিত ধনাঢ্য স্বর্ণ ব্যবসায়ী মৃদুল চৌধুরীকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এসময় তাদের এক আত্মীয় বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা নিজেদের র‌্যাব ও ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করে।

এদিকে গত ১৫ জানুয়ারি র‌্যাবের কর্মকর্তা মেজর রাকিবুল আমিনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ৮০ ভরি স্বর্ণ লুটের একটি মামলা দায়ের করেন মৃদুল চৌধুরী। এ ঘটনার জের ধরে র‌্যাব তাকে অপহরণ করেছে বলে সন্দেহ করেন মৃদুলের স্ত্রী ও ভাই।

এরপর গণমাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে ১৭ ফেব্রুয়ারি ভোরে মৃদুল চৌধুরীকে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার কংসনগর বাজারের পাশে ধানক্ষেতে ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়ার পর ১৯ জানুয়ারি তিনি আদালতে সাক্ষী হিসেবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

এরপর গত ১ মার্চ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মৃদুল চৌধুরীকে অপহরণের সঙ্গে র‌্যাব কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্য কোন সদস্য জড়িত আছে কিনা তা অনুসন্ধানে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৬ ঘন্টা মার্চ ০৬ ২০১৪

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2014-03-06 10:07:00