ঢাকা, সোমবার, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯, ০৮ আগস্ট ২০২২, ০৯ মহররম ১৪৪৪

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

চট্টগ্রাম বন্দরে ‘পায়রা’ আতঙ্ক!

মো.মহিউদ্দিন, স্টাফ করেসপেন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১৫৬ ঘণ্টা, মার্চ ৫, ২০১৪
চট্টগ্রাম বন্দরে ‘পায়রা’ আতঙ্ক!

চট্টগ্রাম: পর্যায়ক্রমে ১১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পটুয়াখালিতে নির্মিতব্য পায়রা বন্দরে বদলির প্রক্রিয়া শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার ১৫ জনকে ঢাকায় যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।



বন্দরের চাকুরী বিধি অমান্য করে বদলি কার্যক্রম শুরু করায় ক্ষোভের পাশাপাশি আতংক বিরাজ করছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে।

তবে চিঠিতে বদলি  কিংবা ডেপুটেশন উল্লেখ না করে ‘সংযুক্তি‘ বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংযুক্তি আদেশ দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বদলির আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতামত না নিয়েই এ পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। পায়রা বন্দরের সাথে যাদের সংযুক্ত করা হয়েছে তাদের মধ্যে এমন অনেক কর্মকর্তা  রয়েছেন যাদের চাকুরীর মেয়াদ প্রায় শেষ।

ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষের এ পদক্ষেপকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হয়রানি ও আতংক হিসেবেই দেখছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত নির্বাচনের আগে সরকার তড়িঘড়ি করে পটুয়াখালির রামনাবাদ চ্যানেলে পায়রা বন্দর নামে আরো একটি বন্দর উদ্বোধন করেন। তবে এ বন্দরের জমি অধিগ্রহনের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের তহবিল থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে এবং নতুন করে আরো প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যায়ের প্রস্তাব করা  হয়েছে। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ নামে প্রয়োজনীয় আইনও করা হয়েছে।  

তবে পায়রা বন্দর এলাকায়  যাওয়া এবং সেখানে অবস্থানের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়নি। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ওই বন্দরের সঙ্গে সংযুক্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

হঠাৎ করে এ ধরণের উদ্যোগ নেয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আতংকের  মধ্যে ফেলে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম বন্দরের সিবিএ নেতারা।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৬ সালে তৎকালীন সরকারের প্রণীত দ্যা  চিটাগাং পোর্ট অর্ডিন্যান্সে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তাদের কেবলমাত্র মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষে ডেপুটেশানে নেয়ার  বিধান  রয়েছে। সেক্ষেত্রে ডেপুটেশানে পাঠানোর আগে ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতামত নেয়ার  বিধান  রয়েছে। অর্ডিন্যান্সের ৫১ (এ) ধারায়  বিষয়টির স্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও পায়রা বন্দরে সংযুক্তিতে কারো মতামত নেয়া হচ্ছেনা। ফলে কখন কাকে পায়রা বন্দরে সংযুক্ত করা হচ্ছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক প্রশাসন মহিবুল হক বাংলানিউজকে বলেন, সংযুক্তি বলা হলেও মূলত: এটিও এক ধরণের বদলি।

মন্ত্রণালয় থেকে পায়রা বন্দর চালুর স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষ থেকে সহযোগিতার নির্দেশ রয়েছে বলে জানান তিনি।

নতুন এ সংযুক্তির নামে হয়রানি করা হচ্ছে অভিযোগ করে বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাজের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলেই পায়রা বন্দরে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। যেখানে থাকার কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে যারা যেতে চাইবেন না তাদের সংযুক্তি বাতিল নিয়ে একটি মহলের মাধ্যমে তদবির করতে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসবে বলে মনে করছেন অনেকেই। সিবিএ নেতারা বিষয়টি  নিয়ে বন্দর চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ চাইলেও গত ২০  দিনেও তাদের সাক্ষাৎ দেননি চেয়ারম্যান।

ফলে বন্দরের সর্বত্র আতংক ও হতাশা  নিয়ে কাজ করছেন কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

সিবিএ সভাপতি মমতাজ উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, নিয়ম না থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কর্মচারীদের পায়রা বন্দরে পাঠানো হচ্ছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। অনেকেই সেখানে যেতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।

সিবিএ সাধারণ সম্পাদক ওহিদুল্লাহ সরকার বাংলানিউজকে বলেন, পায়রা বন্দরে থাকার জন্য একনো কোন অবকাঠামো তৈরি করা হয়নি। এরপরও বদলি করা হচ্ছে। বদলিকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্তমানে ঢাকায় অফিস করতে হচ্ছে।

সংযুক্তির নামে বদলি সমর্থন যোগ্য নয় উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১১৫০ঘণ্টা, মার্চ ০৫, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa