ঢাকা, বুধবার, ১২ কার্তিক ১৪২৭, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

পিডিবি কর্মকর্তা খুন

সাইকেল রক্ষা হয়নি, প্রাণও বাঁচেনি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০০১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৪
সাইকেল রক্ষা হয়নি, প্রাণও বাঁচেনি

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর কোতয়ালী থানার সিআরবি এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত পিডিবি কর্মকর্তা চম্পক দেওয়ানজী (৩০) খুনের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সাদেক আলী প্রকাশ মনা (১৮) নামে এক ছিনতাইকারী খুনের দায় স্বীকার করে রোববার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।



সাদেক জবানবন্দিতে জানিয়েছে, প্রাত:ভ্রমণে বের হওয়া চম্পকের সাইকেল কেড়ে নিতে তার উপর হামলা চালায় সাদেকসহ তিন ছিনতা‌ইকারী। চম্পকও সাধ্যমত প্রতিরোধের চেষ্টা করে সেই হামলা। এক পর্যায়ে সাদেক চম্পকের বুকের বাম পাশে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। চম্পক মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা সাইকেল আর মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়।

চম্পক হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সঞ্জয় কুমার সিনহা বাংলানিউজকে বলেন, সাদেক নিজেই চম্পকের বাম বগলের নিচে ছুরিকাঘাত করেছে। এতে চম্পক ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। আদালতে সাদেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মূলত সাইকেল বাঁচাতে গিয়েই চম্পক প্রাণ দিয়েছে।

এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি নগরীর টাইগারপাস ও পলোগ্রাউণ্ডের মাঝামাঝি সিআরবি এলাকায় বড় একটি রেইনট্রি গাছের নিচ থেকে চম্পক দেওয়ানজীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনার পর গত ৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে নগরীর সিআরবি এলাকায় ছুরিকাঘাত করে এক বৃদ্ধকে গুরুতর আহত করে ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনায় ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ তিনজনকে আটক করে।

এস আই সঞ্জয় কুমার সিনহা বাংলানিউজকে বলেন, ‘তিন ছিনতাইকারীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারি পিডিবি কর্মকর্তা খুনের সঙ্গে সাদেক জড়িত থাকার কথা। এরপর আমরা শনিবার গভীর রাতে বিআরটিসি এলাকায় জামতলা বস্তিতে সাদেকের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করি। ’

চম্পক খুনের ঘটনায় জড়িত আরও দু’ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে এস আই সঞ্জয় জানান।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে সাদেক আলী প্রকাশ মনা চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নূরে আলম ভূঁইয়ার আদালতে জবানবন্দি দেন। এতে সাদেক জানায়, ঘটনার দিন ভোরে সাদেকসহ তিনজন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে জামতলা বস্তি থেকে বের হয়ে সিআরবির পাহাড়ে ওঁৎ পেতে থাকে। তিনজনের হাতেই তিনটি স্টিলের ছোরা ছিল।

ভোর সাড়ে ৬টার দিকে চম্পক দেওয়ানজী সাইকেলে চড়ে ইস্পাহানির মোড় থেকে টাইগারপাসের দিকে আসছিলেন। চম্পক টাইগারপাস মোড়ে সিএনজি স্টেশন মোড় ঘুরে সিআরবির দিকে আসামাত্র তিনজনের মধ্যে একজন গিয়ে চলন্ত সাইকেলে লাথি মারে। এতে চম্পক রাস্তায় পড়ে যান।  

এসময় ছিনতাইকারীরা সাইকেলটি ছিনিয়ে নিতে চাইলে চম্পক বাধা দেয়। চম্পক একাই লড়ে যেতে থাকে তিনজনের সাথে। এক পর্যায়ে সাদেক চম্পককে থামাতে তার বাম বগলের নিচে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। তীব্র আর্তনাদ করে এসময় চম্পক রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।

এসময় সাদেক ভয় পেয়ে দ্রুত পলোগ্রাউণ্ড দিয়ে নেমে ঘুরে জামতলায় তার বাসায় চলে যায়। অপর দু’ছিনতাইকারী সাইকেল ও মোবাইল নিয়ে পালিয়ে ‍যায়।

এস আই সঞ্জয় কুমার সিনহা বাংলানিউজকে বলেন, লাশ উদ্ধারের সময় আমরা রাস্তায় কোন রক্ত দেখতে পাইনি। চম্পকের পরণে ছিল উলের সোয়েটার, গেঞ্জি ও থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট। উলের সোয়েটার তার রক্ত শুষে নিয়েছিল।

চম্পক দেওয়ানজী রাষ্ট্রয়াত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিডিবি) সহকারী ব্যবস্থাপক (হিসাব ও প্রশাসন) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নগরীর মুরাদপুরে আপন কমিউনিটি সেন্টারের পাশে ভাড়া বাসায় সপরিবারে বসবাস করতেন তিনি।

চম্পক দেওয়ানজী বাঁশখালী উপজেলার উত্তর সাধনপুরের মাস্টার পাড়ার মৃত চপল দেওয়ানজীর ছেলে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫০ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৯,২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa