ঢাকা, শনিবার, ১ কার্তিক ১৪২৮, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

কনডেম সেলে নিজামী-বাবরসহ ফাঁসির আসামিরা

রমেন দাশগুপ্ত, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৪৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩০, ২০১৪
কনডেম সেলে নিজামী-বাবরসহ ফাঁসির আসামিরা ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম: চাঞ্চল্যকর দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলায় জামায়াতের আমির ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ফেরত নিয়ে তাদের আর আগের সেলে নিয়ে যাওয়া হয়নি।

তাদের স্থান হয়েছে সরাসরি কনডেম সেলে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ছগীর মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, প্রকাশ্য আদালতে রায় হয়েছে। রায় শুনে আমরা তাদের কারাবিধি অনুযায়ী কনডেম সেলে পাঠিয়েছি।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মুজিবুর রহমান দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলায় ১৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড দেন। একইসঙ্গে তাদের পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

একই ঘটনায় অস্ত্র আইনে দায়ের হওয়া আরেক মামলায় ওই ১৪ জনকে যাবজ্জীবন এবং আরও সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, জামায়াতের আমির ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফা’র সামরিক কমাণ্ডার পরেশ বড়ুয়া, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নূরুল আমিন, এনএসআই’র সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআই’র সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম, ডিজিএফআই’র সাবেক পরিচালক (নিরাপত্তা) অবসরপ্রাপ্ত উইং কমাণ্ডার সাহাবুদ্দিন আহমেদ, এনএসআই’র সাবেক উপ-পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর লিয়াকত হোসেন, এনএসআই’র সাবেক মাঠ কর্মকর্তা আকবর হোসেন খান, রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল)  সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহসিন উদ্দিন তালুকদার,  সিইউএফএল’র সাবেক মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কে এম এনামুল হক, চোরাচালানি হিসেবে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান, অস্ত্র খালাসের জন্য শ্রমিক সরবরাহকারী দীন মোহাম্মদ ও ট্রলার মালিক হাজী আবদুস সোবহান।

এদের মধ্যে পরেশ বড়ুয়া ও  নূরুল আমিন পলাতক আছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে চট্টগ্রাম আদালত থেকে বন্দি ১২ আসামির সাজা পরোয়ানা নিয়ে কারাগারে যান রায় ঘোষণাকারী ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো. ওমর ফুয়াদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণার পর কারাগারে প্রবেশের সময় নিজামী, বাবরসহ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির সবাই ছিলেন বিমর্ষ। অসুস্থ কে এম এনামুল হক ও সাহাবুদ্দিন আহমেদ, দীন মোহাম্মদকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত দেখেন কারা কর্মকর্তারা।

কারাগারে প্রবেশের পরই কর্মকর্তারা তাদের কনডেম সেলে যেতে হবে জানালে তাতে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি কোনো আসামি।

আসামিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী হিসেবে নিজামী, বাবর, গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে আব্দুর রহিম ও রেজ্জাকুল ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছিলেন।

তবে এ চার বন্দির বিরুদ্ধে একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলাসহ আরও মামলা বিচারাধীন থাকায় তাদের সব সময় কাশিমপুর অথবা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। শুধুমাত্র দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার কার্যক্রম থাকলে তাদের চট্টগ্রামে আনা হতো।

বাংলাদেশ সময়: ২০৪৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩০, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa