ঢাকা, শুক্রবার, ৬ মাঘ ১৪২৮, ২১ জানুয়ারি ২০২২, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

‘উলফা’ আতংক এড়িয়ে স্বচ্ছ তদন্ত

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮১১ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩০, ২০১৪
‘উলফা’ আতংক এড়িয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম: ‌চাঞ্চল্যকর দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা তদন্তের সময় ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গী সংগঠন ইউনাটেড লিবারেশন ফ্রণ্ট অব আসাম (উলফা)’র আতংকে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন এ মামলার পঞ্চম তদন্তকারী কর্মকর্তা, সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.মনিরুজ্জামান।

টানা প্রায় সাড়ে তিন বছরের তদন্তে তিনি সবসময় দৃশ্য-অদৃশ্যভাবে অনুভব করেছেন উলফা’র চাপ।

এছাড়া শীর্ষ রাজনীতিক, সামরিক-বেসামরিক আমলাদের জিজ্ঞাসাবাদ, জেরা করতেও তাকে সবসময় কৌশলী ভূমিকা নিতে হয়েছে। সন্দিহান ছিলেন, সঠিকভাবে এ মামলার তদন্তের নিষ্পত্তি করতে পারবেন কিনা।

কিন্তু বুদ্ধিমত্তার জোরে কৌশলী অবস্থানের মাধ্যমে সব প্রভাব, দৃশ্য-অদৃশ্য চাপ, আতংক এড়িয়ে মনিরুজ্জামানই শেষ পর্যন্ত উদঘাটন করতে পেরেছেন স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় অস্ত্র চালান আটকের ঘটনার নেপথের রহস্য।

অধিকতর তদন্তের পর আদালতে দাখিল করা সম্পূরক অভিযোগপত্রে সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ১১ জনকে নতুনভাবে আসামী করেন। বৃহস্পতিবার আদালতের রায়ে তাদের সবার শাস্তি হয়েছে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মনিরুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, ‘সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতার সঙ্গে তদন্ত করেছিলাম। তদন্তে স্বচ্ছতা রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলাম। এখন প্রমাণ হয়েছে তদন্ত সঠিক ছিল। ’

তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালতের রায় নিয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই। আদালত যা ভাল মনে করেছেন তা-ই দিয়েছেন। ’

উলফা নিয়ে আতংকে ছিলেন কিনা এমন প্রশ্ন ছিল মনিরুজ্জামানের কাছে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘৩৩ বছরের চাকুরি জীবনে আমাকে কখনও এ ধরনের রাষ্ট্রীয় স্পর্শকাতর মামলার তদন্ত করতে হয়নি। ঘটনার সঙ্গে যেহেতু উলফা সম্পৃক্ত স্বাভাবিকভাবেই তাদের নিয়ে একটা আশংকা ছিল। কিন্তু আমি আল্লাহর উপর ভরসা রেখেছি। তদন্ত কাজ সমাপ্ত করেছি। ’

দশ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনায় দায়ের হওয়া দু’টি মামলার রায় বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন চট্টগ্রামের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মুজিবুর রহমান।

রায়ে জামায়াতের আমির ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৪ আসামীকে চোরাচালান আইনে দায়ের হওয়া মামলায় মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লক্ষ টাকা করে জরিমানা এবং অস্ত্র আইনে দায়ের হওয়া মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সঙ্গে আরও একটি ধারায় সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, জামায়াতের আমির ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফা’র সামরিক কমাণ্ডার পরেশ বড়ুয়া, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নূরুল আমিন, এনএসআই’র সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআই’র সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম, ডিজিএফআই’র সাবেক পরিচালক (নিরাপত্তা) অবসরপ্রাপ্ত উইং কমাণ্ডার সাহাবুদ্দিন আহমেদ, এনএসআই’র সাবেক উপ-পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর লিয়াকত হোসেন, রায়ে আদালত এনএসআই’র সাবেক মাঠ কর্মকর্তা আকবর হোসেন খান, রায়ে আদালত সিইউএফএল’র সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহসিন উদ্দিন তালুকদার,  সিইউএফএল’র সাবেক মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কে এম এনামুল হক, রায়ে আদালত চোরাচালানি হিসেবে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান, অস্ত্র খালাসের জন্য শ্রমিক সরবরাহকারী দীন মোহাম্মদ ও ট্রলার মালিক হাজী আবদুস সোবহান।

এদের মধ্যে হাফিজুর রহমান, দীন মোহাম্মদ ও হাজী সোবহান বাকি সবাই মনিরুজ্জামানের দাখিল সম্পূরক অভিযোগপত্রে আসামী হিসেবে অর্ন্তভুক্ত হন।

বাংলাদেশ সময়: ১৮১১ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩০,২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa