ঢাকা, সোমবার, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৫ আগস্ট ২০২২, ১৬ মহররম ১৪৪৪

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

বিমর্ষ নিজামী, উত্তেজিত বাবর

রমেন দাশগুপ্ত, ঊর্মি মাহবুব ও আবদুল্লাহ আল মামুন | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪২৯ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩০, ২০১৪
বিমর্ষ নিজামী, উত্তেজিত বাবর ছবি : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম: দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলার রায় শুনে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতের আমির মতিউর নিজামী বিমর্ষ হয়ে পড়েন। তবে উত্তেজিত হয়ে পড়েন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।



বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বাবর চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘এ রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। আমাকে রাজনৈতিকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। ’

চট্টগ্রাম স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মুজিবুর রহমান এ রায় দেন।

বাবরের সঙ্গে অপর দুই আসামি এনএসআই’র সাবেক দুই কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দারও আদালতে উচ্চৈ:স্বরে কথা বলেন।

তবে রায় শুনে স্ত্রী-কন্যার উপস্থিতিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন এনএসআই’র সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার সাহাবুদ্দিন আহমেদ। কান্নায় ভেঙে পড়েন সিইউএফএল এর সাবেক জিএম (প্রশাসন) একেএম এনামুল হকও। রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ফ্লোরে বসে পড়েন এনামুল হক।

চোরাচালানি হাফিজুর রহমানকে স্বাভাবিক দেখা গেছে। এছাড়া হাজী আব্দুস সোবহান স্বাভাবিক থাকলেও অস্ত্র খালাসের জন্য শ্রমিক সরবরাহকারী দীন মোহাম্মদ ছিলেন বিমর্ষ।

রায় ঘোষণার পর দুপুর ১টা ৪ মিনিটে আসামিদের চট্টগ্রাম আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি কামাল উদ্দিন আহমেদ।

আদালতের দেওয়া ‘রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত’ বলে দাবি করা লুৎফুজ্জামান বাবরের আইনজীবী তারিক আহমেদ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।

রায় ঘোষণার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বিজ্ঞ আদালতের দেওয়া রায় লুৎফুজ্জামান বাবরকে জানিয়েছি। তিনি বলেছেন ‘এ রায় রাজনৈতিক। ’

বাবরের আইনজীবী বলেন, মামলায় সাক্ষ্য শুনেছি। এতে ওই মামলায় সরকারি কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় নি। তবে সম্পূর্ণ রায় পড়ে বলা যাবে কোন যুক্তিতে এ রায় দেওয়া হয়েছে।

মতিউর রহমান নিজামীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার সাদাত সাংবাদিকদের বলেন, চোরাচালান মামলায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিলো না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ রায় দেওয়া হয়েছে।

রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানান তিনি।

দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলা নিয়ে রাজনীতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক পিপি আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেন সরকার এ মামলা নিয়ে রাজনীতি করেছিল। বর্তমান সরকারও করছে।  

দশ ট্রাক অস্ত্র আটক সংক্রান্ত দু’টি মামলার মধ্যে চোরাচালান মামলায় নিজামী-বাবর- উলফা নেতা পরেশ বড়ুয়াসহ ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন বিচারক এস এম মুজিবুর রহমান। আর অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় একই আসামিদেরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারক।  

মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত অন্য ১১ জন হচ্ছেন এনএসআই’র সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআই’র সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম, ডিজিএফআই’র সাবেক পরিচালক (নিরাপত্তা) অবসরপ্রাপ্ত উইং কমাণ্ডার সাহাবুদ্দিন আহমেদ, এনএসআই’র সাবেক উপ-পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর লিয়াকত হোসেন, এনএসআই’র সাবেক মাঠ কর্মকর্তা আকবর হোসেন খান, রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহসিন উদ্দিন তালুকদার,  সিইউএফএল’র সাবেক মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কে এম এনামুল হক, সাবেক ভারপ্রাপ্ত শিল্পসচিব নুরুল আমিন, চোরাচালানি হিসেবে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান, অস্ত্র খালাসের জন্য শ্রমিক সরবরাহকারী দীন মোহাম্মদ ও হাজী আবদুস সোবহান।

বাংলাদেশ সময়: ১৪১২ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২০, ২০১৩

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa