ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৬ আগস্ট ২০২০, ১৫ জিলহজ ১৪৪১

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

হিমু হত্যা মামলা: অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪১২ ঘণ্টা, জানুয়ারী ১৬, ২০১৪
হিমু হত্যা মামলা: অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল হিমাদ্রি মজুমদার হিমু

চট্টগ্রাম: বিদেশি কুকুর লেলিয়ে দিয়ে নির্মমভাবে মেধাবী ছাত্র হিমাদ্রি মজুমদার হিমু হত্যা মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সময় আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে তিন দফা অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল।



বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষ এবং দু’জন আসামীর পক্ষে পৃথকভাবে সময়ের আবেদন করায় চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ এস এম মুজিবুর রহমান আগামী ২৭ জানুয়ারি পুনরায় অভিযোগ গঠনের শুনানির সময় নির্ধারণ করেন।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো.ওমর ফুয়াদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য সময় চেয়েছেন। দু’জন আসামীর পক্ষে তাদের আইনজীবীও সময় চেয়েছেন। এজন্য ২৭ জানুয়ারি শুনানির সময় নতুনভাবে নির্ধারণ করেছেন আদালত। ’  

এর আগে গত ১৭ ও ২৮ নভেম্বর দু’দফায় অভিযোগ গঠনের শুনানির সময় নির্ধারিত থাকলেও প্রথমবার রাষ্ট্রপক্ষে সময়ের ‍আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং পরেরবার ১৮ দলীয় জোটের হরতালের কারণে তা পিছিয়ে যায়।

এলাকায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় ২০১২ সালের ২৭ এপ্রিল নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ‘ফরহাদ ম্যানশন’ নামের ১০১ নম্বর বাড়ির চারতলায় হিমুকে হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দিয়ে নিমর্মভাবে নির্যাতন করে সেখান থেকে ফেলে দেয় অভিজাত পরিবারের কয়েকজন বখাটে যুবক।  

গুরুতর আহত হিমু ২৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ২৩ মে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান। হিমু পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ইংরেজি মাধ্যমের সামারফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের ‘এ’ লেভেলের শিক্ষার্থী ছিল।

এ ঘটনায় হিমুর মামা প্রকাশ দাশ অসিত বাদি হয়ে পাঁচলাইশ থানায় পাঁচজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। আসামীরা হলেন, ধনাঢ্য ব্যবসায়ী শাহ সেলিম টিপু, তার ছেলে জুনায়েদ আহমেদ রিয়াদ এবং রিয়াদের তিন বন্ধু শাহাদাৎ হোসাইন সাজু, মাহাবুব আলী খান ড্যানি এবং জাহিদুল ইসলাম শাওন।

মামলা দায়েরের এক মাসের মাথায় আসামী শাহাদাৎ হোসাইন সাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর শাহ সেলিম টিপু ও ছেলে রিয়াদ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠান। কিন্তু পরবর্তীতে তিনজনই জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে যান।

এদিকে ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ওই মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচজন আসামীকে অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। ১৮ অক্টোবর পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম।  

ওই আদালত থেকে বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়ে মামলাটির নথি নভেম্বরের শুরুতে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে আসে। এরপর আদালত  তিন দফা অভিযোগ গঠনের সময় নির্ধারণ করেন। কিন্তু কখনও রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদন, কখনও আসামীপক্ষের সময় প্রার্থনা আবার কখনও হরতালের কারণে পিছিয়ে গেছে শুনানি।

হিমু’র বাবা প্রবীর কুমার মজুমদার বাংলানিউজকে বলেন, ‘সন্তানকে হারিয়েছি আজ দেড় বছরেরও বেশি হচ্ছে। আমরা তার হতভাগ্য বাবা-মা শুধু ছেলে হত্যার বিচার দেখব এই আশায় বেঁচে আছি। আমরা চায় অবিলম্বে বিচার শুরু হোক। ’

বাংলাদেশ সময়: ১৪১১ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৬,২০১৪
সম্পাদনা: তপন চক্রবর্তী, ব্যুরো এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa