ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৪ আগস্ট ২০২০, ১৩ জিলহজ ১৪৪১

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

রাজনৈতিক অস্থিরতায়ও আয় বেড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে

মো.মহিউদ্দিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৪-০১-১৫ ১১:৩৩:২৩ পিএম
রাজনৈতিক অস্থিরতায়ও আয় বেড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে

চট্টগ্রাম: বছর জুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার কারণে দেশের অর্থনৈতিক খাত বিপর্যয়ে মুখে পড়লেও আয় বেড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের।

২০১২ সালের তুলনায় গত বছর বন্দরের আয় বেড়েছে ২৮ কোটি ১১ লাখ টাকা।



২০১২ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের আয় হয়েছিল ১৫শ ৬৪ লাখ ২ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ২০১৩ সালে আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৫শ ৯২ কোটি ১৩ লাখ টাকায়।

বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, বছর জুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরের আয় বেড়েছে। যা বন্দরের জন্য ইতিবাচক দিক।

তারা বলছেন, হরতাল অবরোধে পণ্য পরিবহন করতে না পারায় খালাসে কিছুটা সমস্যা হলেও বন্দরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সচল ছিল। হরতাল অবরোধের প্রভাব পড়েনি জাহাজ থেকে পণ্য উঠানো-নামানোর কাজে। ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংস পরিস্থিতির মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরের আয় বেড়েছে।

বন্দর কর্মকর্তারা মনে করছেন, দক্ষ প্রশাসন, কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বন্দরের এ সফলতা। কারো একার পক্ষে বন্দরকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ ফরহাদউদ্দিন আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি হরতাল অবরোধে  পণ্য পরিবহনে বড় ধরণের সমস্যা হয়েছিল। এরপরও চট্টগ্রাম বন্দর স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা আর সহিংস পরিস্থিতির মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরের আয় বেড়েছে। যা ইতিবাচক।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের আয় হয়েছিল ১৬শ ২৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা। বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছিল ৬২৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

২০১২ সালে বিভিন্ন খাতে চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যয় হয়েছিল ৮১৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আর ২০১৩ সালে ব্যয় হয় ৭২৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সাল জুড়ে ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা। হরতাল অবরোধে পুরো দেশ ছিল প্রায় অচল। বন্দরে পণ্য এলেও পরিবহন সংকটে কারখানায় পৌঁছতে পারেনি।

সড়ক পথে পরিবহন করতে না পেরে পণ্য এয়ারশিফটম্যান করতে হয়েছে পোশাক কারখানার মালিকদের। পণ্য খালাস নিতে না পারায় কমেছে চট্টগ্রাম কাস্টমসে রাজস্ব আদায়ের হার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১১ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা।  

৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১০ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা আদায় হয় রাজস্ব আদায়ের সবচেয়ে বড় এ প্রতিষ্ঠানে। ছয় মাসে রাজস্ব ঘাটতি থাকে ১ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা।

২০১২-২০১৩ অর্থ বছরের প্রথম ছয় মাসে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছিল তা থেকে ৬২৮ কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।  

বছর জুড়ে হরতাল, অবরোধ আর রাজনৈতিক সহিংসতায় দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

বছর জুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে হোছট খায় দেশের জাতীয় অর্থনীতি।

বাংলাদেশ সময়: ২৩৩০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৫, ২০১৪
সম্পাদনা:তপন চক্রবর্তী, ব্যুরো এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa