ঢাকা, রবিবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৬ মে ২০১৯
bangla news

চবিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শিবির নেতা নিহত, আহত ৪

123 |
আপডেট: ২০১৪-০১-১২ ৭:৫৭:৩৬ এএম
ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবিরের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবিরের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

নিহতের নাম মামুন হোসেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমনত হল ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক এবং মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। মামুন নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জ থানার রামপুর গ্রামের জনৈক রফিউল আলমের ছেলে।

একই ঘটনায় তিন শিবির কর্মীসহ গুরুতর আহত আরও চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যা পৌন ৭টার দিকে চমেক হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমন কল্যাণ সাহা জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত একজন মারা গেছেন।

চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই জহিরুল ইসলাম নিহত যুবক শিবির নেতা মামুন হোসেন বলে বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাংলানিউজের কাছে দাবি করেছেন, তাদের চার নেতাকর্মী ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ আছেন। তারা আদৌ জীবিত আছেন কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। তাদের গুম করা হয়েছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

চবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরুল হাসান বাংলানিউজকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের হামলায় আমাদের একজন নেতা শাহাদাৎ বরণ করেছেন। তিনজন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন।

রোববার দুপুর থেকে মুখোমুখি অবস্থানের পর বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে চবি ক্যাম্পাসের শাহ আমানত হলে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে সংঘর্ষের পর পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পাঁচজনকে চমেক হাসপাতালে নেয়া হয়। এরা হলেন, দু’শিবির কর্মী পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র রাহাত হোসেন ও গণিত প্রথম বর্ষের ছাত্র আমজাদ হোসেন এবং ছাত্রলীগ কর্মী ইতিহাস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এনামুল হক। এছাড়া শামসুল হক রকি নামে আরও এক শিবির কর্মীকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংঘর্ষের আগে পুলিশ শাহ আমানত হলে অভিযান চালিয়ে শিবির কর্মী সন্দেহে ১৮জনকে আটক করে।

হাটহাজারী সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার আ ফ ম নিজাম উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন,‘সিলেটে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক জালাল আহমেদের উপর হামলার জের ধরে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে শনিবার রাত থেকে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে রোববার দুপুরে দু’পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এসময় পুলিশ উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দিতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। পরে বিকালে উভয় পক্ষ আবারো সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।  

বিশ্ববিদ্যালয় সুত্র জানায়, রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় দপ্তর সম্পাদক জালাল আহমেদের উপর হামলার প্রতিবাদে মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। মিছিলটি শাহ আমানত হলে ঢুকতে চাইলে শিবির কর্মীরা হলের ভেতর থেকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং ছাত্রলীগের মিছিল লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

ছাত্রলীগের অভিযোগ, শিবির কর্মীরা হলের ভেতর থেকে ছাত্রলীগের মিছিল লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে।   

পরে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দিতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পুলিশ। বিকাল তিনটার দিকে হলে অভিযান চালিয়ে শিবির কর্মী সন্দেহে ১৮জনকে আটক করে পুলিশ।

বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে শাহ আমানত হলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মামুনুল হক বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমাদের মিছিলে শিবির সশস্ত্র অবস্থায় হামলা চালালে আমরা প্রতিরোধ করি। শিবিরের হামলায় আমাদের এক কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।’

প্রসঙ্গত বাড়িতে বেড়াতে গেলে শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর নাইরপুল এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দপ্তর সম্পাদক জালাল আহমেদের উপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ছাত্রলীগের অভিযোগ, শিবিরের সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালিয়েছে।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৮৫০ঘণ্টা, জানুয়ারী ১২, ২০১৪
সম্পাদনা: তপন চক্রবর্তী, ব্যুরো এডিটর।

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2014-01-12 07:57:36