ঢাকা, বুধবার, ৫ আষাঢ় ১৪৩১, ১৯ জুন ২০২৪, ১১ জিলহজ ১৪৪৫

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

 ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৪৬ ঘণ্টা, মে ১৯, ২০২৪
 ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো’ ...

চট্টগ্রাম: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো বলে মন্তব্য করেছেন ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত হেরু হারতান্তো সুবোলো (Heru Hartanto Subolo)।

রোববার (১৯ মে) সকালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

চেম্বার সভাপতি ওমর হাজ্জাজের সভাপতিত্বে সভায় পরিচালক একেএম আক্তার হোসেন, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), অঞ্জন শেখর দাশ, মাহফুজুল হক শাহ, মাহবুবুল হক মিয়া, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন ও আখতার উদ্দিন মাহমুদ বক্তব্য দেন। এ সময় দূতাবাসের অ্যাটাচে রব্বি ফিরলি হারখা (Robbi Firly Harkha) ও ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স সপ্তো রুদিয়ান্তো (Sapto Rudiyanto) উপস্থিত ছিলেন।

 

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু খাদ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে পিছিয়ে রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া খাদ্য সংরক্ষণ ও হালাল ফুড রপ্তানিতে বিশ্বে নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করেছে। তাই বাংলাদেশের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার সম্পাদিত অ্যাগ্রিকালচার সমঝোতা স্মারক কার্যকর করতে গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।  

তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানী খাতে ইন্দোনেশিয়ান বিনিয়োগ প্রস্তাবের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি উভয়দেশের ট্যুরিজম, ম্যানুফ্যাকচারিং, ইনফাস্ট্রাকচার, ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার এবং রিনিউএ্যাবল এনার্জি সেক্টরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার ওপর তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন।  

চট্টগ্রামের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ভৌগোলিক সুবিধা তুলে ধরে চেম্বার সভাপতি ওমর হাজ্জাজ বলেন, খাদ্য উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের মোট খাদ্য উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ বা ৩ বিলিয়ন ডলার সংরক্ষণ কিংবা প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার বিশ্বব্যাপী হালাল ফুড এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে সুনাম রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার। তাই বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার ধরা ও রপ্তানিতে ইন্দোনেশিয়ান ব্যবসায়ীদের একক বা যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি করে। যার মধ্যে পামঅয়েল, কয়লা, সিমেন্ট ক্লিংকার, পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্টসহ কৃষি পণ্য রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়ায় তৈরি পোশাক ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে। অথচ বাংলাদেশের রয়েছে বিশ্ব বিখ্যাত ফার্মাসিউটিক্যালস প্রোডাক্ট।  

তিনি প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ) চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ফার্মাসিউটিক্যালস প্রোডাক্টস রপ্তানিতে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়াকে পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে এবং ইন্দোনেশিয়ায় উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য ও প্রযুক্তি পরিচিত করার লক্ষ্যে সেদেশের উদ্যোক্তা  ও ব্যবসায়ীদের বেসরকারি খাতের সর্ববৃহৎ চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।  

উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ যাতায়াত ব্যবস্থা আরো সহজীকরণের লক্ষ্যে ইন্দোনেশিয়ায় অন অ্যারাইভাল ভিসা পুনরায় চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন।  

রাষ্ট্রদূত ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশ অন অ্যারাইভেল ভিসা চালুর লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান।    

বাংলাদেশ সময়: ২০৩১ ঘণ্টা, মে ১৯, ২০২৪ 
এআর/পিডি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।