ঢাকা, শনিবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৮ মে ২০২৪, ০৯ জিলকদ ১৪৪৫

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

চবি চারুকলায় মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি 

নিউজরুম এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪৫২ ঘণ্টা, এপ্রিল ১২, ২০২৪
চবি চারুকলায় মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি  ছবি: সোহেল সরওয়ার

চট্টগ্রাম: মূল ক্যাম্পাসে ফেরার দাবিতে আন্দোলন নেই। তবে ঈদের ছুটিতে বন্ধ থাকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নিতে যোগ দিচ্ছে সাংস্কৃতিক আন্দোলনে।

আয়োজন করেছে  ব্যতিক্রমী মঙ্গল শোভাযাত্রা। নগরীর বাদশা মিঞা সড়কের চারুকলা ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা পালাক্রমে বর্ণিল সব মুখোশ তৈরি আর রংতুলির আঁচড়ে মাটির সরাতে চিরায়িত বাঙালি ঐতিহ্য ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত।
 

 ‘এই বৈশাখে বৈশ্বিক বৈভবে’ স্লোগানে বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানাতে রোববার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হবে।

চারুকলার শিক্ষার্থীরা জানান, পহেলা বৈশাখের সকাল পর্যন্ত চলবে কর্মযজ্ঞ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রায় জীবজন্তুর প্রতিকৃতি রাখা হবে। থাকবে ইলিশের প্রতিকৃতিও। কাগজ আর বাঁশের কঞ্চি দিয়ে বানানো হচ্ছে প্রতিকৃতি। শোভাযাত্রায় আবহমান বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীকী উপস্থাপনের নানা বিষয় স্থান পাবে। অশুভ শক্তি দূর করে নতুন বছরে নতুন আবাহনে সৌন্দর্য বরণের প্রত্যয়ে হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাদশা মিয়া সড়ক ক্যাম্পাস আলপনায় ভরিয়ে তোলা হবে।

১৯৯০ সালে প্রথম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন শুরু হয়। ২০১০ সালে চারুকলা বিভাগ চারুকলা কলেজের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর চারুকলার শিক্ষার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন শুরু করে। ২০০৬ সালে চট্টগ্রাম সরকারি চারুকলা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা নববর্ষের বারতা, বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নগরীর সাধারণ মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে ছোট পরিসরে আয়োজন করেছিলেন মঙ্গল শোভাযাত্রা। পরবর্তীতে এ শোভাযাত্রা আয়োজনের ভার নেয় চবি’র চারুকলা ইনস্টিটিউট।

চবি চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক প্রণব মিত্র চৌধুরী বাংলানিউজকে জানান, ইউনেসকোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা। এই শোভাযাত্রা অশুভকে দূর করা, সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রতীক। এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে বাঙালির ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, জাতিগত সব ধরনের বৈশিষ্ট্য এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে হস্তান্তরিত হয়।

এদিকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়ে চট্টেশ্বরী মোড়-আলমাস মোড়-কাজির দেউরী মোড়-এস এস খালেদ রোড-প্রেস ক্লাব ইউটার্ন-সার্সন রোড হয়ে পুনরায় চারুকলা ইনস্টিটিউটে শেষ হবে। শোভাযাত্রা চলাকালে চট্টেশ্বরী মোড়, আলমাস মোড়, কাজির দেউড়ি মোড়, জামালখান খাস্তগীর স্কুল মোড় ও সিজিএস স্কুল মোড়ে রোড ব্লক স্থাপনের মাধ্যমে প্রয়োজন সাপেক্ষে ডাইভারশন প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন সিএমপি’র ট্রাফিক-দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন।

সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রার সম্মুখ, মধ্য ও শেষ- তিনভাগে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পহেলা বৈশাখের আয়োজন নিয়ে দৃশ্যমান কোনো ঝুঁকি নেই। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই আমাদের সতর্কতা এবং প্রস্তুতি আছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৩০ ঘণ্টা, এপ্রিল ১২, ২০২৪
এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।